
হবিগঞ্জ, সিলেট
হবিগঞ্জ
সিলেটের দক্ষিণের প্রবেশদ্বার: পূর্ব সীমান্তে চা-বাগান আর পাহাড়ি বন, পশ্চিমে বিস্তীর্ণ হাওর, আর উল্লুক ও ধনেশের আবাস সাতছড়ি ও রেমা-কালেঙ্গার বন।
স্থানীয় খাবার
কোথায় খাবেন
কোথায় থাকবেন
সংস্কৃতি
হবিগঞ্জে চা-বাগান, বন আর হাওরের সংস্কৃতি মিলেমিশে আছে।
- চুনারুঘাট, মাধবপুর ও বাহুবলের অসংখ্য বাগানে চা-জনগোষ্ঠীর বাস — নিজস্ব ভাষা, গান আর ফাগুয়ার মতো উৎসব নিয়ে।
- বনের ভেতরে ও আশপাশে ত্রিপুরাদের গ্রাম; সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ভেতরেও একটি আছে।
- পশ্চিমের হাওরের জীবন পানির নিয়মে চলে: শুকনো মাসে বোরো ধান, বর্ষায় মাছ ধরা আর নৌকা।
- মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস: ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিলের তেলিয়াপাড়া বৈঠকের স্মৃতি ধরে রেখেছে চা-বাগানের স্মৃতিসৌধ।
- বৃহত্তর সিলেটের মরমি ও লোকগানের ধারা এখানেও জীবন্ত — গ্রামের আসরে আর মাজারে গাওয়া হয়।
ইতিহাস
ঢাকা থেকে সিলেট বিভাগে ঢুকতে প্রথম জেলা হবিগঞ্জ। পূর্বে ত্রিপুরা সীমান্তের নিচু টিলা থেকে পশ্চিমে বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ ও লাখাইয়ের হাওর পর্যন্ত এর বিস্তার; মাঝখান দিয়ে হবিগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে খোয়াই নদী।
পূর্বের টিলা চা আর বনের দেশ। চুনারুঘাট, মাধবপুর ও বাহুবলে ব্রিটিশ চা-করেরা বাগান গড়েন, আর তাদের ফাঁকে টিকে থাকা বন — সাতছড়ি ও রেমা-কালেঙ্গা — দেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ বনগুলোর অন্যতম। তেলিয়াপাড়া চা-বাগানে ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল বাঙালি জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তারা মুক্তিযুদ্ধের পরিকল্পনা করতে বৈঠকে বসেন; সেখানে এখন স্মৃতিসৌধ।
পশ্চিমে হাওর আর পুরোনো গ্রামের দেশ। প্রায়ই এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ গ্রাম বলা হয় যে বানিয়াচংকে, সেখানে আছে স্থানীয় শাসকদের আমলের পুরোনো মসজিদ আর বড় বড় দিঘি। মাটির নিচে হবিগঞ্জে আছে দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসক্ষেত্রও।
বেশির ভাগ পর্যটক হবিগঞ্জে থামেন বন আর চা-বাগানের জন্য — ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক থেকে সহজেই ঘুরে আসা যায়।
ভ্রমণের প্রস্তুতি
ভ্রমণের সেরা সময়
বনে হাঁটা ও শুকনো পথের জন্য নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি; সবুজ চা-বাগান আর ভরা হাওরের জন্য জুন থেকে সেপ্টেম্বর
কীভাবে যাবেন
- ঢাকা থেকে বাসে: হবিগঞ্জ শহরে প্রায় সাড়ে ৩ থেকে সাড়ে ৪ ঘণ্টা, সাধারণত ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের শায়েস্তাগঞ্জ হয়ে। ঢাকা–সিলেটের বাসও শায়েস্তাগঞ্জে থামে এবং সাতছড়ি ও তেলিয়াপাড়ার কাছ দিয়ে যায়।
- ঢাকা থেকে ট্রেনে: ঢাকা–সিলেটের ট্রেন শায়েস্তাগঞ্জ জংশনে থামে; সেখান থেকে সিএনজি বা অটোরিকশায় হবিগঞ্জ শহর ২০–৩০ মিনিট।
- সিলেট থেকে: বাসে হবিগঞ্জ শহরে প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা; শায়েস্তাগঞ্জে ট্রেনও চলে।
শহরে চলাচল
- হবিগঞ্জ শহর ও শায়েস্তাগঞ্জে রিকশা, অটোরিকশা ও সিএনজি।
- সাতছড়ি, তেলিয়াপাড়া ও রেমা-কালেঙ্গার জন্য সারা দিনের জন্য সিএনজি বা গাড়ি ভাড়া নিন; চুনারুঘাট পর্যন্ত লোকাল বাস ও সিএনজিও চলে।
- রেমা-কালেঙ্গার রাস্তা জায়গায় জায়গায় খারাপ; বৃষ্টির পর জিপ ও মোটরসাইকেলই ভালো চলে।
- বর্ষায় পশ্চিমের হাওরে (বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ) চলাচলের উপায় নৌকা; রওনার আগে ভাড়া ঠিক করুন।