নওগাঁ, রাজশাহী

দিবর দিঘি

পুরোনো এক দিঘি, যার পানির মাঝ থেকে উঠে গেছে গ্রানাইট পাথরের উঁচু স্তম্ভ — ঐতিহ্য অনুযায়ী একাদশ শতকের বরেন্দ্রের কৈবর্ত বিদ্রোহের সঙ্গে জড়িত।

স্থানীয় খাবার

  • কালাই রুটি

    দিবর দিঘি

    নজিপুরের দোকানে উত্তর-পশ্চিমের মাষকলাইয়ের রুটি।

  • বরেন্দ্রের আম

    দিবর দিঘি

    জুন–জুলাইয়ে কাছের সাপাহার আর পোরশার বাগানের আম।

কোথায় খাবেন

  • নজিপুর বাজার

    পত্নীতলা, নওগাঁ

    উপজেলা শহরের সাধারণ রেস্তোরাঁ আর চায়ের দোকান।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

কোথায় থাকবেন

ইতিহাস

একাদশ শতকের শেষ দিকে কৈবর্ত নেতা দিব্যের (দিব্যক) নেতৃত্বে বরেন্দ্রের মানুষ পাল রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে কিছুকালের জন্য অঞ্চলটি নিজেদের দখলে নেয় — সংস্কৃত কাব্য রামচরিতে বর্ণিত এই বিদ্রোহকে প্রায়ই বাংলার প্রথম কৃষক বিদ্রোহগুলোর একটি বলা হয়।

দিবর দিঘির নাম দিব্যের নামে, আর এর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে একখণ্ড গ্রানাইটের উঁচু পাথরের স্তম্ভ, ওপরের দিকে খোদাই করা বলয়। ঐতিহ্য অনুযায়ী কৈবর্ত শাসকেরা বিজয়ের স্মারক হিসেবে এটি স্থাপন করেন; ঐতিহাসিকেরা এর সঠিক উদ্দেশ্য নিয়ে নিশ্চিত নন, তবে সেই সময়ের সঙ্গে যুক্ত বিরল নিদর্শনগুলোর এটি একটি।

আজ দিঘিটি মাঠ আর গাছপালার মাঝে নিরিবিলি, আর পানির মাঝে দাঁড়ানো স্তম্ভটি উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দৃশ্যগুলোর একটি।

ভ্রমণ পরিকল্পনা

দিবর দিঘি ও পাহাড়পুর

এক দিন
  1. ধাপ ১: সকালে নওগাঁ থেকে রওনা

    সারা দিনের জন্য গাড়ি বা সিএনজি ভাড়া নিন।

  2. ধাপ ২: দিবর দিঘি

    পানির মাঝের স্তম্ভ দেখুন, পাড় ধরে হাঁটুন।

  3. ধাপ ৩: নজিপুরে দুপুরের খাবার

    বাজারে সাদামাটা খাবার।

  4. ধাপ ৪: বিকেলে পাহাড়পুর

    সোমপুর মহাবিহার ও জাদুঘর দেখে নওগাঁয় ফিরুন।

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

অক্টোবর থেকে মার্চ, যখন রাস্তা শুকনো আর পানি শান্ত

কীভাবে যাবেন

নওগাঁ শহরের উত্তর-পশ্চিমে পত্নীতলা উপজেলায়। পত্নীতলা বা নজিপুরগামী বাসে গিয়ে অটোরিকশায় দিঘিতে; সব মিলিয়ে প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা ধরে রাখুন, পথ স্থানীয়ভাবে জেনে নিন। ভাড়া গাড়িতে পাহাড়পুরের সঙ্গে মিলিয়ে ঘোরা সহজ।

ভ্রমণ টিপস

  • সুযোগ-সুবিধা প্রায় নেই: পানি আর হালকা খাবার নিয়ে যান।
  • বৃষ্টির পর পাড় কাদাময় হতে পারে; উপযুক্ত জুতা পরুন।
  • সাঁতরে স্তম্ভের কাছে যাবেন না, তাতে উঠবেন না।
  • গাড়ি অপেক্ষায় রাখুন, ফেরার বাহন কম মিলতে পারে।
  • ভাড়া গাড়িতে পাহাড়পুরের সঙ্গে মিলিয়ে সারা দিনের ভ্রমণ করুন।

ঘুরে দেখুন