কুড়িগ্রাম, রংপুর

চিলমারী নদীবন্দর

ভাওয়াইয়া গানের পুরোনো ব্রহ্মপুত্র-বন্দর, যেখান থেকে দেশের সবচেয়ে চওড়া নদীগুলোর একটি পেরিয়ে চর আর ওপারের দিকে নৌকা ছাড়ে।

স্থানীয় খাবার

  • ব্রহ্মপুত্রের মাছ

    চিলমারী নদীবন্দর

    ঘাটের দোকানে দিনের ধরা মাছ, ভাজা বা পাতলা ঝোলে।

  • সিদল ভর্তা

    চিলমারী নদীবন্দর

    মরিচ-রসুন দিয়ে সিদল ভর্তা, সাদা ভাতের সঙ্গে।

কোথায় খাবেন

কোথায় থাকবেন

  • কুড়িগ্রাম শহর

    কুড়িগ্রাম সদর

    বেশির ভাগ পর্যটক কুড়িগ্রাম শহর থেকে দিনে দিনে চিলমারী ঘুরে আসেন।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

ইতিহাস

চিলমারী ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে, তিস্তা যেখানে এসে মিশেছে তার কাছেই। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এটি ছিল ব্যস্ত নদীবন্দর, যেখানে মালবাহী নৌকা আর স্টিমার ভিড়ত, আর চর ও ওপারের ব্যবসায়ীরা কেনাবেচা করতে আসতেন। বন্দরের খ্যাতি জেলা ছাড়িয়ে ছড়িয়েছে ভাওয়াইয়ার সুরে: উত্তরের গাড়িয়ালেরা গানে গাইতেন চিলমারী বন্দরে মাল নিয়ে যাওয়ার কথা।

নদী বহুবার গতিপথ বদলেছে আর ভাঙনে মাটি গিলেছে, পুরোনো বন্দরও সরে গেছে তার সঙ্গে। আজও ঘাটগুলো চর আর ব্রহ্মপুত্রের ওপারের রৌমারী ও রাজিবপুরে যাওয়ার পথ, আর চিলমারীকে নদীবন্দর হিসেবে আবার চালু করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।

ঘাটে দাঁড়ালে চোখে পড়ে বাংলাদেশে ব্রহ্মপুত্রের সবচেয়ে চওড়া রূপ: দিগন্ত পর্যন্ত পানি আর বালু, নৌকার আসা-যাওয়া, আর দৃষ্টিসীমার কিনারে ভেসে থাকা চরের গ্রাম।

ভ্রমণ পরিকল্পনা

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রে একটি দিন

সারা দিন
  1. ধাপ ১: কুড়িগ্রাম থেকে চিলমারী

    সকালের বাস বা সিএনজিতে উলিপুর হয়ে দক্ষিণে যান।

  2. ধাপ ২: নদীঘাট

    নৌকায় মাল ওঠানো-নামানো দেখুন, আর চরের নৌকা ও ফেরার সময় জেনে নিন।

  3. ধাপ ৩: চরের পথে

    আবহাওয়া ভালো থাকলে নৌকায় কাছের কোনো চরে গিয়ে খেত আর গ্রাম ঘুরে দেখুন।

  4. ধাপ ৪: মাছ-ভাতের দুপুর

    ঘাটে ফিরে নদীর মাছ আর ভাত খান।

  5. ধাপ ৫: অন্ধকারের আগে ফেরা

    নদীর ওপর বিকেলের আলো দেখে কুড়িগ্রামে ফিরুন।

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

অক্টোবর থেকে মার্চ, যখন নদী শান্ত; বর্ষার বন্যার সময় এড়িয়ে চলুন

কীভাবে যাবেন

কুড়িগ্রাম শহর থেকে উলিপুর হয়ে দক্ষিণে, লোকাল বাস বা সিএনজিতে মোটামুটি এক ঘণ্টা। চিলমারী বাজার থেকে রিকশা বা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় নদীঘাট।

শহরে চলাচল

ঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকা যাত্রী নিয়ে চরে আর ব্রহ্মপুত্রের ওপারে যায়, আর নদীতে অল্প ঘোরার জন্য ছোট দেশি নৌকা ভাড়া পাওয়া যায়। রওনা দেওয়ার আগে পথ আর ফেরার ব্যাপারে কথা পাকা করে নিন।

ভ্রমণ টিপস

  • ব্রহ্মপুত্র চওড়া, স্রোত তীব্র আর হঠাৎ বাতাস ওঠে; কেবল অভিজ্ঞ স্থানীয় মাঝির নৌকায় উঠুন, অতিরিক্ত বোঝাই নৌকায় উঠবেন না, আর সম্ভব হলে লাইফ জ্যাকেট পরুন।
  • ঝড়, কুয়াশা বা অন্ধকারে নদী পার হবেন না; শীতে সকালের কুয়াশা কাটা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
  • পার হওয়ার আগে ঘাটে নৌকা চলাচল আর ফেরার সময় জেনে নিন — ফেরার শেষ নৌকা আগেই ছেড়ে যেতে পারে।
  • নদীতে সাঁতার কাটবেন না।
  • চরের গ্রাম মানুষের ঘরবাড়ি আর খেত; মানুষের ছবি তোলার আগে জিজ্ঞেস করুন, শালীন পোশাক পরুন।

ঘুরে দেখুন