ঢাকা

আহসান মঞ্জিল

ঢাকার নবাবদের গোলাপি প্রাসাদ, এখন জাদুঘর।

স্থানীয় খাবার

  • কাচ্চি বিরিয়ানি

    আহসান মঞ্জিল

    পুরান ঢাকার পরিচিত খাবার — মুখবন্ধ হাঁড়িতে ধীরে রান্না মাংস ও চাল, সঙ্গে বোরহানি।

  • বাকরখানি

    আহসান মঞ্জিল

    মাটির তন্দুরে সেঁকা মচমচে স্তরের রুটি, পুরান ঢাকার ছোট দোকানে গরম গরম বিক্রি হয়।

  • লাচ্ছি

    আহসান মঞ্জিল

    পাড়ার মিষ্টির দোকানের ঘন মিষ্টি দইয়ের পানীয়।

কোথায় খাবেন

  • নাজিরা বাজার ও বংশাল

    পুরান ঢাকা

    রিকশায় অল্প পথ উত্তরে: হাজী বিরিয়ানির (১৯৩৯ সাল থেকে) মতো বিরিয়ানির দোকান, কাবাব আর মিষ্টির দোকান।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • প্রাসাদের আশপাশের খাবারের দোকান

    ইসলামপুর ও সদরঘাট

    ব্যবসায়ী আর যাত্রীদের জন্য সাধারণ ভাত-তরকারির হোটেল আর চায়ের দোকান।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

কোথায় থাকবেন

  • মতিঝিল ও পল্টন

    মধ্য ঢাকা

    পুরান ঢাকা আর নদীতীরের সবচেয়ে কাছের কম খরচের হোটেল।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • ধানমন্ডি

    মধ্য ঢাকা

    শহরের তুলনামূলক শান্ত এলাকায় মাঝারি মানের হোটেল ও রেস্তোরাঁ।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

সংস্কৃতি

প্রাসাদটি ঢাকার পুরোনো নদীতীরের এলাকায়, পাইকারি বাজার, গুদাম আর ঘাটের মাঝে। পাশের ইসলামপুরের গলিতে হাঁটুন — কাপড়ের ব্যবসার জন্য বহুদিনের পরিচিত এলাকা — দেখবেন পুরান ঢাকার ব্যবসা প্রজন্মের পর প্রজন্ম কীভাবে চলছে।

ইতিহাস

আহসান মঞ্জিল ছিল ঢাকার নবাবদের প্রাসাদ — উনিশ ও বিশ শতকের শুরুতে শহরের প্রধান মুসলিম জমিদার পরিবার। নবাব খাজা আবদুল গনি বুড়িগঙ্গার তীরে প্রাসাদটি তৈরি করে ছেলে খাজা আহসানুল্লাহর নামে নামকরণ করেন; ১৮৭২ সালে এর কাজ শেষ হয়।

১৮৮৮ সালের এক টর্নেডোতে ভবনটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আর পুনর্নির্মাণের সময় যুক্ত হয় উঁচু গম্বুজটি, যা এখন এর সবচেয়ে পরিচিত চিহ্ন। কয়েক দশক ধরে প্রাসাদটি ছিল ঢাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের কেন্দ্র; এখানে বড়লাট, গভর্নর আর নেতাদের অভ্যর্থনা জানানো হতো।

নবাব পরিবারের অবস্থা পড়ে গেলে প্রাসাদটি জীর্ণ হয়ে পড়ে। সরকার এটি সংস্কার করে, আর ১৯৯২ সাল থেকে এটি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের অধীনে জাদুঘর। কক্ষগুলোতে নবাবদের আসবাব, প্রতিকৃতি আর ঘরের জিনিসপত্র সাজানো, আর বিশাল সিঁড়ি ও চওড়া বারান্দা থেকে আজও নদী দেখা যায়।

ভ্রমণ পরিকল্পনা

প্রাসাদ ও নদীর সকাল

আধা দিন
  1. ধাপ ১: আহসান মঞ্জিল জাদুঘর

    নবাবদের কক্ষ, বড় হলঘর আর সিঁড়ি ঘুরে নদীর দিকের বারান্দায় যান।

  2. ধাপ ২: বুড়িগঙ্গায় নৌকায়

    কাছের ঘাট থেকে ছোট ডিঙি নৌকা নিয়ে অল্প সময় ঘুরুন, নদী থেকে প্রাসাদ আর লঞ্চ দেখুন।

  3. ধাপ ৩: সদরঘাট

    পাশের টার্মিনালে লঞ্চে মালপত্র ওঠানো আর নদীর ব্যস্ততা দেখুন।

  4. ধাপ ৪: নাজিরা বাজারে দুপুরের খাবার

    রিকশায় উত্তরে গিয়ে কাচ্চি বিরিয়ানি আর বোরহানি খান।

মানচিত্র

গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)বড় মানচিত্র দেখুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

অক্টোবর থেকে মার্চ; বিকেলের ভিড়ের আগে, সকালে পৌঁছান।

কীভাবে যাবেন

সদরঘাটের কাছে বুড়িগঙ্গার তীরে; গুলিস্তান বা বংশাল থেকে রিকশায়।

ভ্রমণ টিপস

  • যাওয়ার আগে খোলার দিন জেনে নিন; জাদুঘর সপ্তাহে এক দিন আর কিছু সরকারি ছুটিতে বন্ধ থাকে।
  • ফটকের পাশের কাউন্টার থেকে টিকিট কিনুন; বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য আলাদা দর আছে।
  • গ্যালারির ভেতরে ছবি তোলা নিষেধ থাকতে পারে — নির্দেশনা ও নিরাপত্তাকর্মীদের কথা মেনে চলুন।
  • গোলাপি সম্মুখভাগের সবচেয়ে ভালো ছবি আসে সামনের লন থেকে, অথবা বুড়িগঙ্গায় নৌকা থেকে।
  • কয়েক মিনিটের হাঁটা পথে সদরঘাটও ঘুরে নিতে পারেন, তবে ভিড়ে দামি জিনিস সাবধানে রাখুন।

ঘুরে দেখুন