দিনাজপুর, রংপুর

কান্তজিউ মন্দির

আঠারো শতকের কৃষ্ণমন্দির, যার প্রতিটি দেয়াল পোড়ামাটির ফলকে ঢাকা — বাংলার পোড়ামাটির মন্দিরশিল্পের সেরা নিদর্শন।

স্থানীয় খাবার

  • কাটারিভোগের চিড়া-দই

    কান্তজিউ মন্দির

    সুগন্ধি চিড়া, দই আর গুড় — সহজ স্থানীয় নাশতা।

  • মেলার মিষ্টি

    কান্তজিউ মন্দির

    রাসমেলায় দোকানে মেলে বাতাসা, জিলাপি আর মেলার নানা মিষ্টি।

কোথায় খাবেন

  • কান্তনগরের দোকান

    মন্দিরের কাছে

    শুধু চা আর হালকা খাবার; পুরো খাবার দিনাজপুর শহরে খান।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

কোথায় থাকবেন

  • দিনাজপুর শহর

    দিনাজপুর সদর

    শহর থেকে মন্দির আধা দিনের ভ্রমণ; হোটেল শহরেই।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

সংস্কৃতি

কার্তিকের রাসপূর্ণিমা ঘিরে রাসমেলায় কান্তনগর কয়েক সপ্তাহের জন্য বড় মেলায় পরিণত হয়: মন্দিরে পূজা, কারুপণ্য, মিষ্টি আর গৃহস্থালি জিনিসের দোকান, আর উত্তরাঞ্চলের নানা জায়গা থেকে আসা মানুষ।

ইতিহাস

কান্তজিউ মন্দিরের নির্মাণ শুরু করেন দিনাজপুরের মহারাজা প্রাণনাথ, আঠারো শতকের গোড়ায়; ১৭৫২ সালে কাজ শেষ করেন তাঁর পুত্র রাজা রামনাথ। মন্দিরটি কান্তজি রূপে শ্রীকৃষ্ণকে উৎসর্গ করা। মূলত এটি ছিল তিনতলা, চূড়ায় নয়টি শিখর — নবরত্ন; ১৮৯৭ সালের বড় ভূমিকম্পে শিখরগুলো ভেঙে পড়ে।

যা টিকে আছে, তা অসাধারণ। বাইরের দেয়াল ভিত থেকে ছাদ পর্যন্ত পোড়ামাটির ফলকে ঢাকা: রামায়ণ-মহাভারতের দৃশ্য, কৃষ্ণলীলা আর আঠারো শতকের বাংলার জীবন — শিকার, নৌকা, সৈন্য, শোভাযাত্রা আর গ্রামীণ দৃশ্য। এত সমৃদ্ধ পোড়ামাটির অলংকরণ বাংলাদেশের আর কোনো মন্দিরে নেই।

ভ্রমণ পরিকল্পনা

কান্তজিউ ও নয়াবাদ

আধা দিন
  1. ধাপ ১: দিনাজপুর থেকে উত্তরে

    ঠাকুরগাঁও সড়ক ধরে বাস বা সিএনজিতে কান্তনগর।

  2. ধাপ ২: পোড়ামাটির দেয়াল

    এক ঘণ্টা ধরে মন্দির প্রদক্ষিণ করে ফলকের কাহিনিগুলো দেখুন।

  3. ধাপ ৩: নয়াবাদ মসজিদ

    কয়েক কিলোমিটার এগিয়ে একই যুগের আঠারো শতকের মসজিদটি দেখুন।

  4. ধাপ ৪: শহরে ফেরা

    দুপুরের খাবারের জন্য দিনাজপুরে ফিরুন।

মানচিত্র

গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)বড় মানচিত্র দেখুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি; কার্তিকের পূর্ণিমায় (সাধারণত নভেম্বর) রাসমেলা জমজমাট, তবে ভিড় বেশি

কীভাবে যাবেন

দিনাজপুর শহর থেকে ঠাকুরগাঁও সড়কে উত্তরে প্রায় ২০ কিলোমিটার, ঢেপা নদীর পাশে কান্তনগরে; বাস, সিএনজি বা গাড়িতে প্রায় ৪০ মিনিট।

ভ্রমণ টিপস

  • এটি চালু মন্দির: যেখানে বলা হয় জুতা খুলুন, শালীন পোশাক পরুন, পূজার সময় চুপ থাকুন।
  • চার দিক ধীরে ধীরে ঘুরে দেখুন; প্রতিটি দেয়ালে আলাদা কাহিনি, নিচের সারির ফলকগুলো দেখা সবচেয়ে সহজ।
  • পোড়ামাটির ফলক ছোঁবেন না বা গায়ে হেলান দেবেন না।
  • ছবির জন্য সকাল বা পড়ন্ত বিকেলের আলোয় নকশা সবচেয়ে স্পষ্ট দেখায়।
  • একই যাত্রায় কাছের নয়াবাদ মসজিদও দেখে নিন।

ঘুরে দেখুন