ঢাকা

লালবাগ কেল্লা

সতেরো শতকের অসমাপ্ত মোগল দুর্গ, বাগান আর পরী বিবির সমাধি।

স্থানীয় খাবার

  • কাচ্চি বিরিয়ানি

    লালবাগ কেল্লা

    মুখবন্ধ হাঁড়িতে মাংস আর চাল একসঙ্গে ধীরে রান্না — পুরান ঢাকার পরিচয় যে খাবারে।

  • বাকরখানি

    লালবাগ কেল্লা

    পুরান ঢাকার মাটির তন্দুরে সেঁকা মচমচে স্তরের রুটি, চায়ের সঙ্গে সবচেয়ে ভালো।

  • লাচ্ছি

    লালবাগ কেল্লা

    পুরান ঢাকার মিষ্টির দোকানের ঘন মিষ্টি দইয়ের পানীয় — গরমে হাঁটার পর দারুণ।

কোথায় খাবেন

  • লালবাগ ও চকবাজার

    পুরান ঢাকা

    কেল্লার আশপাশের গলিতে বিরিয়ানি ও কাবাবের ছোট দোকান, বাকরখানির দোকান আর চায়ের দোকান।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • নাজিরা বাজার

    পুরান ঢাকা

    রিকশায় অল্প দূরে: হাজী বিরিয়ানি (১৯৩৯ সাল থেকে) আর আরও কিছু পুরোনো বিরিয়ানির দোকানের এলাকা।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

কোথায় থাকবেন

  • মতিঝিল ও পল্টন

    মধ্য ঢাকা

    পুরান ঢাকার সবচেয়ে কাছের কম খরচের হোটেল, কমলাপুর স্টেশন আর অনেক বাস কাউন্টারের কাছে।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • ধানমন্ডি

    মধ্য ঢাকা

    মাঝারি মানের হোটেল আর ভালো রেস্তোরাঁ; আজিমপুর হয়ে লালবাগ অল্প দূরে।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

ইতিহাস

লালবাগ কেল্লা ঢাকার সবচেয়ে পরিচিত মোগল স্থাপনা। ১৬৭৮ সালে সম্রাট আওরঙ্গজেবের ছেলে শাহজাদা মুহাম্মদ আজম বাংলার সুবাদার থাকার সময় এর নির্মাণ শুরু করেন; তখন এর নাম ছিল কেল্লা আওরঙ্গাবাদ। বছরখানেক পরেই আজমকে দিল্লিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়, আর কাজের দায়িত্ব পান সুবাদার শায়েস্তা খান।

নির্মাণ চলার সময় শায়েস্তা খানের মেয়ে পরী বিবি মারা যান। একে অশুভ মনে করে তিনি কাজ বন্ধ করে দেন, ফলে কেল্লা আর কখনো শেষ হয়নি। মার্বেল ও পাথরে মোড়া পরী বিবির সমাধি আজও কেল্লার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে।

প্রাচীরের ভেতরে তিনটি প্রধান স্থাপনা: পরী বিবির সমাধি, তিন গম্বুজের মসজিদ আর দিওয়ান-ই-আম — সুবাদারের দরবার হল, সঙ্গে হাম্মামখানা, যা এখন ছোট জাদুঘর। এদের মাঝে বাগান, ফোয়ারা আর তোরণ, আর বিশাল বাইরের প্রাচীর ও ফটকের অনেকটাই এখনো টিকে আছে।

ভ্রমণ পরিকল্পনা

লালবাগ ও মোগল আমলের গলি

আধা দিন
  1. ধাপ ১: খোলার সময়ে লালবাগ কেল্লা

    নিরিবিলি থাকতে বাগানে হাঁটুন, পথ থেকে পরী বিবির সমাধি আর মসজিদ দেখুন।

  2. ধাপ ২: দিওয়ান-ই-আম জাদুঘর

    মোগল আমলের অস্ত্র, মুদ্রা ও পাণ্ডুলিপি দেখুন, আর দরবার হলের নিচের পুরোনো হাম্মামখানা।

  3. ধাপ ৩: ঢাকেশ্বরী মন্দির

    রিকশায় অল্প পথ উত্তর-পূর্বে গেলেই জাতীয় মন্দির।

  4. ধাপ ৪: পুরান ঢাকায় দুপুরের খাবার

    কাচ্চি বিরিয়ানি আর বোরহানির জন্য নাজিরা বাজারে যান, তারপর বাকরখানি আর চা।

মানচিত্র

গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)বড় মানচিত্র দেখুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

অক্টোবর থেকে মার্চ; সকালে বা পড়ন্ত বিকেলে, যখন বাগান তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে।

কীভাবে যাবেন

পুরান ঢাকায়। গলি সরু আর ব্যস্ত; আজিমপুর বা নীলক্ষেত থেকে রিকশায় যাওয়াই সবচেয়ে সহজ।

ভ্রমণ টিপস

  • খোলার পরপরই পৌঁছান: সকালে বাগান নিরিবিলি থাকে, ছুটির দিন আর সাপ্তাহিক ছুটির বিকেলে খুব ভিড় হয়।
  • যাওয়ার আগে খোলার দিন জেনে নিন; অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনার মতো সপ্তাহের কিছু দিন এটি বন্ধ থাকে।
  • ফটকের পাশের কাউন্টার থেকে টিকিট কিনুন; বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য আলাদা দর আছে।
  • মসজিদে গেলে শালীন পোশাক পরুন আর ঢোকার আগে জুতা খুলে নিন।
  • গরমে পানি আর টুপি সঙ্গে রাখুন — পথে ছায়া কম।
  • পুরান ঢাকায় যানজট বেশি, তাই আসা-যাওয়ায় হাতে বাড়তি সময় রাখুন।

ঘুরে দেখুন