মানিকগঞ্জ, ঢাকা

মানিকগঞ্জ

ঢাকার ঠিক পশ্চিমে নদীঘেরা সবুজ জেলা, যেখানে পদ্মা আর যমুনা মিলেছে; পুরোনো জমিদারবাড়ি, হাজারী গুড় আর পাটুরিয়া-আরিচার ফেরিঘাটের জন্য পরিচিত।

স্থানীয় খাবার

  • হাজারী গুড়

    মানিকগঞ্জ

    শীতে তৈরি ঝিটকার হালকা, সুগন্ধি খেজুরের গুড়। নকলও বিক্রি হয়, তাই বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে কিনুন।

  • নদীর মাছ

    মানিকগঞ্জ

    পদ্মা-যমুনার তাজা মাছ, মৌসুমে ইলিশ; ঘাটে ভাজা বা তরকারিতে।

  • শীতের পিঠা

    মানিকগঞ্জ

    খেজুরের গুড় দিয়ে ভাপা ও চিতই পিঠা, শীতের সকাল-সন্ধ্যায় রাস্তার পাশের দোকানে।

কোথায় খাবেন

  • মানিকগঞ্জ শহরের কেন্দ্র

    মানিকগঞ্জ শহর

    ভাত, মাছ, মাংসের সাধারণ রেস্তোরাঁ আর মিষ্টির দোকান।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট

    শিবালয়

    ঘাটের পাশের খাবারের দোকানে নদীর তাজা মাছ ভাজা, মৌসুমে বিশেষ করে ইলিশ।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

কোথায় থাকবেন

  • মানিকগঞ্জ শহর

    মানিকগঞ্জ সদর

    মহাসড়ক আর শহরের কেন্দ্রের কাছে কয়েকটি সাধারণ হোটেল ও অতিথিশালা।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • ঢাকা থেকে দিনভর ভ্রমণ

    ঢাকা

    মানিকগঞ্জ ঢাকার কাছে, তাই বেশির ভাগ পর্যটক দিনে এসে সন্ধ্যায় ফিরে যান।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

সংস্কৃতি

মানিকগঞ্জ লোকসংগীতে সমৃদ্ধ: বাউল গান আর দুই শিল্পীর গানের তর্ক বিচারগান শীতের গ্রামীণ মেলা ও সারারাতের আসরে এখনো হয়।

  • হরিরামপুরের ঝিটকার খেজুরের মিহি গুড় হাজারী গুড় জেলার সবচেয়ে পরিচিত পণ্য।
  • অনেক গ্রামে মন্দির আর জমিদারবাড়ি টিকে আছে, দুর্গাপূজা হয় ব্যাপকভাবে।
  • সিংগাইরের পারিল গ্রামে ভাষাশহীদ রফিকের স্মৃতিতে স্মৃতিস্তম্ভ ও গ্রন্থাগার আছে।

ইতিহাস

ঢাকা আর বড় নদীগুলোর মাঝখানে মানিকগঞ্জ। ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক এর ভেতর দিয়ে পাটুরিয়া ও আরিচার ফেরিঘাটে গেছে, তাই প্রজন্মের পর প্রজন্ম দক্ষিণ-পশ্চিমগামী যাত্রীরা এই পথ ধরেছেন, আর নদী ও সড়কের ধারে গড়ে উঠেছে জেলার হাটবাজার আর শহর।

আঠারো ও উনিশ শতকে ধনী বণিক আর জমিদার পরিবারগুলো এখানে বিশাল সব বাড়ি বানিয়েছিল। বালিয়াটির প্রাসাদ আর তেওতার জমিদারবাড়ি এদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত; গ্রামে গ্রামে আরও অনেক ছোট, জীর্ণ অট্টালিকা এখনো দাঁড়িয়ে আছে।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদ রফিকউদ্দিন আহমদের জন্মও এই জেলায়, সিংগাইরের পারিল গ্রামে। আজ মানিকগঞ্জ পাট, ধান আর সবজির কৃষিপ্রধান জেলা, ঢাকা থেকে এত কাছে যে দিনে গিয়ে দিনেই ফেরা যায়।

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি, যখন রাস্তা শুকনো আর আবহাওয়া আরামদায়ক; শীতেই হাজারী গুড়ের মৌসুম।

কীভাবে যাবেন

  • ঢাকা থেকে বাসে: গাবতলী থেকে মানিকগঞ্জ, পাটুরিয়া ও আরিচার বাস ছাড়ে, ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক ধরে চলে; সাভারের যানজট বুঝে মানিকগঞ্জ শহর দেড় থেকে দুই ঘণ্টা।
  • দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে: খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ীর বাস দৌলতদিয়া থেকে ফেরিতে পদ্মা পার হয়ে পাটুরিয়ায় নামে, তারপর এই জেলা দিয়ে ঢাকার দিকে যায়।
  • মানিকগঞ্জে কোনো রেলপথ নেই।

শহরে চলাচল

  • মানিকগঞ্জ শহরে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা।
  • মহাসড়ক ধরে সাটুরিয়া, শিবালয়, পাটুরিয়া ও আরিচায় লোকাল বাস ও সিএনজি অটোরিকশা।
  • একই দিনে বালিয়াটি আর তেওতা ঘুরতে সিএনজি বা গাড়ি ভাড়া নেওয়াই সবচেয়ে সহজ।

ঘুরে দেখুন