বান্দরবান, চট্টগ্রাম

নাফাখুম ঝরনা

থানচির পাহাড়ের গভীরে রেমাক্রি খালের চওড়া ঝরনা; যেতে হয় সাঙ্গু নদীতে নৌকায়, তারপর নদীর ধার ধরে হেঁটে।

স্থানীয় খাবার

  • গ্রামের ভাতের খাবার

    নাফাখুম ঝরনা

    রেমাক্রিতে পর্যটকদের জন্য রান্না করা ভাত, ডাল, ডিম বা মুরগি ও সবজি।

  • সাঙ্গু নদীর মাছ

    নাফাখুম ঝরনা

    মাছ ধরা পড়লে ছোট নদীর মাছ ভাজা বা ঝোলে।

  • ব্যাম্বু চিকেন

    নাফাখুম ঝরনা

    রেমাক্রিতে রাতের জন্য গাইডকে বলে ব্যবস্থা করিয়ে নিন।

কোথায় খাবেন

  • রেমাক্রি গ্রাম

    রেমাক্রি, থানচি

    গ্রামের অতিথিশালাগুলো খাবার রান্না করে; গাইডের মাধ্যমে আগে অর্ডার দিন।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • থানচি বাজার

    থানচি

    নৌকাঘাটের কাছে সাধারণ রেস্তোরাঁ, নৌযাত্রার আগে-পরে খাওয়ার জন্য।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

কোথায় থাকবেন

  • রেমাক্রির গ্রামীণ অতিথিশালা

    রেমাক্রি, থানচি

    মারমা বাড়ি ও কটেজে সাধারণ ভাগাভাগির ঘর, গাইড ব্যবস্থা করেন।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • থানচি

    থানচি বাজার

    নৌকা ধরতে দেরি হলে বাজারে কয়েকটি সাধারণ থাকার ঘর আছে।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

ইতিহাস

নাফাখুম থানচি উপজেলার রেমাক্রি ইউনিয়নে, সাঙ্গুর শাখা রেমাক্রি খালের একটি ঝরনা। পুরো খালটি চওড়া এক পাথুরে ধাপ থেকে গর্জন করে পর্দার মতো নেমে আসে, তাই আদর করে একে বলা হয় ‘বাংলাদেশের নায়াগ্রা’ — বাড়িয়ে বলা, তবে ভালোবেসে। নামটি মারমা ভাষা থেকে: খুম মানে গভীর কুণ্ড বা জলপ্রপাত।

যাওয়ার পথই অর্ধেক রোমাঞ্চ। থানচি থেকে সাঙ্গু ধরে নৌযাত্রা চলে সরু গিরিখাত আর খরস্রোত পেরিয়ে, রাজা পাথর নামে পরিচিত বিশাল পাথরখণ্ডের পাশ দিয়ে, দুই তীরে উঠে যাওয়া বনের মাঝ দিয়ে। তারপর রেমাক্রি থেকে খালের ধার ধরে হাঁটা, কোথাও কোথাও পানি ভেঙে।

রেমাক্রি খাল ও সাঙ্গুর মিলনস্থলে রেমাক্রি একটি মারমা গ্রাম, বেশির ভাগ পর্যটক সেখানে রাত কাটান। আরও এগোলে আমিয়াখুম ও অন্যান্য ঝরনা, তবে সেই পথ কঠিনতর এবং বর্তমান অনুমতির ওপর নির্ভরশীল।

ভ্রমণ পরিকল্পনা

নৌকায় ও পায়ে হেঁটে নাফাখুম

২–৩ দিন
  1. ধাপ ১: বান্দরবান থেকে থানচি

    থানচি পর্যটকদের জন্য খোলা কি না নিশ্চিত হয়ে ভোরে বান্দরবান শহর থেকে নীলগিরি সড়ক ধরে জিপ বা বাসে রওনা দিন।

  2. ধাপ ২: গাইড, নিবন্ধন ও নৌকা

    গাইডের সঙ্গে দেখা করে পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধন সারুন, তারপর সাঙ্গু ধরে নৌকায় রেমাক্রি।

  3. ধাপ ৩: রেমাক্রিতে রাত

    গ্রামের অতিথিশালায় উঠে, খাল আর সাঙ্গুর মিলনস্থলের ছোট ঝরনার ধারে সন্ধ্যা কাটান।

  4. ধাপ ৪: নাফাখুমে হাঁটা

    নাশতার পর রেমাক্রি খালের ধার ধরে রওনা দিন, ঝরনায় সময় কাটিয়ে রেমাক্রিতে ফিরুন।

  5. ধাপ ৫: সাঙ্গু ধরে ফেরা

    দিনের আলোয় নৌকায় থানচি, তারপর সড়কপথে বান্দরবানে ফিরুন।

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর, যখন ঝরনা তখনো ভরা কিন্তু নদী শান্ত। ভরা বর্ষায় নৌকা না-ও চলতে পারে।

কীভাবে যাবেন

বান্দরবান শহর থেকে নীলগিরি সড়ক ধরে জিপ বা বাসে থানচি, প্রায় ৩–৪ ঘণ্টা। থানচিতে স্থানীয় গাইডসহ নিবন্ধন করে সাঙ্গু নদীতে নৌকায় রেমাক্রি, পানির অবস্থাভেদে মোটামুটি ২–৩ ঘণ্টা। রেমাক্রি থেকে রেমাক্রি খালের ধার ধরে প্রায় ২–৩ ঘণ্টা হেঁটে ঝরনায়। নিরাপত্তার কারণে থানচিতে পর্যটকদের যাওয়া মাঝেমধ্যে বন্ধ থেকেছে — বর্তমান নিয়ম জেনে নিন।

শহরে চলাচল

থানচি ও রেমাক্রির মধ্যে লম্বা, সরু ইঞ্জিন নৌকা চলে; অগভীর জায়গায় মাঝিরা লগি মেরে বা ঠেলে নৌকা এগিয়ে নেন। রেমাক্রি থেকে ঝরনা পর্যন্ত শুধু হেঁটে যেতে হয়।

ভ্রমণ টিপস

  • পরিকল্পনার আগে বর্তমান নিয়ম জেনে নিন: থানচি ও রেমাক্রিতে পর্যটকদের যাওয়া মাঝেমধ্যে বন্ধ থেকেছে, আর বিদেশিদের আলাদা অনুমতি লাগতে পারে।
  • নিবন্ধিত স্থানীয় গাইড বাধ্যতামূলক; গাইডের নির্দেশমতো জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট দিয়ে থানচি থানা ও সেনা ক্যাম্পে নিবন্ধন করুন।
  • নৌকায় লাইফ জ্যাকেট পরুন, আর পানি ভাঙার জন্য ভালো গ্রিপের জুতা নিন; পাথর খুব পিচ্ছিল।
  • ঝরনার নিচের কুণ্ডে সাঁতার কাটবেন না — স্রোত প্রবল, নাফাখুমে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
  • নগদ টাকা, টর্চ ও পাওয়ার ব্যাংক নিন; থানচির পর এটিএম নেই, মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রায় নেই।
  • অন্তত দুই দিন হাতে রাখুন; অন্ধকারে নৌকা চলে না।

ঘুরে দেখুন