টাঙ্গাইল, ঢাকা

টাঙ্গাইল

ঢাকার উত্তর-পশ্চিমে যমুনার তীরের জেলা; তাঁতের টাঙ্গাইল শাড়ি, পোড়াবাড়ির চমচম, আতিয়া মসজিদ আর মধুপুরের শালবনের জন্য বিখ্যাত।

স্থানীয় খাবার

  • পোড়াবাড়ির চমচম

    টাঙ্গাইল

    ঘন, লালচে-বাদামি ছানার মিষ্টি, ওপরে মাওয়ার গুঁড়া; টাঙ্গাইলের সবচেয়ে বিখ্যাত খাবার।

  • কাঁঠাল ও আনারস

    টাঙ্গাইল

    মধুপুর গড়ে প্রচুর আনারস আর কাঁঠাল হয়, গ্রীষ্মে মৌসুম।

  • যমুনার মাছ

    টাঙ্গাইল

    যমুনার নদীর মাছ, তরকারি বা ভাজা।

কোথায় খাবেন

  • টাঙ্গাইল শহরের মিষ্টির দোকান

    টাঙ্গাইল শহর

    শহরের মিষ্টির দোকানে চমচমসহ নানা মিষ্টি; সবচেয়ে পুরোনো দোকান কোনগুলো, স্থানীয়দের জিজ্ঞেস করুন।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • মহাসড়কের রেস্তোরাঁ

    ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক

    দূরপাল্লার বাস যেখানে থামে, মহাসড়কের ধারের বড় রেস্তোরাঁ।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • মধুপুর বাজার

    মধুপুর

    সাধারণ রেস্তোরাঁ আর মৌসুমে বাজারভর্তি আনারস।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

কোথায় থাকবেন

  • টাঙ্গাইল শহর

    টাঙ্গাইল সদর

    বেশির ভাগ হোটেল শহরে; আতিয়া, করটিয়া, পোড়াবাড়ি ও সন্তোষ ঘোরার ভালো ঘাঁটি।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • মধুপুর

    মধুপুর

    বনের কাছে কয়েকটি সাধারণ থাকার জায়গা; স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিন।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

সংস্কৃতি

টাঙ্গাইল তাঁতিদের জেলা। সুতি বা সিল্ক মেশানো, সূক্ষ্ম বোনা পাড়ের টাঙ্গাইল শাড়ি তৈরি হয় দেলদুয়ারের পাথরাইলসহ নানা গ্রামের হস্তচালিত তাঁতে; পর্যটকেরা সরাসরি তাঁতিদের দোকান থেকে কিনতে পারেন।

  • মধুপুর বনের ভেতরে ও আশপাশে গারো ও কোচ সম্প্রদায়ের বাস; তাদের নিজস্ব ভাষা, গির্জা আর ফসল তোলার পরের ওয়ানগালার মতো উৎসব।
  • সন্তোষে মওলানা ভাসানীর মাজারে সারা বছর মানুষ আসে।
  • পোড়াবাড়ির চমচম মিষ্টির জগতে জেলার নাম ছড়িয়েছে।

ইতিহাস

টাঙ্গাইল পশ্চিমে যমুনা থেকে উত্তর-পূর্বে মধুপুরের লাল মাটির গড় পর্যন্ত বিস্তৃত। যমুনার ওপর বঙ্গবন্ধু সেতু এর পশ্চিম প্রান্ত থেকে শুরু, তাই ঢাকা থেকে গোটা উত্তরবঙ্গের প্রধান সড়ক এই জেলা দিয়েই গেছে।

এর ইতিহাস লেখা আছে স্থাপনায়: সতেরো শতকের গোড়ার আতিয়া মসজিদ, করটিয়ার পন্নী পরিবারের প্রাসাদ, মহেড়া, ধনবাড়ী ও পাকুটিয়ার জমিদারবাড়ি। কৃষক নেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী জীবনের শেষ বছরগুলো কাটিয়েছেন শহরের কাছে সন্তোষে, সেখানেই তাঁর মাজার।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে টাঙ্গাইল ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের শক্ত ঘাঁটি, আর সেই ইতিহাস নিয়ে জেলার মানুষ গর্বিত। আজ টাঙ্গাইল সবচেয়ে পরিচিত তার তাঁতিদের জন্য: টাঙ্গাইল শাড়ি বিক্রি হয় সারা দেশে।

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

অক্টোবর থেকে মার্চ; বর্ষার ঠিক পরে মধুপুরের বন সবচেয়ে সবুজ।

কীভাবে যাবেন

  • ঢাকা থেকে বাসে: মহাখালী থেকে টাঙ্গাইলের বাস ছাড়ে, ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে গাজীপুরের যানজট বুঝে ২–৩ ঘণ্টা। উত্তরবঙ্গগামী অনেক বাসও শহরের পাশ দিয়ে যায়।
  • উত্তরবঙ্গ থেকে: বগুড়া, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ ও রংপুরের বাস বঙ্গবন্ধু সেতু পেরিয়ে ঢাকার পথে টাঙ্গাইল হয়ে যায়।
  • ট্রেনে: ঢাকা আর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে চলা আন্তঃনগর ট্রেন টাঙ্গাইল স্টেশনে থামে; হালনাগাদ সময়সূচি দেখে নিন।
  • ময়মনসিংহ থেকে: মধুপুর হয়ে বাসে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা।

শহরে চলাচল

  • টাঙ্গাইল শহরে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা।
  • আতিয়া, করটিয়া, সন্তোষ ও পোড়াবাড়ি শহরের কাছেই, সিএনজি অটোরিকশায় যাওয়া যায়।
  • মির্জাপুর, মধুপুর ও ধনবাড়ীতে লোকাল বাস।
  • এক দিনে কয়েকটি জায়গা ঘুরতে গাড়ি বা সিএনজি ভাড়া নিন।

ঘুরে দেখুন