নরসিংদী, ঢাকা

উয়ারী-বটেশ্বর

দুই হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো এক দুর্গনগরীর খননকৃত ধ্বংসাবশেষ — প্রাচীর, পরিখা আর পাকা রাস্তা — বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগর-বসতিগুলোর একটি।

স্থানীয় খাবার

  • লটকন

    উয়ারী-বটেশ্বর

    মৌসুমে বেলাবোর লটকন গ্রামের বাজারে আর মহাসড়কের ধারে বিক্রি হয়।

  • গ্রামের ভাত-তরকারি

    উয়ারী-বটেশ্বর

    বাজারের ছোট হোটেলে ভাত, মাছের তরকারি, ডাল আর ভর্তা।

কোথায় খাবেন

  • বেলাবো ও মরজাল বাজার

    বেলাবো, নরসিংদী

    সাধারণ রেস্তোরাঁ ও চায়ের দোকান; প্রত্নস্থলে খাবার কিছু নেই, তাই শুকনো খাবার সঙ্গে রাখুন।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

কোথায় থাকবেন

  • ঢাকা থেকে দিনভর ভ্রমণ

    ঢাকা বা নরসিংদী শহর

    বেশির ভাগ পর্যটক দিনে এসে ফিরে যান; নরসিংদী শহরে কয়েকটি সাধারণ হোটেল আছে।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

ইতিহাস

প্রজন্মের পর প্রজন্ম উয়ারী ও বটেশ্বরের কৃষকেরা মাঠে মুদ্রা, পুঁতি আর মৃৎপাত্র পেতেন। ১৯৩০-এর দশকে স্থানীয় স্কুলশিক্ষক হানিফ পাঠান এগুলো সংগ্রহ ও এ নিয়ে লেখালেখি শুরু করেন, আর তাঁর ছেলে হাবিবুল্লাহ পাঠান সেই কাজ এগিয়ে নিয়ে কয়েক দশক ধরে জায়গাটিকে মানুষের নজরে রাখেন।

২০০০ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ববিদদের নেতৃত্বে নিয়মিত খনন শুরু হয়। বেরিয়ে আসে মাটির প্রাচীর ও পরিখাঘেরা একটি দুর্গবেষ্টিত এলাকা, ইটবিছানো রাস্তা, ঘরবাড়ির চিহ্ন, আর ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রা, দামি পাথরের পুঁতি ও সূক্ষ্ম মৃৎপাত্রের মতো নিদর্শন। কালনির্ণয়ে বসতিটি খ্রিস্টপূর্ব যুগের শতাব্দীগুলোতে পড়ে, যা একে বাংলার জানা প্রাচীনতম নগরগুলোর একটি করে তোলে।

নিদর্শন থেকে ধারণা করা হয়, উয়ারী-বটেশ্বর নদীপথে বৃহত্তর বাণিজ্য-জালের সঙ্গে যুক্ত এক বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল। কোনো কোনো পণ্ডিত একে প্রাচীন লেখকদের উল্লেখ করা জায়গার সঙ্গে মেলানোর চেষ্টা করেছেন, তবে তা নিয়ে বিতর্ক আছে। আজ যা দেখা যায় তা সাদামাটা — খননের গর্ত, প্রাচীরের রেখা, শান্ত গ্রামের মাঠ — কিন্তু সেখানে দাঁড়ালে আপনি বাংলার প্রথম দিকের এক নগরের রাস্তায়।

ভ্রমণ পরিকল্পনা

উয়ারী-বটেশ্বরে একদিন

ঢাকা থেকে সারা দিন
  1. ধাপ ১: ভোরে পূর্বমুখী বাস

    ভোরে ঢাকা থেকে ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক ধরে বেলাবোর দিকের বাসে উঠুন।

  2. ধাপ ২: সিএনজিতে উয়ারী

    মহাসড়ক থেকে সিএনজিতে গ্রামে ঢুকুন, খননস্থলের কথা জিজ্ঞেস করে নিন।

  3. ধাপ ৩: প্রাচীন নগরে হাঁটা

    খননের গর্ত, প্রাচীরের রেখা আর পুরোনো রাস্তা দেখুন, সম্ভব হলে কোনো গ্রামবাসী বা গাইডকে সঙ্গে নিয়ে।

  4. ধাপ ৪: দুপুরের খাবার ও লটকন

    বেলাবো বাজারে খেয়ে নিন, আর মৌসুম হলে ঢাকায় ফেরার পথে লটকন কিনুন।

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

নভেম্বর থেকে মার্চ, শুকনো মৌসুমে; খননকাজ হলে সাধারণত শীতেই হয়

কীভাবে যাবেন

উয়ারী ও বটেশ্বর গ্রাম বেলাবো উপজেলায়, নরসিংদী শহরের উত্তর-পূর্বে। ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক ধরে বেলাবো বা মরজালের দিকে বাসে যান, তারপর সিএনজিতে উয়ারী গ্রাম। নরসিংদী শহর থেকে ১–১.৫ ঘণ্টা ধরে রাখুন; খননস্থলের পথ স্থানীয়দের কাছে জেনে নিন।

শহরে চলাচল

খননস্থলগুলো দুই গ্রামজুড়ে ছড়ানো; গ্রামের পথে হেঁটে ঘুরুন, অথবা পুরো সময়ের জন্য সিএনজি রেখে দিন।

ভ্রমণ টিপস

  • উয়ারী-বটেশ্বর একটি জীবন্ত গ্রাম ও প্রত্নস্থল, পার্ক নয়: খোলা মাঠ আর খননের গর্ত দেখবেন, এমনটাই আশা রাখুন।
  • কোন খননস্থল খোলা আছে আর নিদর্শনের কোনো স্থানীয় সংগ্রহ দেখা যায় কি না, তা সময়ে সময়ে বদলায় — স্থানীয়ভাবে জেনে নিন।
  • মাটি খুঁড়বেন না, নিদর্শন কুড়াবেন বা কিনবেন না; এতে প্রত্নস্থলের ক্ষতি হয় এবং তা বেআইনি।
  • মাঠগুলো ব্যক্তিগত জমি; পার হওয়ার আগে অনুমতি নিন, পথ ধরে চলুন।
  • আরামদায়ক জুতা পরুন, পানি সঙ্গে রাখুন; ছায়া কম।
  • স্থানীয় গাইড বা গ্রামবাসী প্রাচীর আর পুরোনো রাস্তার রেখা দেখিয়ে দিতে পারেন।

ঘুরে দেখুন