নওগাঁ, রাজশাহী

নওগাঁ

উত্তর-পশ্চিমের শস্যভান্ডার, বরেন্দ্রের ঐতিহ্যে ভরা: পাহাড়পুরের মহাবিহার, কালো পাথরের কুসুম্বা মসজিদ, দিবর দিঘির কৈবর্ত স্তম্ভ আর পতিসরে রবীন্দ্রনাথের কাছারিবাড়ি।

স্থানীয় খাবার

  • নওগাঁর চাল

    নওগাঁ

    জেলার মাঠ আর চালকলের টাটকা চাল, রোজকার চাল থেকে সুগন্ধি জাত পর্যন্ত — এখানে সাদা ভাতের স্বাদই আলাদা।

  • বরেন্দ্রের আম

    নওগাঁ

    সাপাহার, পোরশা ও নিয়ামতপুরের বাগানে আম্রপালি, ফজলিসহ নানা জাতের আম, পাকে জুন–জুলাইয়ে।

  • কালাই রুটি

    নওগাঁ

    মরিচ-পেঁয়াজের ভর্তা দিয়ে মাষকলাইয়ের রুটি, উত্তর-পশ্চিমের প্রিয় খাবার।

  • নদী ও বিলের মাছ

    নওগাঁ

    আত্রাই নদী আর বিলের মাছ, তরকারি বা ভাজা।

কোথায় খাবেন

  • নওগাঁ শহরের কেন্দ্র

    নওগাঁ শহর

    প্রধান সড়ক আর বাস টার্মিনালের কাছে রেস্তোরাঁ, মিষ্টির দোকান আর চায়ের দোকান।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • উপজেলার বাজার

    মান্দা, বদলগাছী, আত্রাই

    প্রত্নস্থল ঘোরার সময় দুপুরের খাবারের জন্য সাধারণ খাবারের দোকান।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

কোথায় থাকবেন

  • নওগাঁ শহর

    শহরের কেন্দ্র

    সাধারণ থেকে মাঝারি মানের হোটেল; কুসুম্বা, পতিসর আর জেলার উত্তরাংশ ঘোরার সবচেয়ে ভালো ঘাঁটি।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • পাহাড়পুরের কাছে

    বদলগাছী, নওগাঁ

    প্রত্নস্থলের কাছে সরকারি রেস্টহাউস আছে; থাকার ব্যবস্থা স্থানীয়ভাবে জেনে নিন।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • বগুড়া বা রাজশাহী

    ১.৫–২ ঘণ্টার পথ

    দুই শহরেই হোটেলের বাছাই বেশি, আর নওগাঁর প্রধান দর্শনীয় স্থান দিনে দিনে ঘুরে আসা যায়।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

সংস্কৃতি

নওগাঁ গভীর শিকড়ের কৃষিপ্রধান জেলা, আর এর বছর চলে ধানের তালে।

  • প্রতিবছর পতিসরে গান, আবৃত্তি আর গ্রামীণ মেলায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন পালিত হয়।
  • বরেন্দ্রের গ্রামে সাঁওতাল, ওরাঁওসহ নানা আদিবাসী সম্প্রদায়ের বাস, তাদের নিজস্ব উৎসব, গান আর নাচ।
  • জেলাজুড়ে পালিত হয় ফসল তোলার উৎসব নবান্ন আর পহেলা বৈশাখের মেলা।
  • গ্রামের হাটে মাটি ও বাঁশের কারুপণ্য খুঁজে দেখুন।

ইতিহাস

নওগাঁ প্রাচীন বরেন্দ্র অঞ্চলের কেন্দ্রে। এর সবচেয়ে বিখ্যাত নিদর্শন পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহার অষ্টম শতকে পাল রাজারা নির্মাণ করেন; হিমালয়ের দক্ষিণে এটি ছিল বৃহত্তম বৌদ্ধবিহারগুলোর একটি, আজ ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য।

একাদশ শতকে কৈবর্ত নেতা দিব্যের নেতৃত্বে বরেন্দ্র পালদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে — বাংলার প্রথম লিপিবদ্ধ কৃষক বিদ্রোহগুলোর একটি — আর দিবর দিঘির পাথরের স্তম্ভ সেই সময়ের সঙ্গে জড়িত। পরে আসে কুসুম্বার মতো সুলতানি আমলের মসজিদ, আর ব্রিটিশ আমলে নওগাঁ অঞ্চল নিয়ন্ত্রিত গাঁজা চাষের জন্য পরিচিত হয়।

উনিশ শতকের নব্বইয়ের দশকে ঠাকুর পরিবারের কালীগ্রাম পরগনার জমিদারির সূত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পতিসরে আসেন; এখানে তিনি লিখেছেন, জমিদারি দেখেছেন আর কৃষকদের জন্য ব্যাংক খুলেছেন। ১৯৮৪ সালে নওগাঁ জেলা হয়। আজ এটি দেশের অন্যতম প্রধান ধান উৎপাদনকারী জেলা, রাস্তার দুপাশে চালকল; আর বরেন্দ্রের উঁচু জমি এখন আমের জন্যও পরিচিত।

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

ঐতিহ্যবাহী স্থানের জন্য অক্টোবর থেকে মার্চ; বরেন্দ্রের আমের জন্য জুন–জুলাই

কীভাবে যাবেন

  • ঢাকা থেকে: যমুনা সেতু ও বগুড়া হয়ে বাসে প্রায় ৫–৬ ঘণ্টা।
  • রাজশাহী থেকে: বাসে প্রায় ২ ঘণ্টা।
  • বগুড়া থেকে: বাসে প্রায় দেড় ঘণ্টা।
  • ট্রেনে: নওগাঁ শহর প্রধান রেলপথে নয়; সবচেয়ে কাছের বড় স্টেশন সান্তাহার জংশন, অল্প দূরত্বে, ঢাকা ও রাজশাহী থেকে ট্রেন আসে। হালনাগাদ সময়সূচি দেখে নিন।

শহরে চলাচল

  • শহরে রিকশা আর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা।
  • জেলা বড়, দর্শনীয় স্থানগুলো ছড়ানো: মান্দা, বদলগাছী, পত্নীতলা, ধামইরহাট ও আত্রাইয়ে লোকাল বাস চলে, তবে দিনের জন্য গাড়ি বা সিএনজি ভাড়া নিলে অনেক সময় বাঁচে।
  • পাহাড়পুর বদলগাছী উপজেলায়; কুসুম্বা রাজশাহী সড়কে; পতিসরে যেতে হয় আত্রাই হয়ে।
  • রওনার আগে ভাড়া আর অপেক্ষার সময় ঠিক করে নিন।

ঘুরে দেখুন