চট্টগ্রাম

বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার

পাহাড়ের ওপর মাজার, এর পুকুরের দুর্লভ কচ্ছপের জন্য বিখ্যাত।

স্থানীয় খাবার

  • মেজবানি মাংস

    বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার

    কাছের নাসিরাবাদ ও জিইসির রেস্তোরাঁয় সহজেই পাবেন।

  • দুরুস কুরা

    বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার

    মসলাদার ঝোলে আস্ত মুরগি, চাটগাঁইয়া এই পদটি খোঁজ করে খেয়ে দেখুন।

কোথায় খাবেন

  • নাসিরাবাদ ও জিইসি

    চট্টগ্রাম শহর

    শহরের প্রধান রেস্তোরাঁ এলাকা, মাজার থেকে অল্প পথ।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • মাজারের পাশের দোকান

    বায়েজিদ

    গেটের আশপাশে ভক্তদের জন্য চা, হালকা খাবার আর মিষ্টি।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

কোথায় থাকবেন

  • জিইসি ও নাসিরাবাদ

    চট্টগ্রাম শহর

    মাজারটি শহরেই; হোটেলের জন্য এগুলোই সবচেয়ে কাছের এলাকা।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

সংস্কৃতি

মাজারটি লোকজ সুফি ভক্তির কেন্দ্র। নানা পটভূমির মানুষ এখানে দোয়া করতে, মোমবাতি ও আগরবাতি জ্বালাতে, সুতা বাঁধতে আর মানত করতে আসেন; কচ্ছপদেরও মাজারের অংশ হিসেবে ভক্তি করা হয়। বার্ষিক ওরস ও পবিত্র রাতগুলোতে পাহাড়টি ভক্তে ভরে যায়। সম্মান বজায় রাখলে যেকোনো দর্শনার্থীকেই স্বাগত জানানো হয়।

ইতিহাস

চট্টগ্রাম শহরের উত্তরে নাসিরাবাদের একটি ছোট পাহাড়ে রয়েছে পারস্যের বোস্তাম থেকে আসা নবম শতকের বিখ্যাত সুফি সাধক বায়েজিদ বোস্তামীর নামে মাজার। ইতিহাসবিদেরা সন্দেহ করেন তিনি কখনো বাংলায় এসেছিলেন কি না, আর সাধারণভাবে মনে করা হয় এটি তাঁর প্রকৃত কবর নয়, স্মৃতিসৌধ — তবু শতাব্দী ধরে মানুষ এখানে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসছে, আর এটি অঞ্চলের সবচেয়ে পরিচিত মাজারগুলোর একটি।

মাজারের পাশে আছে মোগল আমলের তিন গম্বুজের একটি পুরোনো মসজিদ, আর পাহাড়ের নিচে বড় একটি পুকুর। এই পুকুরই জায়গাটিকে চট্টগ্রামের বাইরেও বিখ্যাত করেছে: এখানে বাস করে বোস্তামী কাছিম নামে পরিচিত কালো নরম খোলসের কচ্ছপ, এত দুর্লভ যে বহু বছর মনে করা হতো এরা কেবল এমন মাজারের পুকুরেই টিকে আছে, যেখানে মানুষ এদের পবিত্র মনে করে রক্ষা করে।

দর্শনার্থীরা আসেন প্রার্থনা করতে, মানত করতে, আর খাবারের জন্য কচ্ছপদের পানির ওপরে ভেসে উঠতে দেখতে। এটি একই সঙ্গে জীবন্ত ভক্তির জায়গা আর নীরবে বিশ্বের দুর্লভতম কচ্ছপগুলোর একটির আশ্রয়।

ভ্রমণ পরিকল্পনা

মাজারে এক সকাল

আধা দিন
  1. ধাপ ১: কচ্ছপের পুকুর

    পাহাড়ের নিচের পুকুর দিয়ে শুরু করুন, অপেক্ষা করুন কচ্ছপদের ভেসে ওঠার।

  2. ধাপ ২: মাজারে ওঠা

    সিঁড়ি বেয়ে পাহাড়চূড়ার মাজারে উঠুন, পাশে দেখুন মোগল আমলের পুরোনো মসজিদ।

  3. ধাপ ৩: ওয়ার সিমেট্রি

    দক্ষিণে কমনওয়েলথ যুদ্ধ সমাধিক্ষেত্রে গিয়ে আধা ঘণ্টা নীরবে কাটান।

  4. ধাপ ৪: জিইসিতে দুপুরের খাবার

    জিইসির কোনো রেস্তোরাঁয় মেজবানি মাংস দিয়ে শেষ করুন।

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

বছরের যেকোনো সময়; সকালে ভিড় কম। রোদেলা উষ্ণ দিনে কচ্ছপ দেখা সবচেয়ে সহজ।

কীভাবে যাবেন

শহরের উত্তরে নাসিরাবাদের কাছে; জিইসি মোড় থেকে সিএনজিতে প্রায় ২০ মিনিট।

ভ্রমণ টিপস

  • শালীন পোশাক পরুন: কাঁধ ও হাঁটু ঢাকা; নারীরা চুল ঢাকতে ওড়না বা স্কার্ফ রাখতে পারেন।
  • মাজার ও মসজিদে অন্যরা যেখানে জুতা খোলেন, সেখানে খুলে রাখুন।
  • কচ্ছপ ছোঁবেন না, বিরক্ত করবেন না, অনুপযুক্ত খাবার ছুড়বেন না; খাওয়াতে চাইলে তত্ত্বাবধায়কেরা যা অনুমতি দেন, তা-ই দিন।
  • নামাজ পড়তে না গেলে নামাজের সময় মসজিদে যাওয়া এড়িয়ে চলুন।
  • দান চাওয়া হতে পারে; ইচ্ছা হলেই দিন।

ঘুরে দেখুন