বগুড়া, রাজশাহী

গোকুল মেধ (বেহুলার বাসরঘর)

মহাস্থানগড়ের কাছে ধাপে ধাপে উঠে যাওয়া ইটের বিশাল ঢিবি, মাটি-ভরা অসংখ্য কুঠুরিতে গড়া — সবার কাছে যা বেহুলা-লখিন্দরের বাসরঘর নামে পরিচিত।

স্থানীয় খাবার

  • কটকটি

    গোকুল মেধ (বেহুলার বাসরঘর)

    কাছের মহাস্থানগড় বাজারের গুড়ের মচমচে মিষ্টি।

  • বগুড়ার দই

    গোকুল মেধ (বেহুলার বাসরঘর)

    মাটির হাঁড়ির মিষ্টি দই, ফেরার পথে শহর থেকে কেনাই ভালো।

কোথায় খাবেন

  • মহাস্থানগড় বাজার

    শিবগঞ্জ, বগুড়া

    কয়েক কিলোমিটার উত্তরে সাধারণ খাবারের দোকান ও চায়ের দোকান।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • বগুড়া শহর

    গোকুল মেধ (বেহুলার বাসরঘর)

    সাতমাথার আশপাশে রেস্তোরাঁ আর মিষ্টির দোকানের পুরো বাছাই।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

কোথায় থাকবেন

  • বগুড়া শহর

    গোকুল মেধ (বেহুলার বাসরঘর)

    শহর থেকে অল্প পথ; সব হোটেলই শহরে।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

সংস্কৃতি

বেহুলা-লখিন্দরের কাহিনি সাপের দেবী মনসাকে নিয়ে বাংলা কাব্যধারা মনসামঙ্গলের অংশ। উত্তরের গ্রামে গ্রামে আজও তা গাওয়া ও অভিনীত হয়, আর বগুড়ায় এই ঢিবি সেই কাহিনিরই অংশ।

ইতিহাস

গোকুল মেধ ধানখেতের মাঝে উঠে যাওয়া উঁচু, ধাপে ধাপে গড়া ইটের ঢিবি। ১৯৩০-এর দশকে খননে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা দেখেন, এটি নিরেট কোনো ভবন নয়, বরং মাটি-ভরা অনেকগুলো ছোট বন্ধ ইটের কুঠুরিতে তৈরি এক মঞ্চ — ওপরে কিছু নির্মাণের জন্য উঁচু ও মজবুত ভিত গড়ার কৌশল।

পণ্ডিতেরা একে মোটামুটি ষষ্ঠ–সপ্তম শতকের বলে মনে করেন; ধারণা করা হয় এর ওপরে ছিল বৌদ্ধ স্তূপ বা মন্দির। কেউ কেউ একে মহাস্থান যাওয়ার পথ পাহারার চৌকি বলেও ব্যাখ্যা করেন। যা-ই হোক, এটি কয়েক কিলোমিটার উত্তরের প্রাচীন পুণ্ড্রনগরেরই বৃহত্তর জগতের অংশ।

লোকবিশ্বাস অবশ্য অন্য গল্প বলে। কথিত আছে, এখানেই বণিক চাঁদ সওদাগর ছেলে লখিন্দরের বাসররাতের জন্য লোহার ঘর বানিয়েছিলেন, যাতে সাপের দেবী মনসা ঢুকতে না পারেন — আর নববধূ বেহুলা হয়ে ওঠেন মনসামঙ্গলের নায়িকা। তাই বেশির ভাগ মানুষ একে বেহুলার বাসরঘর নামেই চেনেন।

ভ্রমণ পরিকল্পনা

প্রাচীন পুণ্ড্রনগর ঘিরে আধা দিন

আধা দিন
  1. ধাপ ১: সকালে বগুড়া থেকে রওনা

    সকালের জন্য সিএনজি ভাড়া নিন; কোথায় কোথায় থামবেন আর ভাড়া আগেই ঠিক করুন।

  2. ধাপ ২: গোকুল মেধে ওঠা

    ইটের ধাপ বেয়ে উঠে মাঠের ওপারে মহাস্থানের দিকে তাকান।

  3. ধাপ ৩: মহাস্থানগড়

    দুর্গনগরীর প্রাচীর ধরে হাঁটুন, জাদুঘর আর শাহ সুলতান বলখীর মাজার দেখুন।

  4. ধাপ ৪: কটকটি আর দুপুরের খাবার

    বাজারে খেয়ে এক ব্যাগ কটকটি কিনুন, তারপর ফিরে আসুন বা ভাসুবিহারের দিকে যান।

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

অক্টোবর থেকে মার্চ; নরম আলো আর কম ভিড়ের জন্য সকাল বা পড়ন্ত বিকেল

কীভাবে যাবেন

বগুড়া শহর থেকে উত্তরে প্রায় ১০ কিলোমিটার, রংপুর মহাসড়ক থেকে অল্প ভেতরে গোকুল গ্রামে, মহাস্থানগড়ের প্রায় ২–৩ কিলোমিটার দক্ষিণে। শহর থেকে সিএনজিতে, অথবা লোকাল বাসে গোকুল নেমে বাকিটা অটোরিকশায়।

ভ্রমণ টিপস

  • মহাস্থানগড় ও ভাসুবিহারের সঙ্গে মিলিয়ে আধা দিনে ঘুরে নিন।
  • খাঁজওয়ালা জুতা পরুন: ইটের ধাপ অসমান, বৃষ্টির পর পিচ্ছিল হতে পারে।
  • ওপরে ছায়া কম — পানি আর টুপি সঙ্গে রাখুন।
  • ভঙ্গুর দেয়ালে উঠবেন না, ইট নেবেন না; এটি সংরক্ষিত প্রত্নস্থল।
  • ছুটির দিনে ভিড় বেশি; কর্মদিবসের সকাল সবচেয়ে নিরিবিলি।

ঘুরে দেখুন