
মৌলভীবাজার, সিলেট
মৌলভীবাজার
বাংলাদেশের চায়ের দেশ: শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জজুড়ে ঢেউখেলানো চা-বাগান, লাউয়াছড়ার বর্ষাবন, হাকালুকির বিশাল হাওর, আর টিলার ফাঁকে মণিপুরি ও খাসিয়াদের গ্রাম।
স্থানীয় খাবার
কোথায় খাবেন
কোথায় থাকবেন
সংস্কৃতি
মৌলভীবাজার দেশের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় জেলাগুলোর একটি।
- চা-জনগোষ্ঠী: বাগানের শ্রমিকদের গ্রামে নিজস্ব ভাষা, গান আর উৎসব টিকে আছে; অনেক বাগানে ফাগুয়া (হোলি) ও কারাম পূজা হয়।
- কমলগঞ্জের মণিপুরি গ্রামগুলো মণিপুরি নৃত্য আর হাতে বোনা কাপড়ের জন্য পরিচিত। কার্তিকের পূর্ণিমায় (সাধারণত নভেম্বরে) মাধবপুরের রাসলীলায় সারা দেশ থেকে মানুষ আসেন।
- টিলার খাসিয়া পুঞ্জিতে বনের গাছে পান চাষ হয়; গাইড নিয়ে বা অনুমতি নিয়েই যান।
- হাকালুকি ঘিরে হাওরের জীবন পানির নিয়মে চলে: বর্ষায় মাছ ধরা আর নৌকা, শুকনো মৌসুমে বোরো ধান।
- ১৯৭১ সালে কমলগঞ্জ সীমান্তের ধলাইয়ে শহীদ হন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান; সেখানে আজ তাঁর স্মৃতিসৌধ।
ইতিহাস
সিলেট বিভাগের দক্ষিণে, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য আর হবিগঞ্জ থেকে উঠে আসা নিচু টিলার মাঝে মৌলভীবাজার। মনু নদীর তীরের এক বাজার ঘিরে শহরটি গড়ে ওঠে; উনিশ শতকে মৌলভী সৈয়দ কুদরত উল্লাহর বসানো সেই বাজার থেকেই জেলার নাম।
জেলার পরিচয় গড়েছে চা। উনিশ শতক থেকে ব্রিটিশ চা-করেরা টিলা কেটে বাগান করেন, আর আজ দেশের যেকোনো জেলার চেয়ে মৌলভীবাজারে চা-বাগান বেশি। বাগানের শ্রমিক পরিবারগুলোর অনেককে বহু প্রজন্ম আগে ভারতের নানা অঞ্চল থেকে আনা হয়েছিল; তাঁদের গ্রাম, ভাষা আর উৎসব এখনো বাগানের জীবনের অংশ।
বাগানের ফাঁকে ফাঁকে পুরোনো বন — লাউয়াছড়া, রাজকান্দি, আদমপুর — আর বিস্তীর্ণ জলাভূমি: শ্রীমঙ্গলের কাছে হাইল হাওর, উত্তরে দেশের সবচেয়ে বড় হাওর হাকালুকি। টিলা আর বনের কিনারে থাকেন মণিপুরি, খাসিয়া, গারো ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর মানুষ।
বেশির ভাগ পর্যটক জেলা শহরের বদলে শ্রীমঙ্গলে থাকেন, তবে মনু নদীর তীরের মৌলভীবাজার শহর শান্ত, সবুজ — হাকালুকি বা বড়লেখার পথে থামার ভালো জায়গা।
ভ্রমণের প্রস্তুতি
ভ্রমণের সেরা সময়
শুকনো পথ আর হাওরের পাখির জন্য নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি; সবুজ বাগান, ভরা ঝরনা ও শাপলার জন্য জুন থেকে সেপ্টেম্বর
কীভাবে যাবেন
- ঢাকা থেকে বাসে: মৌলভীবাজার শহর বা শ্রীমঙ্গলে প্রায় ৪–৫ ঘণ্টা, দিনে ও রাতে বাস ছাড়ে।
- ঢাকা থেকে ট্রেনে: ঢাকা–সিলেটের ট্রেন শ্রীমঙ্গল, শমশেরনগর ও কুলাউড়ায় থামে। মৌলভীবাজার শহরে রেলস্টেশন নেই; শ্রীমঙ্গল থেকে বাসে বা সিএনজিতে অল্প পথ।
- সিলেট থেকে: বাসে মৌলভীবাজার শহরে প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা, শ্রীমঙ্গলে একটু বেশি; সিলেট থেকে কুলাউড়া ও শ্রীমঙ্গলে ট্রেনও চলে।
শহরে চলাচল
- মৌলভীবাজার শহর ও শ্রীমঙ্গলে সিএনজি, অটোরিকশা ও রিকশা।
- লাউয়াছড়া, মাধবপুর লেক আর চা-বাগানের জন্য শ্রীমঙ্গল থেকে সারা দিনের জন্য সিএনজি বা গাড়ি ভাড়া নিন; রাস্তা ভালো, জায়গাগুলোও কাছাকাছি।
- হামহাম আর সীমান্তের দিকের কাঁচা-ভাঙা রাস্তায় জিপ ও মোটরসাইকেল বেশি চলে।
- হাকালুকি হাওর ও বাইক্কা বিলে নৌকা: বর্ষায় হাওরপাড়ের গ্রাম থেকে নৌকা ছাড়ে; রওনার আগে ভাড়া ও সময় ঠিক করে নিন।
- মৌলভীবাজার শহর থেকে শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখায় লোকাল বাস চলে।