পাবনা, রাজশাহী

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ

১৯১৫ সালে চালু হওয়া পাকশীতে পদ্মার ওপর বিশাল ইস্পাতের রেলসেতু, পাশেই লালন শাহ সড়কসেতু — উত্তরবঙ্গের পদ্মার চিরচেনা দৃশ্য।

স্থানীয় খাবার

  • পদ্মার মাছ

    হার্ডিঞ্জ ব্রিজ

    পাকশী ও ঈশ্বরদীর খাবারের দোকানে নদীর মাছ ভাজা বা তরকারি; মৌসুমে ইলিশ।

  • নদীর ধারে চা-নাশতা

    হার্ডিঞ্জ ব্রিজ

    সেতুর কাছের দোকানে চা, চানাচুর আর ভাজাপোড়া।

  • দই ও মিষ্টি

    হার্ডিঞ্জ ব্রিজ

    ঈশ্বরদীর দোকান থেকে পাবনার দুধের মিষ্টি।

কোথায় খাবেন

  • পাকশী নদীতীরের দোকান

    পাকশী, ঈশ্বরদী

    সেতুর কাছে যেখানে পর্যটকেরা জড়ো হন সেখানে চা-নাশতার দোকান, বিকেলে ভিড় বেশি।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • ঈশ্বরদী শহর

    ঈশ্বরদী, পাবনা

    স্টেশন ও বাজারের কাছে ভাতের হোটেল ও রেস্তোরাঁ।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

কোথায় থাকবেন

  • ঈশ্বরদী

    হার্ডিঞ্জ ব্রিজ

    জংশনের কাছে কয়েকটি সাধারণ হোটেল, সবচেয়ে কাছের ঘাঁটি।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • পাবনা শহর

    হার্ডিঞ্জ ব্রিজ

    প্রায় এক ঘণ্টা দূরে হোটেলের বেশি বিকল্প।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

ইতিহাস

ব্রিটিশরা পাকশী আর ভেড়ামারার মাঝে পদ্মার ওপর রেলপথ নিতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মাণ করে, যা ১৯১৫ সালে চালু হয়। তখনকার ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের নামে এর নামকরণ। গভীর পিলারের ওপর সারি সারি ইস্পাতের স্প্যান নিয়ে এটি ছিল তখনকার উপমহাদেশের অন্যতম বড় প্রকৌশলকীর্তি।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এর একটি স্প্যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়; স্বাধীনতার পর তা মেরামত করা হয়, আর আজও উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে প্রধান রেলপথের ট্রেন এর ওপর দিয়ে চলে।

পাশেই লালন শাহ সেতু, ২০০৪ সালে চালু হওয়া সড়কসেতু, নদীর ওপারে কুষ্টিয়ায় যাঁর মাজার সেই মরমি কবি-গায়কের নামে। পাকশীর নদীতীর থেকে পুরোনো লোহার সেতু আর নতুন কংক্রিটের সেতু একসঙ্গে দেখা দেশের সবচেয়ে পরিচিত নদীদৃশ্যগুলোর একটি।

ভ্রমণ পরিকল্পনা

পাকশীতে এক বিকেল

আধা দিন
  1. ধাপ ১: ঈশ্বরদীর পথে

    দুপুরের খাবারের পর পাবনা শহর থেকে বাস বা সিএনজিতে ঈশ্বরদী যান।

  2. ধাপ ২: পাকশীতে

    অটোরিকশায় দুই সেতুর নিচের নদীতীরে যান।

  3. ধাপ ৩: নদীতীরে হাঁটা

    হার্ডিঞ্জ ও লালন শাহ সেতুর নিচে হাঁটুন, নৌকা পাওয়া গেলে অল্প সময় নদীতে ঘুরুন।

  4. ধাপ ৪: সূর্যাস্ত আর ট্রেন

    পদ্মায় সূর্যাস্ত দেখুন, ভাগ্য ভালো হলে পুরোনো সেতুর ওপর দিয়ে গমগম করে ট্রেন পার হতেও দেখবেন।

  5. ধাপ ৫: ঈশ্বরদীতে রাতের খাবার

    পাবনায় ফেরার বা ট্রেন ধরার আগে ঈশ্বরদীতে খেয়ে নিন।

মানচিত্র

গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)বড় মানচিত্র দেখুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

অক্টোবর থেকে মার্চ; পদ্মায় সূর্যাস্ত দেখতে পড়ন্ত বিকেলে

কীভাবে যাবেন

পাবনা শহর থেকে বাস বা সিএনজিতে ঈশ্বরদী (প্রায় এক ঘণ্টা), তারপর অটোরিকশায় পাকশী, ২০ মিনিটের মতো। ঈশ্বরদী জংশন থেকে অল্প পথ।

শহরে চলাচল

পাকশীতে সেতুর নিচে নদীতীরের পথ ধরে হাঁটুন। ছোট নৌকা কখনো কখনো পর্যটকদের নদীতে আর চরে নিয়ে যায় — রওনা দেওয়ার আগে কোথায় যাবেন ঠিক করে নিন।

ভ্রমণ টিপস

  • রেলসেতু বা রেললাইনের ওপর দিয়ে হাঁটবেন না — এটি বিপজ্জনক এবং নিষিদ্ধ।
  • সবচেয়ে ভালো দৃশ্য পাকশীর নদীতীর আর চর থেকে; কখনো কখনো নৌকা ভাড়া করে সেতুর নিচ দিয়ে যাওয়া যায়।
  • শুকনো মৌসুমে নদী শুকিয়ে যায়, বালুচরে হেঁটে যাওয়া যায়; বর্ষায় স্রোত তীব্র — পানির কাছে সাবধান থাকুন।
  • কাছের কিছু রেল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় প্রবেশ সংরক্ষিত; সাইনবোর্ড ও প্রহরীর নির্দেশ মানুন।
  • সূর্যাস্ত পর্যন্ত থাকুন, আর ট্রেন পার হওয়ার দৃশ্য দেখুন।

ঘুরে দেখুন