
গাজীপুর, ঢাকা
গাজীপুর
ঢাকার ব্যস্ত উত্তরের প্রতিবেশী, যেখানে কারখানা আর গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পাশেই টিকে আছে পুরোনো ভাওয়ালের শালবন — রাজধানী থেকে সবুজ ছায়ায় যাওয়ার সবচেয়ে সহজ পথ।
স্থানীয় খাবার
কোথায় খাবেন
কোথায় থাকবেন
সংস্কৃতি
গাজীপুরে পুরোনো ভাওয়ালের রীতি মিশেছে শিল্পনগরীর নতুন জীবনের সঙ্গে, যেখানে এখন দেশের সব প্রান্তের মানুষ থাকেন ও কাজ করেন।
- কাঁঠালের দেশ: কাপাসিয়া ও শ্রীপুরের লাল মাটির গ্রামগুলো কাঁঠালের জন্য পরিচিত, গ্রীষ্মের শুরুতে রাস্তার ধারে বিক্রি হয়।
- ভাওয়ালের বনগ্রামে বহুদিন ধরে বাস করে গারো ও অন্যান্য ছোট জনগোষ্ঠী।
- শীত পিকনিকের মৌসুম: ঢাকা থেকে পরিবার আর অফিসের দল নিয়ে শালবন ভরে ওঠে।
ইতিহাস
গাজীপুর দীর্ঘদিন ঢাকা জেলার অংশ ছিল, ১৯৮৪ সালে আলাদা জেলা হয়। শত শত বছর এই অঞ্চল ভাওয়াল নামে পরিচিত ছিল, জয়দেবপুর থেকে শাসন করা ভাওয়াল জমিদারির নামে। গোটা বাংলায় এই জমিদারি স্মরণীয় হয়ে আছে ভাওয়াল সন্ন্যাসী মামলার জন্য — এক সন্ন্যাসী নিজেকে জমিদারির সেই কুমার বলে দাবি করেছিলেন, যিনি বহু বছর আগে মারা গেছেন বলে সবাই জানত, আর তা নিয়ে চলেছিল দীর্ঘ আইনি লড়াই।
এখানকার লাল মাটির উঁচু ভূমিতে একসময় ছিল অবিচ্ছিন্ন শালবন। তার অনেকটাই কেটে ফেলা হয়েছে, তবে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান আর শ্রীপুর ও কালিয়াকৈরের আশপাশের বনভূমি সেই পুরোনো রূপ ধরে রেখেছে।
১৯৭১ সালের মার্চে জয়দেবপুরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম দিকের সশস্ত্র প্রতিরোধগুলোর একটি হয়েছিল, জেলা আজও তা স্মরণ করে। আজকের গাজীপুর দেশের অন্যতম বড় শিল্পাঞ্চল, পোশাক কারখানায় ভরা, আর এখানে আছে কৃষি গবেষণার জাতীয় প্রতিষ্ঠান ও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়।
ভ্রমণের প্রস্তুতি
ভ্রমণের সেরা সময়
বনে হাঁটার জন্য নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি, ঠান্ডা ও শুকনো; বর্ষায় বন সবুজ, তবে কাদা থাকে
কীভাবে যাবেন
- বাসে: ঢাকা (মহাখালী, গুলিস্তান ও বিমানবন্দর সড়ক) থেকে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক ধরে গাজীপুর চৌরাস্তা, জয়দেবপুর, রাজেন্দ্রপুর ও শ্রীপুরে ঘন ঘন বাস চলে। দূরত্ব কম, কিন্তু সময় ঠিক করে যানজট: ১–২ ঘণ্টা ধরে রাখুন, অফিস সময়ে আরও বেশি। কালিয়াকৈর ও চন্দ্রার বাস যায় ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে।
- ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল থেকে: ঢাকাগামী বাস গাজীপুর হয়েই যায়, প্রায় ২–৩ ঘণ্টা।
- ট্রেনে: জয়দেবপুর ও টঙ্গী ঢাকার উত্তরের রেলপথের জংশন; কমলাপুর ও বিমানবন্দর স্টেশন থেকে অনেক কমিউটার ও আন্তঃনগর ট্রেন এখানে থামে।
শহরে চলাচল
- চৌরাস্তা, জয়দেবপুর, রাজেন্দ্রপুর ও শ্রীপুরের মধ্যে মহাসড়ক ধরে লোকাল বাস ও লেগুনা চলে।
- মহাসড়ক থেকে ভেতরের ছোট পথে সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটো।
- নুহাশ পল্লী বা সারা দিনের ঘোরাঘুরির জন্য দিনভর গাড়ি বা সিএনজি ভাড়া নেওয়াই সহজ।
- কারখানার শিফট বদলের সময় মহাসড়ক এড়িয়ে চলুন, তখন যানজট সবচেয়ে বেশি।