
যশোর, খুলনা
যশোর
বাংলার অন্যতম প্রাচীন জেলা, শীতের খেজুর গুড়, গদখালীর ফুলের মাঠ, সাগরদাঁড়িতে কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মভিটা আর ভারতে যাওয়ার বেনাপোল সীমান্তের জন্য বিখ্যাত।
স্থানীয় খাবার
কোথায় খাবেন
কোথায় থাকবেন
সংস্কৃতি
পুরোনো প্রবাদ আছে — “যশোরের যশ, খেজুরের রস”।
- খেজুর গুড়: হেমন্তের শেষ থেকে গাছিরা প্রতি বিকেলে খেজুরগাছ কেটে হাঁড়ি বাঁধেন, ভোরে রস নামান। সেই রস টাটকা খাওয়া হয়, আবার জ্বাল দিয়ে তরল ঝোলা গুড় আর শক্ত পাটালি বানানো হয় — সারা দেশের শীতের পিঠার মূল উপকরণ।
- গদখালীর ফুল: ঝিকরগাছার গ্রামগুলোতে বড় পরিসরে রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস, গোলাপ, গাঁদা আর জারবেরার চাষ হয়; গদখালীর ভোরের ফুলের বাজার থেকে দেশের বড় অংশে ফুল যায়, পয়লা ফাল্গুন, ভালোবাসা দিবস আর ২১ ফেব্রুয়ারির আগে বেচাকেনা সবচেয়ে বেশি।
- বাংলা কবিতায় অমিত্রাক্ষর ছন্দ ও সনেটের প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪–১৮৭৩) কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়িতে জন্মেছিলেন; প্রতি জানুয়ারিতে তাঁর জন্মদিন ঘিরে সেখানে মধুমেলা বসে।
- উনিশ শতকের নীল বিদ্রোহের অন্যতম কেন্দ্র ছিল যশোর; সে গল্প এ অঞ্চলে আজও লোকমুখে ফেরে।
ইতিহাস
যশোর দেশের অন্যতম প্রাচীন জেলা; ব্রিটিশরা ১৭৮১ সালে একে জেলা ঘোষণা করে। নামটি আরও পুরোনো — ষোড়শ শতকের শেষ দিকের বারো ভূঁইয়াদের অন্যতম রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজ্যের কথা মনে করিয়ে দেয়, যাঁর রাজধানী ছিল আজকের সাতক্ষীরায়।
উনিশ শতকে এই অঞ্চল ছিল নীল বিদ্রোহের কেন্দ্র; কৃষকেরা ইউরোপীয় নীলকরদের জন্য নীল চাষ করতে অস্বীকার করেছিলেন। গ্রামে গ্রামে এখনো পুরোনো নীলকুঠির ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর যশোর শত্রুমুক্ত হয় — মুক্তিযুদ্ধে প্রথম মুক্ত হওয়া জেলাগুলোর একটি।
আজকের যশোর ভৈরব নদের তীরে ব্যস্ত বাণিজ্যিক শহর, দক্ষিণ-পশ্চিমের প্রবেশদ্বার। ঢাকা, খুলনা আর বেনাপোল স্থলবন্দরের মধ্যকার প্রধান সড়ক ও রেলপথ এর ওপর দিয়েই গেছে, আর এর গ্রামাঞ্চল খেজুরগাছ, ফুল আর সবজির জন্য সারা দেশে পরিচিত।
ভ্রমণের প্রস্তুতি
ভ্রমণের সেরা সময়
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি — খেজুর গুড় আর ফুলের মাঠের ভরা মৌসুম
কীভাবে যাবেন
- ঢাকা থেকে বাসে: পদ্মা সেতু হয়ে প্রায় ৪–৫ ঘণ্টা, দিনে ও রাতে বাস ছাড়ে; কিছু বাস এখনো পাটুরিয়া–দৌলতদিয়া ফেরি হয়ে চলে, তাতে সময় বেশি লাগে।
- খুলনা থেকে বাসে: প্রায় দেড় ঘণ্টা; সারা দিন ঘন ঘন বাস চলে।
- ট্রেনে: আন্তঃনগর ট্রেনে যশোর থেকে ঢাকা (পদ্মা সেতুর রেলপথ হয়ে), খুলনা ও রাজশাহী যাওয়া যায়। যাত্রার আগে সর্বশেষ সময়সূচি দেখে নিন।
- বিমানে: যশোর বিমানবন্দর থেকে ঢাকার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলে, এক ঘণ্টার কম সময় লাগে।
শহরে চলাচল
- শহরে রিকশা আর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা (ইজিবাইক) সব জায়গায় যায়; দড়াটানা শহরের কেন্দ্রীয় মোড়।
- যশোর–বেনাপোল সড়কে ঘন ঘন বাস চলে, পথে গদখালী পড়ে।
- সাগরদাঁড়ি যেতে বাসে কেশবপুর, তারপর স্থানীয় অটোরিকশা; অথবা সারা দিনের জন্য সিএনজি বা গাড়ি ভাড়া নিন।
- গাড়ি ভাড়া নিলে এক দিনে গদখালী ও বেনাপোল, কিংবা সাগরদাঁড়ি ঘুরে আসা সহজ।