ফরিদপুর, ঢাকা

ফরিদপুর

ঢাকার দক্ষিণ-পশ্চিমে পদ্মাতীরের জেলা, পল্লীকবি জসীমউদ্‌দীনের জন্মভূমি; আছে উঁচু মথুরাপুর দেউল, আর পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা থেকে সহজ পথ।

স্থানীয় খাবার

  • পদ্মার ইলিশ

    ফরিদপুর

    পদ্মার ইলিশ, ভাজা বা সর্ষে ইলিশ; বর্ষার মৌসুমে সবচেয়ে ভালো।

  • খেজুরের রস ও গুড়

    ফরিদপুর

    শীতে তাজা রস আর গুড়; কাঁচা রসে নিপাহ ভাইরাসের ঝুঁকি থাকে, তাই ফুটিয়ে খান।

  • নদীর মাছ

    ফরিদপুর

    পদ্মা আর কুমারের মাছ, ভাতের সঙ্গে তরকারিতে।

কোথায় খাবেন

  • ফরিদপুর শহরের কেন্দ্র

    ফরিদপুর শহর

    ভাত, মাছ, মাংসের রেস্তোরাঁ আর মিষ্টির দোকান।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • পদ্মার পাড়

    ফরিদপুর সদর

    নদীর ধারে চা আর হালকা খাবারের দোকান, সন্ধ্যায় ভিড় বেশি।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

কোথায় থাকবেন

  • ফরিদপুর শহর

    ফরিদপুর সদর

    বেশির ভাগ হোটেল শহরে; অম্বিকাপুর আর জেলার অন্য জায়গা ঘোরার ঘাঁটি।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • ঢাকা থেকে দিনভর ভ্রমণ

    ঢাকা

    পদ্মা সেতুর কারণে ঢাকা থেকে লম্বা এক দিনে ফরিদপুর শহর আর অম্বিকাপুর ঘুরে আসা যায়।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

সংস্কৃতি

ফরিদপুরের সংস্কৃতি জসীমউদ্‌দীনের লেখার সেই গ্রামবাংলা: নকশি কাঁথা, লোকগান আর নদীর জীবন।

  • জানুয়ারিতে কবির জন্মদিন ঘিরে অম্বিকাপুরে জসীম পল্লীমেলা বসে, লোকগান, কারুপণ্য আর খাবারের দোকান নিয়ে।
  • শহরে শাহ ফরিদের মাজারে সারা বছর মানুষ আসে।
  • পাট এখনো ব্যাপকভাবে চাষ হয়; বর্ষায় পাটখেত আর পাট জাগ দেওয়ার পুকুর প্রকৃতির অংশ।

ইতিহাস

সুফি সাধক শাহ ফরিদের নামে ফরিদপুরের নাম; তাঁর মাজার শহরেই। জেলাটি পদ্মার দক্ষিণ তীরে, আর নদী, চর আর পাটখেতের এই অঞ্চল দীর্ঘকাল বাংলার পাট উৎপাদনের অন্যতম বড় এলাকা ছিল।

এখানেই জন্ম জসীমউদ্‌দীনের — পল্লীকবি, যাঁর নকশী কাঁথার মাঠ, কবর-এর মতো কবিতা বাংলার গ্রামীণ জীবনকে ভাষা দিয়েছে। শহরের ঠিক বাইরে কুমার নদের তীরে অম্বিকাপুরে তাঁর পৈতৃক বাড়ি।

জেলায় আরও পুরোনো ঐতিহ্যও আছে, যেমন মধুখালীর উঁচু মথুরাপুর দেউল আর ভাঙ্গার পাথরাইলের সুলতানি আমলের মসজিদ। ২০২২ সালে পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা থেকে ফরিদপুর অল্প সময়ের সড়কপথ।

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি; অম্বিকাপুরে জসীম পল্লীমেলার জন্য জানুয়ারি।

কীভাবে যাবেন

  • ঢাকা থেকে বাসে: পদ্মা সেতু চালুর পর ফরিদপুরের বাস সেতু আর ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে চলে, বেশির ভাগ ছাড়ে সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী ও গুলিস্তান থেকে; যানজট বুঝে আড়াই থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা। গাবতলী থেকে কিছু বাস এখনো পাটুরিয়া–দৌলতদিয়া ফেরি হয়ে যায়।
  • খুলনা, যশোর ও কুষ্টিয়া থেকে: মাগুরা বা রাজবাড়ী হয়ে বাস চলে, খুলনা ও যশোর থেকে ৩–৪ ঘণ্টা।
  • ট্রেনে: পদ্মা সেতুর রেলপথ দিয়ে চলা ট্রেন ভাঙ্গা ও ফরিদপুরে থামে; পথ আর সময়সূচি এখনো বদলাচ্ছে, তাই হালনাগাদ সূচি দেখে নিন।

শহরে চলাচল

  • ফরিদপুর শহরে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা।
  • অম্বিকাপুর আর পদ্মার পাড়ে সিএনজি অটোরিকশা।
  • ভাঙ্গা, মধুখালী ও বোয়ালমারীতে লোকাল বাস।
  • এক দিনে মথুরাপুর আর পাথরাইল ঘুরতে গাড়ি বা সিএনজি ভাড়া নিন।

ঘুরে দেখুন