মাগুরা, খুলনা

মাগুরা

নবগঙ্গা ও মধুমতীর তীরের কৃষিপ্রধান জেলা; মহম্মদপুরে রাজা সীতারাম রায়ের রাজধানীর ধ্বংসাবশেষ এখানে, আর কবি ফররুখ আহমদের জন্মভূমি।

স্থানীয় খাবার

  • খেজুর গুড় ও পিঠা

    মাগুরা

    ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি খেজুর গুড় আর শীতের পিঠা।

  • নদীর মাছ

    মাগুরা

    নবগঙ্গা ও মধুমতীর মাছ, তরকারি বা ভাজা।

  • রসগোল্লা ও দই

    মাগুরা

    মাগুরা শহরের মিষ্টির দোকান থেকে।

কোথায় খাবেন

  • মাগুরা শহরের কেন্দ্র

    মাগুরা শহর

    ভাত, মাছ-মাংসের রেস্তোরাঁ আর মিষ্টির দোকান।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • মহাসড়কের রেস্তোরাঁ

    ঢাকা–যশোর মহাসড়ক

    দূরপাল্লার বাস যেখানে থামে, সড়কের পাশের সেসব রেস্তোরাঁ।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

কোথায় থাকবেন

সংস্কৃতি

  • বৃহত্তর যশোরের মতো মাগুরাতেও শীতে খেজুর গুড়ের ঐতিহ্য।
  • সাত সাগরের মাঝি-খ্যাত কবি ফররুখ আহমদ (১৯১৮–১৯৭৪) শ্রীপুর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
  • রাজা সীতারাম রায়ের গল্প বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস সীতারাম-এ আর মহম্মদপুরের লোককথায় বেঁচে আছে।
  • ক্রিকেটের টান এখানে গভীর: সাকিব আল হাসান মাগুরা শহরেই বড় হয়েছেন।

ইতিহাস

মাগুরা পুরোনো ঢাকা–খুলনা সড়কের ওপর, যেখানে নবগঙ্গা বৃহত্তর যশোরের গ্রামাঞ্চলে মিশেছে; পূর্ব সীমা জুড়ে মধুমতী। উনিশ শতক থেকে মহকুমা মাগুরা ১৯৮৪ সালে জেলা হয়।

এর সবচেয়ে নাটকীয় গল্প রাজা সীতারাম রায়ের, যিনি আঠারো শতকের গোড়ার দিকে মহম্মদপুরে দুর্গ, মন্দির আর বড় বড় দিঘি নিয়ে রাজধানী গড়েন, তারপর মুর্শিদাবাদের নবাবি শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়ান। তিনি পরাজিত হন ও তাঁর প্রাণদণ্ড হয়, কিন্তু তাঁর নাম রয়ে গেছে — বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁকে নিয়ে লেখেন উপন্যাস সীতারাম।

সাত সাগরের মাঝি-র কবি ফররুখ আহমদ এবং ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের জন্মও মাগুরায়। পর্যটকের কাছে এটি ঢাকা ও যশোরের মাঝে এক শান্ত বিরতি — গ্রামবাংলা আর তার বিস্মৃত ইতিহাসে আগ্রহীদের জন্য।

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি, শুকনো ও ঠান্ডা আবহাওয়ায়

কীভাবে যাবেন

  • ঢাকা থেকে বাসে: পদ্মা সেতু বা পাটুরিয়া–দৌলতদিয়া ফেরি হয়ে প্রায় ৪–৫ ঘণ্টা; মাগুরা ঢাকা–যশোর–খুলনা মহাসড়কের ওপর, তাই যশোর ও খুলনাগামী বেশির ভাগ বাস এ পথে যায়।
  • খুলনা থেকে বাসে: যশোর হয়ে প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা।
  • যশোর থেকে: বাসে এক থেকে দেড় ঘণ্টা।
  • বিমানবন্দর নেই; সবচেয়ে কাছেরটি যশোরে।

শহরে চলাচল

  • মাগুরা শহরে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সর্বত্র।
  • মহম্মদপুর, শ্রীপুর ও শালিখায় লোকাল বাস ও সিএনজি চলে।
  • সীতারামের ধ্বংসাবশেষ দেখতে সারা দিনের জন্য সিএনজি ভাড়া নেওয়াই সবচেয়ে সহজ।

ঘুরে দেখুন