
বগুড়া, রাজশাহী
বগুড়া
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার: করতোয়ার তীরে ব্যস্ত বাণিজ্যশহর, যেখানে আছে বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগরস্থান মহাস্থানগড় আর দেশের সবচেয়ে বিখ্যাত মিষ্টি দই।
স্থানীয় খাবার
কোথায় খাবেন
কোথায় থাকবেন
সংস্কৃতি
বগুড়া বাংলার প্রাচীনতম সাংস্কৃতিক ভূমিগুলোর একটিতে, আর অতীত এখানে হাতের কাছে: মহাস্থানগড়ে শাহ সুলতান বলখীর মাজারে সারা বছর ভক্তরা আসেন।
- মনসামঙ্গলের বেহুলা-লখিন্দরের কাহিনি গোকুলের ঢিবিকে ঘিরে আজও শোনা যায়।
- শহরের গর্ব দই: মাটির হাঁড়িতে পাতা মিষ্টি দই, প্রায় সব অতিথিই বাড়ি নিয়ে যান।
- গাবতলীর পোড়াদহ মেলা শত বছরের পুরোনো শীতের মেলা, বিশাল নদীর মাছের জন্য বিখ্যাত।
- গ্রামের মেলা, বর্ষায় নৌকাবাইচ আর পহেলা বৈশাখের আয়োজন চলে কৃষির বছর ধরে।
ইতিহাস
বগুড়ার গল্প শুরু শহরের ঠিক উত্তরে মহাস্থানগড়ে: প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধনের রাজধানী, প্রাচীরঘেরা নগর পুণ্ড্রনগর, করতোয়ার তীরে হাজার বছরেরও বেশি সময় টিকে ছিল। তার চারপাশে বৌদ্ধবিহার, মন্দিরের ঢিবি আর গোকুলের ইটের সেই স্থাপনা, লোককথায় যাকে বলা হয় বেহুলার বাসরঘর।
জেলার নাম এসেছে নাসিরউদ্দিন বুগরা খান থেকে, যিনি ত্রয়োদশ শতকের শেষ দিকে দিল্লি সালতানাতের পক্ষে বাংলা শাসন করেছিলেন। মোগল ও ব্রিটিশ আমলে এটি ছিল ধান, পাট আর নদীবাণিজ্যের বাজার এলাকা; উনিশ শতকের গোড়ায় আলাদা জেলা হয়।
আজ বগুড়া উত্তরাঞ্চলের বাণিজ্যকেন্দ্র: ঢাকা–রংপুর মহাসড়ক শহরের ভেতর দিয়ে গেছে, উত্তরের প্রায় সব জেলার বাস এখান দিয়ে যায়। প্রাণবন্ত, কাজের শহর — আর মহাস্থানের ধ্বংসাবশেষে একদিন কাটানোর ভালো ঘাঁটি।
ভ্রমণের প্রস্তুতি
ভ্রমণের সেরা সময়
অক্টোবর থেকে মার্চ, যখন আবহাওয়া ঠান্ডা ও শুকনো, ধ্বংসাবশেষে হাঁটা আরামদায়ক
কীভাবে যাবেন
- ঢাকা থেকে: যমুনা সেতু হয়ে বাসে প্রায় ৪–৫ ঘণ্টা, দিনে ও রাতে বাস ছাড়ে; সেতুর কাছে যানজটে সময় বাড়তে পারে।
- রাজশাহী থেকে: বাসে প্রায় আড়াই ঘণ্টা।
- ট্রেনে: ঢাকা থেকে উত্তরের কিছু ট্রেন বগুড়া হয়ে চলে, আর জেলার দক্ষিণে সান্তাহার জংশন উত্তর-পশ্চিমের প্রধান রেলপথে। হালনাগাদ সময়সূচি দেখে নিন।
দূরপাল্লার বেশির ভাগ বাস শহরের প্রান্তে মহাসড়কে থামে; সেখান থেকে রিকশা বা অটোরিকশায় কেন্দ্রে যান।
শহরে চলাচল
- শহরে রিকশা আর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা; সাতমাথা শহরের কেন্দ্র।
- মহাস্থানগড়, গোকুল ও ভাসুবিহারের জন্য রংপুর সড়কের লোকাল বাস, অথবা আধা দিনের জন্য সিএনজি ভাড়া নিন।
- শেরপুর ও খেরুয়া মসজিদের জন্য ঢাকা মহাসড়কে দক্ষিণমুখী যেকোনো বাস সেখানে থামে।
- সিএনজির ভাড়া রওনার আগে ঠিক করে নিন।