ঢাকা

ঢাকেশ্বরী মন্দির

বাংলাদেশের জাতীয় মন্দির; অনেকের মতে এর নাম থেকেই ঢাকার নাম।

স্থানীয় খাবার

  • মিষ্টি

    ঢাকেশ্বরী মন্দির

    পুরান ঢাকার দোকানের রসগোল্লা, সন্দেশসহ নানা দুধের মিষ্টি — প্রসাদ হিসেবেও দেওয়া হয়।

  • ফুচকা ও চটপটি

    ঢাকেশ্বরী মন্দির

    শহরের প্রিয় পথখাবার, কাছের বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পাওয়া যায়।

  • বাকরখানি

    ঢাকেশ্বরী মন্দির

    পুরান ঢাকার মাটির তন্দুরের মচমচে স্তরের রুটি, চায়ের সঙ্গে খাওয়া হয়।

কোথায় খাবেন

  • লালবাগ ও চকবাজার

    পুরান ঢাকা

    অল্প দূরে দক্ষিণ-পশ্চিমে বিরিয়ানি ও কাবাবের দোকান, বাকরখানির দোকান আর চায়ের দোকান।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • টিএসসি ও নীলক্ষেত

    বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা

    ক্যাম্পাসের আশপাশে কম দামের ছাত্রদের খাবারের দোকান, চায়ের দোকান আর পথখাবার।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

কোথায় থাকবেন

  • ধানমন্ডি

    মধ্য ঢাকা

    মাঝারি মানের হোটেল আর রেস্তোরাঁ, আজিমপুর হয়ে অল্প দূরে।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • মতিঝিল ও পল্টন

    মধ্য ঢাকা

    কমলাপুর স্টেশন আর অনেক বাস কাউন্টারের কাছে কম খরচের হোটেল।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

সংস্কৃতি

ঢাকেশ্বরী রাজধানীর হিন্দু ধর্মীয় জীবনের কেন্দ্র। দুর্গাপূজায় মন্দির সাজানো হয়, মণ্ডপে প্রতিমা বসে, আর সব ধর্মের মানুষ দেখতে আসেন। কৃষ্ণের জন্মদিন উপলক্ষে শহরের জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রা ঐতিহ্যগতভাবে এখান থেকেই বের হয়। সাধারণ দিনের সন্ধ্যায় ঘণ্টা, শঙ্খ আর প্রদীপে আরতি দেখা মন্দিরের দৈনন্দিন রূপ দেখার শান্ত উপায়।

ইতিহাস

ঢাকেশ্বরী মন্দির বাংলাদেশের জাতীয় মন্দির এবং ঢাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু মন্দির। নামের অর্থ “ঢাকার ঈশ্বরী”, আর অনেকের বিশ্বাস, এর নাম থেকেই ঢাকা শহরের নাম।

প্রচলিত মতে, বারো শতকে সেন রাজবংশের রাজা বল্লাল সেন মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন, তবে আজকের স্থাপনাগুলো অনেক পরের এবং বহুবার সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মন্দিরটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরে সংস্কার করা হয়। ১৯৯৬ সালে এটি জাতীয় মন্দিরের মর্যাদা পায়।

মন্দির চত্বরে আছে দেবীর প্রধান মন্দির, শিবের কয়েকটি ছোট মন্দির, একটি পুকুর আর বড় আঙিনা। কথিত আছে, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় দেবীর মূল বিগ্রহ কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়; এখানে তার প্রতিরূপের পূজা হয়।

ভ্রমণ পরিকল্পনা

মন্দির, কেল্লা ও ক্যাম্পাস

আধা দিন
  1. ধাপ ১: সকালে ঢাকেশ্বরী

    নিরিবিলি থাকতে প্রধান মন্দির, শিবমন্দিরগুলো আর পুকুর দেখুন।

  2. ধাপ ২: লালবাগ কেল্লা

    রিকশায় অল্প পথ গেলেই অসমাপ্ত মোগল কেল্লা আর পরী বিবির সমাধি।

  3. ধাপ ৩: কার্জন হল

    উত্তরে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে লাল ইটের কার্জন হল আর কাছের শহীদ মিনার দেখুন।

  4. ধাপ ৪: টিএসসিতে চা

    টিএসসিতে ছাত্রছাত্রীদের ভিড়ে চা আর ফুচকা দিয়ে শেষ করুন।

মানচিত্র

গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)বড় মানচিত্র দেখুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

অক্টোবর থেকে মার্চ; সকালে বা সন্ধ্যারতির সময়। সাধারণত অক্টোবরে দুর্গাপূজায় সবচেয়ে জমজমাট।

কীভাবে যাবেন

পলাশী ও বকশীবাজারের কাছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিক দক্ষিণে; নীলক্ষেত বা আজিমপুর থেকে রিকশায়।

ভ্রমণ টিপস

  • শালীন পোশাক পরুন আর নির্দেশিত জায়গায় জুতা খুলে মন্দিরে ঢুকুন।
  • এটি উপাসনার স্থান: নিচু স্বরে কথা বলুন, আর মানুষ বা পূজার ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন।
  • ফটকে নিরাপত্তা তল্লাশি থাকতে পারে, বিশেষ করে উৎসবের সময়।
  • দুর্গাপূজায় খুব ভিড় হয় — দিনের শুরুতে যান, আর দামি জিনিস সাবধানে রাখুন।
  • রিকশায় অল্প দূরের লালবাগ কেল্লাও একসঙ্গে ঘুরে নিন।

ঘুরে দেখুন