
কুষ্টিয়া, খুলনা
কুষ্টিয়া
অনেকে বলেন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী: ছেঁউড়িয়ায় লালন শাহের মাজার, শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি আর মীর মশাররফ হোসেনের জন্মভিটা—সবই পদ্মা ও গড়াইয়ের তীরে।
স্থানীয় খাবার
কোথায় খাবেন
কোথায় থাকবেন
সংস্কৃতি
কুষ্টিয়ার প্রাণ গান। ১৮৯০ সালে প্রয়াত লালন শাহ (লালন ফকির) জাত-ধর্মের ঊর্ধ্বে মানুষের গান গেয়েছেন, আর তাঁর গানই বাউল ঐতিহ্যের কেন্দ্র। আজও ছেঁউড়িয়ায় তাঁর আখড়ায় বাউল ও ভক্তরা সমবেত হন।
- লালন উৎসব: বসন্তে দোলপূর্ণিমায় সাধুসঙ্গ, যার প্রচলন লালনের জীবদ্দশাতেই; আর অক্টোবরের মাঝামাঝি (১ কার্তিক) তাঁর তিরোধান দিবস। কয়েক দিন ধরে প্রাঙ্গণ ভরে থাকে গায়ক, একতারাবাদক আর দর্শনার্থীতে; তারিখ পঞ্জিকা অনুযায়ী বদলায়, তাই স্থানীয়ভাবে জেনে নিন।
- শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথ: ১৮৯০-এর দশকে ও পরে রবীন্দ্রনাথ এখানে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন, পদ্মার ধারে লিখেছেন কবিতা, গল্প আর চিঠি; বৈশাখে তাঁর জন্মবার্ষিকী কুঠিবাড়িতে পালিত হয়।
- সাহিত্য ও সংবাদপত্র: মীর মশাররফ হোসেন আর কাঙাল হরিনাথ—যাঁর গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা ছাপা হতো কুমারখালীতে—জেলাজুড়ে স্মরণীয়।
- তাঁত: কুমারখালী তাঁতের জন্য পরিচিত—লুঙ্গি, গামছা আর বিছানার চাদর।
ইতিহাস
পদ্মা থেকে গড়াই নদী যেখানে বেরিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের পুরোনো নদীয়া অঞ্চলের সেই জায়গায় কুষ্টিয়া। ব্রিটিশ আমলে এটি ছিল নদীয়া জেলার অংশ; ১৯৪৭ সালে বাংলা ভাগের পর পূর্ব অংশ নিয়ে হয় কুষ্টিয়া জেলা। রেলপথ এসেছিল খুব আগে—১৮৬২ সালে কলকাতা থেকে রেললাইন কুষ্টিয়া পর্যন্ত পৌঁছায়—আর নদী ও রেলের বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে শহরটি বেড়ে ওঠে।
বাংলাকে এত কণ্ঠ খুব কম জেলাই দিয়েছে। মরমি সাধক লালন শাহ ছেঁউড়িয়ায় থেকেছেন, সেখানেই তাঁর সমাধি; রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিলাইদহ থেকে পারিবারিক জমিদারি দেখাশোনা করতেন আর সেখানে বসে লিখেছেন অনেক কিছু; বিষাদ-সিন্ধুর লেখক মীর মশাররফ হোসেন জন্মেছেন লাহিনীপাড়ায়; আর সাংবাদিক কাঙাল হরিনাথ কুমারখালী থেকে তাঁর পত্রিকা ছাপতেন। বিপ্লবী বাঘা যতীন-এর জন্মও এই জেলায়।
আজকের কুষ্টিয়া তাঁতি, নদীর মাছ আর গানের এক ব্যস্ত, আন্তরিক শহর। বেশির ভাগ পর্যটক আসেন লালনের মাজার আর শিলাইদহ দেখতে; দুটোই শহর থেকে সহজে যাওয়া যায়।
ভ্রমণের প্রস্তুতি
ভ্রমণের সেরা সময়
অক্টোবর থেকে মার্চ; ছেঁউড়িয়ায় লালন উৎসব হয় বসন্তে দোলপূর্ণিমায় আর অক্টোবরের মাঝামাঝি
কীভাবে যাবেন
- ঢাকা থেকে বাসে: পথভেদে প্রায় ৫–৭ ঘণ্টা—পদ্মা সেতু ও রাজবাড়ী হয়ে, অথবা যমুনা সেতু ও পাবনা হয়ে লালন শাহ সেতু পেরিয়ে। গাবতলীসহ ঢাকার বিভিন্ন টার্মিনাল থেকে দিনে ও রাতে বাস ছাড়ে।
- আশপাশের শহর থেকে: যশোর, খুলনা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, পাবনা ও রাজশাহীর সঙ্গে কুষ্টিয়ার বাস যোগাযোগ আছে; ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা মোটামুটি এক থেকে দেড় ঘণ্টা, রাজশাহী ও খুলনা কয়েক ঘণ্টার পথ।
- ট্রেনে: কুষ্টিয়া পুরোনো রেলপথের ওপর; কিছু আন্তঃনগর ট্রেন জেলার পোড়াদহ ও ভেড়ামারার মতো স্টেশনে থামে, আর লোকাল ট্রেন যায় কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে। সর্বশেষ সময়সূচি দেখে নিন।
শহরে চলাচল
- শহরের কেন্দ্রে হেঁটে বা রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ঘোরা সহজ।
- ছেঁউড়িয়ায় লালনের মাজার শহরের কেন্দ্র থেকে অটোরিকশায় অল্প পথ।
- শিলাইদহ, কুমারখালী ও লাহিনীপাড়ার জন্য সিএনজি বা অটোরিকশা নিন, অথবা আধা দিনের জন্য ভাড়া করে একসঙ্গে সব দেখে আসুন।
- উপজেলা শহরগুলোতে লোকাল বাস চলে; কোন স্ট্যান্ড থেকে ছাড়ে, শহরে জিজ্ঞেস করে নিন।