মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্রনগরের স্থান, পুণ্ড্র অঞ্চলের রাজধানী এবং বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগর-বসতিগুলোর একটি। করতোয়া নদীর তীরে প্রাচীরঘেরা এই নগরে মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও পরবর্তী শাসকদের আমলে এক হাজার বছরেরও বেশি সময় মানুষের বসতি ছিল।
সবচেয়ে বিখ্যাত আবিষ্কার মহাস্থান ব্রাহ্মী লিপি, পাথরে খোদাই করা ছোট একটি লেখা, যা সাধারণত খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকের কাছাকাছি সময়ের বলে ধরা হয় — বাংলাদেশে পাওয়া প্রাচীনতম লিখিত নিদর্শনগুলোর একটি। আজও দুর্গনগরীর ইটের প্রাচীর আশপাশের মাঠ ছাড়িয়ে মাথা তুলে আছে, আর মাইলের পর মাইলজুড়ে ছড়িয়ে আছে মন্দির, বিহার ও প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষসহ খনন করা ঢিবি।
দুর্গের ওপরে হযরত শাহ সুলতান বলখী মাহিসওয়ার (রহ.)-এর মাজার, স্থানীয় ঐতিহ্যে এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের জন্য যিনি স্মরণীয়। কাছেই গোকুল মেধ ঢিবি — মনসামঙ্গলের নায়িকার নামে লোকমুখে বেহুলার বাসরঘর — আর একটি জাদুঘর, যেখানে খননে পাওয়া মুদ্রা, পোড়ামাটি ও ভাস্কর্য রাখা আছে।