খুলনা

খুলনা

রূপসার তীরের নদীর শহর ও সুন্দরবনের প্রধান প্রবেশদ্বার; চিংড়ি, চুইঝালের খাসির মাংস আর কাছেই ঠাকুর পরিবারের শিকড়ের জন্য পরিচিত।

স্থানীয় খাবার

  • চুইঝালের খাসি বা গরুর মাংস

    খুলনা

    চুই লতার ঝাঁঝালো কাণ্ড দিয়ে রান্না মাংস, যার ঝাল উষ্ণ আর দীর্ঘস্থায়ী। চুকনগরের রাস্তার ধারের হোটেলগুলো এর জন্য বিখ্যাত।

  • গলদা ও বাগদা চিংড়ি

    খুলনা

    এ অঞ্চলের খামারের গলদা ও বাগদা চিংড়ি, নারকেলের দুধে মালাইকারি বা ঝাল ভুনা।

  • সুন্দরবনের মধু

    খুলনা

    মৌয়ালদের সংগ্রহ করা বুনো মধু, শহরের বাজারে পাওয়া যায়; বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে কিনুন।

  • নদী ও উপকূলের মাছ

    খুলনা

    ভেটকি, পারশে, কাঁকড়া আর মৌসুমে ইলিশ — ভাজা, সরষেবাটায় বা পাতলা ঝোলে।

কোথায় খাবেন

  • চুকনগর

    ডুমুরিয়া, খুলনা

    সাতক্ষীরা সড়কের মোড়ের বাজার, যেখানকার রাস্তার ধারের হোটেল কয়েক দশক ধরে চুইঝালের খাসির মাংস রাঁধে।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • শিববাড়ি ও শহরের কেন্দ্র

    খুলনা শহর

    কেন্দ্রীয় মোড়গুলোর আশপাশে রেস্তোরাঁ, ফাস্ট ফুড আর মিষ্টির দোকান।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • রূপসার পাড়

    খুলনা শহর

    সন্ধ্যায় ঘাটের ধারে আর সেতুর কাছে চা ও হালকা খাবারের দোকান।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

কোথায় থাকবেন

  • খুলনা শহরের কেন্দ্র

    খুলনা শহর

    সাধারণ থেকে ব্যবসায়িক মানের বেশির ভাগ হোটেল কেন্দ্রে, বাস কাউন্টার আর নদীর পাড়ের কাছে।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • সুন্দরবনের পর্যটক নৌযানে

    খুলনা বা মোংলা থেকে

    কয়েক দিনের সুন্দরবন ভ্রমণে রাত কাটে লাইসেন্সপ্রাপ্ত পর্যটক নৌযানে, কেবিন ও খাবারসহ।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

সংস্কৃতি

খুলনার জীবন চলে নদী আর দক্ষিণের বনের ছন্দে।

  • দাকোপ ও কয়রার মৌয়াল মধু সংগ্রাহক আর কাঠ ও গোলপাতা কাটা বাওয়ালিরা মৌসুমে সুন্দরবনে যান; অনেকে বনের রক্ষাকর্ত্রী বনবিবির পূজা বা মানত করেন, হিন্দু-মুসলমান উভয়েই যাঁকে শ্রদ্ধা করেন।
  • গ্রামাঞ্চলের চেহারা গড়ে দিয়েছে মাছ ধরা আর চিংড়ি চাষ: উপকূলের কাছে বাগদার ঘের, আর একটু ভেতরে গলদার খামার।
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পারিবারিক শিকড় রূপসা উপজেলার পিঠাভোগে, আর তাঁর স্ত্রী মৃণালিনী দেবী ফুলতলার দক্ষিণডিহির মেয়ে; তাঁর পৈতৃক বাড়ি এখন জাদুঘর।
  • পাটকল, শিপইয়ার্ড আর বন্দর-বাণিজ্যের কর্মব্যস্ত শহর খুলনা, সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণবন্ত তরুণেরা।

ইতিহাস

খুলনা গড়ে উঠেছে ভৈরব আর রূপসা নদীর মিলনস্থলে, দক্ষিণে সুন্দরবন পর্যন্ত বিস্তৃত জোয়ার-ভাটার ব-দ্বীপের কিনারায়। শত শত বছর ধরে নদীই ছিল এখানকার পথ; বন থেকে ধান, কাঠ, গোলপাতা আর মধু যেত বাংলার নানা হাটে। ১৮৮২ সালে খুলনা আলাদা জেলা হয়, আর শহরটি হয়ে ওঠে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কেন্দ্র।

বিংশ শতাব্দীতে খুলনা শিল্পনগরী হয়ে ওঠে: নদীর তীর ধরে পাটকল, জাহাজ নির্মাণ কারখানা আর খালিশপুরের কলকারখানা, আর কাছের মোংলা সমুদ্রবন্দর অঞ্চলটিকে বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত করে। আজ খুলনা দেশের বড় শহরগুলোর একটি; এখানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও কুয়েট, চিংড়ি রপ্তানিকারকদের কেন্দ্র আর সুন্দরবনগামী পর্যটক নৌযানের ঘাঁটি।

জেলাটি বেদনার স্মৃতিও বহন করে: ১৯৭১ সালের মে মাসে জেলার পশ্চিমে চুকনগরে ভারতগামী শরণার্থীদের ওপর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বড় গণহত্যা ঘটে। শহরের দক্ষিণে দাকোপ ও কয়রা বনের কিনারার নিচু, জোয়ার-ভাটার জনপদ, ২০০৯ সালে ঘূর্ণিঝড় আইলায় যা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

শীতল ও শুকনো আবহাওয়া আর সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি; নৌভ্রমণে মে এবং অক্টোবর–নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড়ের সময় এড়িয়ে চলুন

কীভাবে যাবেন

  • ঢাকা থেকে বাসে: পদ্মা সেতু হয়ে প্রায় ৪–৫ ঘণ্টা, দিনে ও রাতে বাস ছাড়ে। সেতুর আগে ফেরিতে অনেক বেশি সময় লাগত, তাই বাসটি সেতুর পথে যাচ্ছে কি না দেখে নিন।
  • ট্রেনে: ঢাকা থেকে খুলনা স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেন চলে, কয়েকটি পদ্মা সেতুর রেলপথে; খুলনা থেকে যশোর, কুষ্টিয়া ও রাজশাহীতেও ট্রেন আছে।
  • কাছের শহর থেকে: যশোর (প্রায় দেড় ঘণ্টা), বাগেরহাট (প্রায় ১ ঘণ্টা) ও সাতক্ষীরা (প্রায় ২ ঘণ্টা) থেকে ঘন ঘন বাস।
  • আকাশপথে: খুলনায় বিমানবন্দর নেই; সবচেয়ে কাছের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট নামে যশোরে, সেখান থেকে সড়কপথে প্রায় দেড় ঘণ্টা।

শহরে চলাচল

  • শহরে রিকশা, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক আর সিএনজি অটোরিকশা।
  • শহরের ঘাট থেকে সারা দিন নৌকা রূপসা পার হয়; অল্প সময়ের নদীভ্রমণের জন্য ছোট নৌকা ভাড়া নেওয়া যায়।
  • বাগেরহাট, মোংলা, সাতক্ষীরা ও দক্ষিণডিহির জন্য শহরের বাস টার্মিনাল থেকে আন্তঃজেলা বাস, অথবা সারা দিনের জন্য গাড়ি ভাড়া নিন।
  • সুন্দরবন ভ্রমণ সাধারণত খুলনা বা মোংলা থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত পর্যটক নৌযানে শুরু হয়; খাবার, গাইড ও অনুমতিপত্রের ব্যবস্থা করেন আয়োজকেরা।

ঘুরে দেখুন