
ফরিদপুর, ঢাকা
ফরিদপুর
ঢাকার দক্ষিণ-পশ্চিমে পদ্মাতীরের জেলা, পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের জন্মভূমি; আছে উঁচু মথুরাপুর দেউল, আর পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা থেকে সহজ পথ।
স্থানীয় খাবার
কোথায় খাবেন
কোথায় থাকবেন
সংস্কৃতি
ফরিদপুরের সংস্কৃতি জসীমউদ্দীনের লেখার সেই গ্রামবাংলা: নকশি কাঁথা, লোকগান আর নদীর জীবন।
- জানুয়ারিতে কবির জন্মদিন ঘিরে অম্বিকাপুরে জসীম পল্লীমেলা বসে, লোকগান, কারুপণ্য আর খাবারের দোকান নিয়ে।
- শহরে শাহ ফরিদের মাজারে সারা বছর মানুষ আসে।
- পাট এখনো ব্যাপকভাবে চাষ হয়; বর্ষায় পাটখেত আর পাট জাগ দেওয়ার পুকুর প্রকৃতির অংশ।
ইতিহাস
সুফি সাধক শাহ ফরিদের নামে ফরিদপুরের নাম; তাঁর মাজার শহরেই। জেলাটি পদ্মার দক্ষিণ তীরে, আর নদী, চর আর পাটখেতের এই অঞ্চল দীর্ঘকাল বাংলার পাট উৎপাদনের অন্যতম বড় এলাকা ছিল।
এখানেই জন্ম জসীমউদ্দীনের — পল্লীকবি, যাঁর নকশী কাঁথার মাঠ, কবর-এর মতো কবিতা বাংলার গ্রামীণ জীবনকে ভাষা দিয়েছে। শহরের ঠিক বাইরে কুমার নদের তীরে অম্বিকাপুরে তাঁর পৈতৃক বাড়ি।
জেলায় আরও পুরোনো ঐতিহ্যও আছে, যেমন মধুখালীর উঁচু মথুরাপুর দেউল আর ভাঙ্গার পাথরাইলের সুলতানি আমলের মসজিদ। ২০২২ সালে পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা থেকে ফরিদপুর অল্প সময়ের সড়কপথ।
ভ্রমণের প্রস্তুতি
ভ্রমণের সেরা সময়
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি; অম্বিকাপুরে জসীম পল্লীমেলার জন্য জানুয়ারি।
কীভাবে যাবেন
- ঢাকা থেকে বাসে: পদ্মা সেতু চালুর পর ফরিদপুরের বাস সেতু আর ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে চলে, বেশির ভাগ ছাড়ে সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী ও গুলিস্তান থেকে; যানজট বুঝে আড়াই থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা। গাবতলী থেকে কিছু বাস এখনো পাটুরিয়া–দৌলতদিয়া ফেরি হয়ে যায়।
- খুলনা, যশোর ও কুষ্টিয়া থেকে: মাগুরা বা রাজবাড়ী হয়ে বাস চলে, খুলনা ও যশোর থেকে ৩–৪ ঘণ্টা।
- ট্রেনে: পদ্মা সেতুর রেলপথ দিয়ে চলা ট্রেন ভাঙ্গা ও ফরিদপুরে থামে; পথ আর সময়সূচি এখনো বদলাচ্ছে, তাই হালনাগাদ সূচি দেখে নিন।
শহরে চলাচল
- ফরিদপুর শহরে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা।
- অম্বিকাপুর আর পদ্মার পাড়ে সিএনজি অটোরিকশা।
- ভাঙ্গা, মধুখালী ও বোয়ালমারীতে লোকাল বাস।
- এক দিনে মথুরাপুর আর পাথরাইল ঘুরতে গাড়ি বা সিএনজি ভাড়া নিন।