বাগেরহাট, খুলনা

বাগেরহাট

খান জাহান আলীর গড়া ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য মসজিদের শহর, যার কেন্দ্রে ষাট গম্বুজ মসজিদ; আর মোংলা হয়ে পূর্ব সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার।

স্থানীয় খাবার

  • গলদা চিংড়ি

    বাগেরহাট

    বাগেরহাটের খামারের গলদা চিংড়ি, নারকেলের দুধে ঘন মালাইকারি সবচেয়ে ভালো।

  • চুইঝাল

    বাগেরহাট

    চুই দিয়ে রান্না খাসি, গরু বা হাঁসের মাংস; খুলনা-বাগেরহাটজুড়ে প্রিয় ঝাঁঝালো লতার কাণ্ড।

  • সুন্দরবনের মধু

    বাগেরহাট

    বনের বুনো মধু, মোংলা ও বাগেরহাটে বিক্রি হয়; বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে কিনুন।

  • কাঁকড়া ও নদীর মাছ

    বাগেরহাট

    কাদা কাঁকড়া, ভেটকি আর পারশে, তরকারি বা ভাজা, বিশেষ করে মোংলার আশপাশে।

কোথায় খাবেন

  • বাগেরহাট শহর

    বাগেরহাট সদর

    শহরের কেন্দ্রে ভাত-তরকারির রেস্তোরাঁ আর মিষ্টির দোকান, স্থাপনাগুলো থেকে অল্প পথ।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • মোংলা শহর

    মোংলা, বাগেরহাট

    ঘাটের কাছে সাধারণ খাবারের দোকান, নৌভ্রমণের আগে বা পরে মাছ, চিংড়ি আর কাঁকড়া।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

কোথায় থাকবেন

  • বাগেরহাট শহর

    বাগেরহাট সদর

    কয়েকটি সাধারণ হোটেল; অনেকে বরং খুলনা থেকে দিনে দিনে মসজিদের শহর ঘুরে যান।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • মোংলা

    মোংলা, বাগেরহাট

    বন্দরনগরীতে হোটেল ও গেস্টহাউস, ভোরে করমজলের দিকে রওনা দেওয়ার জন্য সুবিধাজনক।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • সুন্দরবনের পর্যটক নৌযানে

    মোংলা বা খুলনা থেকে

    বনের ভেতরে কয়েক দিনের ভ্রমণে রাত কাটে লাইসেন্সপ্রাপ্ত পর্যটক নৌযানে।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

সংস্কৃতি

বাগেরহাটের জীবন চলে সাধকের উত্তরাধিকার আর বনের মাঝখানে।

  • খান জাহান আলী এখানে গভীরভাবে শ্রদ্ধেয়: সারা বছর তাঁর মাজারে জিয়ারতকারীরা আসেন, আর অনেকে এখনো চালু ষাট গম্বুজ মসজিদে নামাজ পড়েন।
  • দক্ষিণে মৌয়াল মধু সংগ্রাহক, বাওয়ালি কাঠুরে আর জেলেরা সুন্দরবনে কাজ করেন, অনেকে বনের রক্ষাকর্ত্রী বনবিবিকে মানেন।
  • বাগেরহাট গলদা চিংড়ি চাষের প্রাণকেন্দ্র; ধানখেত, চিংড়ির ঘের আর নারকেলবাগানে ভরা গ্রামাঞ্চল।
  • মোংলা বন্দরনগরী; পশুর নদীতে নোঙর করা জাহাজ আর শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের অবিরাম আনাগোনা।

ইতিহাস

পঞ্চদশ শতাব্দীতে খান জাহান আলী নামে এক যোদ্ধা-সাধক ব-দ্বীপের এই প্রান্তে আসেন, জঙ্গল সাফ করে খলিফাতাবাদ নামে শহর গড়েন। তিনি মসজিদ, রাস্তা, সেতু আর বড় বড় দিঘি তৈরি করেন, আর তাঁর ইটের শহর বাংলা সালতানাতের অন্যতম সেরা জনপদে পরিণত হয়। ১৪৫৯ সালে তাঁর মৃত্যু হয়; নিজেরই খনন করা দিঘির পাশে সমাধিসৌধে তিনি শায়িত।

পরে খলিফাতাবাদের বড় অংশ জঙ্গলে ঢাকা পড়ে, তবে আজকের শহরের পশ্চিমে গ্রাম আর মাঠের মাঝে ছড়িয়ে প্রায় পঞ্চাশটি স্থাপনা টিকে আছে। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এগুলোকে ঐতিহাসিক মসজিদের শহর বাগেরহাট নামে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় তোলে, যার কেন্দ্রে ষাট গম্বুজ মসজিদ।

আজ বাগেরহাট নদী, নারকেলবাগান আর চিংড়ির ঘেরে ভরা শান্ত জেলা। এর দক্ষিণ অংশ সুন্দরবনের গভীরে বিস্তৃত, আর বনের কিনারায় পশুর নদীর তীরে দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মোংলা।

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি: স্থাপনা দেখার জন্য শীতল, শুকনো দিন আর সুন্দরবনে নৌভ্রমণের সবচেয়ে শান্ত সময়

কীভাবে যাবেন

  • ঢাকা থেকে বাসে: পদ্মা সেতু পার হয়ে গোপালগঞ্জ হয়ে বাগেরহাট শহরে প্রায় ৪–৫ ঘণ্টা; সরাসরি মোংলাতেও বাস যায়।
  • খুলনা থেকে: রূপসা সেতু হয়ে ঘন ঘন বাস; বাগেরহাটে প্রায় ১ ঘণ্টা, মোংলায় প্রায় ১–১.৫ ঘণ্টা।
  • ট্রেনে: সবচেয়ে সহজ হলো ট্রেনে খুলনা, তারপর সড়কপথে।
  • আকাশপথে: সবচেয়ে কাছের বিমানবন্দর যশোর; সেখান থেকে খুলনা হয়ে সড়কপথে।

শহরে চলাচল

  • মসজিদের শহরের স্থাপনাগুলো কয়েক কিলোমিটারজুড়ে ছড়ানো: ষাট গম্বুজ মসজিদ, ছোট মসজিদগুলো আর খান জাহান আলীর মাজারে যেতে কয়েক ঘণ্টার জন্য ইজিবাইক বা সিএনজি ভাড়া নিন।
  • বাগেরহাট শহরের ভেতরে রিকশা আর ভ্যান।
  • মোংলা থেকে সুন্দরবনে যাওয়া যায় শুধু নৌকায়: করমজলের জন্য ভাড়া করা ট্রলার, দীর্ঘ ভ্রমণের জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত পর্যটক নৌযান।
  • মোংলায় ছোট খেয়া নৌকা পশুর নদী পার হয়।

ঘুরে দেখুন