মৌলভীবাজার, সিলেট

বাইক্কা বিল

শ্রীমঙ্গলের কাছে হাইল হাওরের সংরক্ষিত জলাভূমি অভয়াশ্রম — পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে দেখা যায় শাপলা, মাছ আর শীতের পাখি।

স্থানীয় খাবার

  • সাত রঙের চা

    বাইক্কা বিল

    শ্রীমঙ্গলে ফিরে স্তরে স্তরে ঢালা চা দিয়েই ভ্রমণ শেষ করুন।

  • মাছ, ভর্তা আর ভাত

    বাইক্কা বিল

    শ্রীমঙ্গলের দেশি রেস্তোরাঁয় হাওরের মাছ আর নানা রকম ভর্তা।

কোথায় খাবেন

  • শ্রীমঙ্গল শহর

    শ্রীমঙ্গল

    বিলে খাবারের ব্যবস্থা প্রায় নেই; আগে বা পরে শহরে খেয়ে নিন।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

কোথায় থাকবেন

  • শ্রীমঙ্গল

    মৌলভীবাজার

    শহরের হোটেল বা চা-বাগানের কটেজ, সবই বিল থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

ইতিহাস

শ্রীমঙ্গলের ঠিক পশ্চিমে, চা-টিলার নিচে হাইল হাওর। এর একটি বিল বাইক্কা বিলকে ২০০০-এর দশকের শুরুতে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে স্থায়ী মাছ ও বন্যপ্রাণীর অভয়াশ্রম করা হয়। ভেতরে মাছ ধরা নিষেধ, তাই বিলটি পুরো হাওরের মাছের প্রজননক্ষেত্রের কাজ করে।

সংরক্ষণের ফলে পাখি ফিরে এসেছে। শীতে হাঁস, বক, সাদা বক, জলপিপিসহ নানা প্রজাতির পাখি পানিতে জড়ো হয়, আর বিলের পাশের পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে শাপলা, পদ্ম ও নলখাগড়ার বন অনেক দূর পর্যন্ত দেখা যায়। বাঁধের ওপর দিয়ে একটু হাঁটলেই ঘোরা পূর্ণ হয়।

শ্রীমঙ্গল থেকে বাইক্কা বিল নিরিবিলি আধা দিনের ভ্রমণ; সকালে চা-বাগান বা বিকেলে লাউয়াছড়ার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া যায়।

ভ্রমণ পরিকল্পনা

বাইক্কা বিলে একটি সকাল

আধা দিন
  1. ধাপ ১: ভোর — শ্রীমঙ্গল থেকে রওনা

    ভোরের আলো ফুটতেই সিএনজি বা গাড়িতে হাইল হাওরের পথে।

  2. ধাপ ২: সকাল — পর্যবেক্ষণ টাওয়ার

    টাওয়ারে উঠে দূরবিনে পানির ওপর পাখি দেখুন।

  3. ধাপ ৩: বেলা বাড়লে — বাঁধ ধরে হাঁটা

    শাপলা আর জেলেপাড়ার পাশ দিয়ে বিলের ধারে ধীরে হাঁটা।

  4. ধাপ ৪: দুপুরের আগে — ফিরে চা

    শ্রীমঙ্গলে ফিরে সাত রঙের চা আর দুপুরের খাবার; বিকেলটা লাউয়াছড়া বা চা-বাগানের জন্য।

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

পাখির জন্য ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি; শাপলা ও পদ্মের জন্য বর্ষা

কীভাবে যাবেন

শ্রীমঙ্গল শহর থেকে সবচেয়ে সহজ: হাইল হাওরের ভেতরের রাস্তায় সিএনজি বা গাড়িতে পৌনে এক থেকে এক ঘণ্টা; শেষের পথটুকু ভাঙাচোরা হতে পারে। মৌলভীবাজার শহর থেকে আগে বাসে বা সিএনজিতে শ্রীমঙ্গল (প্রায় এক ঘণ্টা)।

ভ্রমণ টিপস

  • ভোরে বা বিকেলে যান: তখন পাখি বেশি সক্রিয়, আর দুপুরের রোদে টাওয়ারে থাকা কষ্টের।
  • দূরবিন নিন; বেশির ভাগ পাখি পানির অনেক ভেতরে থাকে।
  • টাওয়ার ও বাঁধে চুপচাপ থাকুন, বিলে কিছু ফেলবেন না।
  • এটি অভয়াশ্রম — মাছ ধরা বা শাপলা তোলা নিষেধ।
  • বৃষ্টির পর রাস্তা কাদা হতে পারে; রওনার আগে শ্রীমঙ্গলে জেনে নিন।

ঘুরে দেখুন