নওগাঁ, রাজশাহী

আলতাদিঘি

ভারত সীমান্তের কাছে শালবনে ঘেরা দীর্ঘ প্রাচীন দিঘি, জাতীয় উদ্যান হিসেবে সংরক্ষিত, শীতে আসে পরিযায়ী পাখি।

স্থানীয় খাবার

  • কালাই রুটি

    আলতাদিঘি

    ধামইরহাটের দোকানে গরম মাষকলাইয়ের রুটি।

  • শীতের পিঠা

    আলতাদিঘি

    শীতের সকালে বাজারে ভাপা আর চিতই পিঠা।

কোথায় খাবেন

কোথায় থাকবেন

ইতিহাস

আলতাদিঘি বরেন্দ্র অঞ্চলের বড় পুরোনো দিঘিগুলোর একটি, বহুকাল আগে খনন করা — লোককথা একে এক রানি আর পায়ে পরার লাল রং আলতার সঙ্গে জোড়ে, সেখান থেকেই নাম। দিঘিটি লম্বা আর গভীর, বরেন্দ্রের শুকনো গ্রীষ্মেও শতাব্দীর পর শতাব্দী এতে পানি থেকেছে।

দিঘির চারপাশে শালবন, একসময় এই সীমান্ত অঞ্চল জুড়ে থাকা বনভূমির অংশ। দিঘি আর বন এখন জাতীয় উদ্যান হিসেবে সংরক্ষিত, গাছের নিচ দিয়ে হাঁটার পথ আছে।

শীতে পানিতে নামে পরিযায়ী হাঁস আর নানা জলচর পাখি। হাঁটা আর বনভোজনের জন্য শান্ত জায়গা, উত্তরের ব্যস্ত শহরগুলো থেকে একেবারে আলাদা।

ভ্রমণ পরিকল্পনা

আলতাদিঘিতে শীতের সকাল

প্রায় সারা দিন
  1. ধাপ ১: ভোরের বাসে ধামইরহাট

    পাখিরা সক্রিয় থাকতেই পৌঁছাতে নওগাঁ বা জয়পুরহাট থেকে ভোরে রওনা দিন।

  2. ধাপ ২: দিঘির পাড়ে হাঁটা

    শালবনের ভেতর দিয়ে পাড় ধরে হাঁটুন, জলচর পাখি খুঁজুন।

  3. ধাপ ৩: গাছের নিচে বনভোজন

    ছায়ায় জিরিয়ে নিন, কিছু ফেলে আসবেন না।

  4. ধাপ ৪: ধামইরহাট হয়ে ফেরা

    বাজারে দুপুরের খাবার খেয়ে বাসে শহরে ফিরুন।

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

পরিযায়ী পাখির জন্য ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি; সাধারণভাবে অক্টোবর থেকে মার্চ

কীভাবে যাবেন

জেলার একেবারে উত্তরে ধামইরহাট উপজেলায়। নওগাঁ থেকে বাসে ধামইরহাট (জয়পুরহাট থেকেও যাওয়া যায়), তারপর অটোরিকশায় দিঘি। নওগাঁ থেকে প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে রাখুন, পথ স্থানীয়ভাবে জেনে নিন।

শহরে চলাচল

পাড় ধরে আর শালগাছের ভেতর দিয়ে পথে হাঁটুন; দিঘির পুরো দৈর্ঘ্য ঘুরতে ঘণ্টাখানেকের আরামদায়ক হাঁটা।

ভ্রমণ টিপস

  • উদ্যানটি একেবারে সীমান্তঘেঁষা: পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন, পথ ধরে হাঁটুন, সীমান্তরেখা থেকে দূরে থাকুন।
  • পাখি দেখতে সকাল সকাল আসুন, পানির কাছে চুপচাপ থাকুন।
  • থাকলে দূরবীন সঙ্গে নিন।
  • পাখিকে খাওয়াবেন না, তাড়া করবেন না, ময়লা সঙ্গে নিয়ে ফিরুন।
  • দোকান কম; পানি আর খাবার নিয়ে যান।

ঘুরে দেখুন