
দিনাজপুর, রংপুর
দিনাজপুর
উত্তর-পশ্চিমের ধানখেত আর লিচুবাগানের প্রাচীন জেলা; এখানে আছে দেশের সেরা পোড়ামাটির মন্দির কান্তজিউ, বিশাল রামসাগর দিঘি আর দিনাজপুর রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ।
স্থানীয় খাবার
কোথায় খাবেন
কোথায় থাকবেন
সংস্কৃতি
দিনাজপুরে বাঙালি, সাঁওতাল, ওরাওঁসহ নানা জনগোষ্ঠীর বাস; তাঁদের গ্রাম, উৎসব আর নাচ জেলার জীবনের অংশ।
- কার্তিক মাসের রাসপূর্ণিমা ঘিরে কান্তনগরের রাসমেলায় দূরদূরান্ত থেকে ভক্ত আর ব্যবসায়ীরা আসেন।
- মেলায় আর আসরে শোনা যায় ভাওয়াইয়াসহ উত্তরাঞ্চলের লোকগান।
- সুগন্ধি কাটারিভোগ ধানের খেত আর লিচুর বাগান ঘিরেই চলে জেলার বছর।
ইতিহাস
দিনাজপুর উত্তরবঙ্গের প্রাচীন বরেন্দ্র অঞ্চলের অংশ, আর বহু শতাব্দী ধরে এখানে শাসন চলেছে এ অঞ্চলের অন্যতম বড় জমিদার পরিবার দিনাজপুর রাজের হাতে। রাজারাই জেলাকে দিয়েছেন তার সবচেয়ে পরিচিত কীর্তিগুলো: আঠারো শতকের শুরুতে মহারাজা প্রাণনাথ কান্তজিউ মন্দিরের কাজ শুরু করেন, ১৭৫২ সালে তা শেষ করেন তাঁর পুত্র রামনাথ; শহরের দক্ষিণে বিশাল রামসাগর দিঘিও খনন করান রামনাথ।
মন্দিরের দেয়াল ঢাকা পোড়ামাটির অলংকরণে — হাজারো ফলকে রামায়ণ, মহাভারত আর কৃষ্ণলীলার কাহিনি, সঙ্গে শিকার, শোভাযাত্রা আর আঠারো শতকের বাংলার দৈনন্দিন জীবনের ছবি।
১৯৪৬–৪৭ সালে দিনাজপুর ছিল তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র, যখন বর্গাচাষিরা ফসলের দুই-তৃতীয়াংশ দাবি করেছিলেন। আজ এটি কৃষিপ্রধান জেলা, সারা দেশে পরিচিত সুগন্ধি চাল আর লিচুর জন্য।
ভ্রমণের প্রস্তুতি
ভ্রমণের সেরা সময়
ঘোরার জন্য অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি; কান্তনগরের রাসমেলার জন্য নভেম্বর; লিচুর জন্য মে মাসের শেষ থেকে জুন
কীভাবে যাবেন
- বাসে: ঢাকা থেকে যমুনা সেতু হয়ে কোচে প্রায় ৮–৯ ঘণ্টা, বেশির ভাগই রাতের বাস।
- ট্রেনে: ঢাকা থেকে দিনাজপুর স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেন চলে, রাতভর বা সারা দিনের যাত্রা।
- আকাশপথে: ঢাকা থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে সৈয়দপুর, সেখান থেকে সড়কপথে দিনাজপুর ঘণ্টাখানেক।
- রংপুর থেকে বাসে মোটামুটি ২–৩ ঘণ্টা।
শহরে চলাচল
- শহরে রিকশা আর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সবখানে যায়, রাজবাড়িতেও।
- কান্তজিউ ও নয়াবাদের জন্য দিনাজপুর–ঠাকুরগাঁও সড়কের বাস, অথবা আধা দিনের জন্য সিএনজি বা গাড়ি ভাড়া নিন।
- রামসাগর শহরের দক্ষিণে, অটোরিকশায় অল্প পথ।