দিনাজপুর, রংপুর

দিনাজপুর

উত্তর-পশ্চিমের ধানখেত আর লিচুবাগানের প্রাচীন জেলা; এখানে আছে দেশের সেরা পোড়ামাটির মন্দির কান্তজিউ, বিশাল রামসাগর দিঘি আর দিনাজপুর রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ।

স্থানীয় খাবার

  • কাটারিভোগ চাল

    দিনাজপুর

    দিনাজপুরের বিখ্যাত সরু, সুগন্ধি চাল, পোলাও আর উৎসবের রান্নায় ব্যবহৃত; অনেকে এক ব্যাগ বাড়ি নিয়ে যান।

  • কাটারিভোগের চিড়া

    দিনাজপুর

    একই সুগন্ধি ধানের চিড়া, দই, গুড় বা কলার সঙ্গে খাওয়া হয়।

  • লিচু

    দিনাজপুর

    দিনাজপুর দেশের সবচেয়ে পরিচিত লিচুর জেলা; স্বল্প মৌসুম মে মাসের শেষ থেকে জুন পর্যন্ত।

  • শিদল ও উত্তরাঞ্চলের ভর্তা

    দিনাজপুর

    গাঁজানো মাছের শিদলসহ নানা ঝাল ভর্তা, স্থানীয় হোটেলে ভাতের সঙ্গে।

কোথায় খাবেন

  • শহরের কেন্দ্র

    দিনাজপুর শহর

    কেন্দ্রীয় বাজার আর মোড়গুলোর আশপাশে রেস্তোরাঁ, মিষ্টির দোকান আর ভাতের হোটেল।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • মৌসুমের লিচুর বাজার

    দিনাজপুর শহর

    মে মাসের শেষ আর জুনে শহরজুড়ে থোকায় থোকায় লিচু বিক্রি হয়।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

কোথায় থাকবেন

  • দিনাজপুর শহর

    দিনাজপুর সদর

    বেশির ভাগ হোটেল শহরের কেন্দ্রে; কান্তজিউ, নয়াবাদ আর রামসাগর এখান থেকে সহজেই ঘুরে আসা যায়।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • সরকারি রেস্টহাউস

    দিনাজপুর

    কিছু রেস্টহাউসে আগে বুকিং দিয়ে থাকা যায়; স্থানীয়ভাবে জেনে নিন।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

সংস্কৃতি

দিনাজপুরে বাঙালি, সাঁওতাল, ওরাওঁসহ নানা জনগোষ্ঠীর বাস; তাঁদের গ্রাম, উৎসব আর নাচ জেলার জীবনের অংশ।

  • কার্তিক মাসের রাসপূর্ণিমা ঘিরে কান্তনগরের রাসমেলায় দূরদূরান্ত থেকে ভক্ত আর ব্যবসায়ীরা আসেন।
  • মেলায় আর আসরে শোনা যায় ভাওয়াইয়াসহ উত্তরাঞ্চলের লোকগান।
  • সুগন্ধি কাটারিভোগ ধানের খেত আর লিচুর বাগান ঘিরেই চলে জেলার বছর।

ইতিহাস

দিনাজপুর উত্তরবঙ্গের প্রাচীন বরেন্দ্র অঞ্চলের অংশ, আর বহু শতাব্দী ধরে এখানে শাসন চলেছে এ অঞ্চলের অন্যতম বড় জমিদার পরিবার দিনাজপুর রাজের হাতে। রাজারাই জেলাকে দিয়েছেন তার সবচেয়ে পরিচিত কীর্তিগুলো: আঠারো শতকের শুরুতে মহারাজা প্রাণনাথ কান্তজিউ মন্দিরের কাজ শুরু করেন, ১৭৫২ সালে তা শেষ করেন তাঁর পুত্র রামনাথ; শহরের দক্ষিণে বিশাল রামসাগর দিঘিও খনন করান রামনাথ।

মন্দিরের দেয়াল ঢাকা পোড়ামাটির অলংকরণে — হাজারো ফলকে রামায়ণ, মহাভারত আর কৃষ্ণলীলার কাহিনি, সঙ্গে শিকার, শোভাযাত্রা আর আঠারো শতকের বাংলার দৈনন্দিন জীবনের ছবি।

১৯৪৬–৪৭ সালে দিনাজপুর ছিল তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র, যখন বর্গাচাষিরা ফসলের দুই-তৃতীয়াংশ দাবি করেছিলেন। আজ এটি কৃষিপ্রধান জেলা, সারা দেশে পরিচিত সুগন্ধি চাল আর লিচুর জন্য।

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

ঘোরার জন্য অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি; কান্তনগরের রাসমেলার জন্য নভেম্বর; লিচুর জন্য মে মাসের শেষ থেকে জুন

কীভাবে যাবেন

  • বাসে: ঢাকা থেকে যমুনা সেতু হয়ে কোচে প্রায় ৮–৯ ঘণ্টা, বেশির ভাগই রাতের বাস।
  • ট্রেনে: ঢাকা থেকে দিনাজপুর স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেন চলে, রাতভর বা সারা দিনের যাত্রা।
  • আকাশপথে: ঢাকা থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে সৈয়দপুর, সেখান থেকে সড়কপথে দিনাজপুর ঘণ্টাখানেক।
  • রংপুর থেকে বাসে মোটামুটি ২–৩ ঘণ্টা।

শহরে চলাচল

  • শহরে রিকশা আর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সবখানে যায়, রাজবাড়িতেও।
  • কান্তজিউ ও নয়াবাদের জন্য দিনাজপুর–ঠাকুরগাঁও সড়কের বাস, অথবা আধা দিনের জন্য সিএনজি বা গাড়ি ভাড়া নিন।
  • রামসাগর শহরের দক্ষিণে, অটোরিকশায় অল্প পথ।

ঘুরে দেখুন