নোয়াখালী, চট্টগ্রাম

নিঝুম দ্বীপ

হাতিয়ার দক্ষিণে নিরিবিলি দ্বীপ ও জাতীয় উদ্যান, যেখানে কেওড়া বনের ফাঁকে চিত্রা হরিণের পাল চরে বেড়ায় আর শীতে কাদাচরে ভিড় করে পরিযায়ী পাখি।

স্থানীয় খাবার

  • তাজা সামুদ্রিক মাছ

    নিঝুম দ্বীপ

    নামার বাজারের খাবারের দোকানে দিনের ধরা মাছ, ভাজা বা তরকারি।

  • কাঁকড়া ও চিংড়ি

    নিঝুম দ্বীপ

    পাওয়া গেলে অর্ডার দিয়ে রান্না করানো যায় — সকালেই জানিয়ে রাখুন।

  • মহিষের দই

    নিঝুম দ্বীপ

    হাতিয়ার চরের মহিষের দুধ থেকে তৈরি।

কোথায় খাবেন

  • নামার বাজারের খাবারের দোকান

    নিঝুম দ্বীপ

    সাধারণ ভাত-মাছ; অনেক গেস্টহাউস অতিথিদের জন্য রান্নাও করে।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • ওছখালী বাজার

    হাতিয়া শহর

    যাওয়া-আসার পথে হাতিয়ার প্রধান শহরে আরও বেশি খাবারের দোকান।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

কোথায় থাকবেন

  • নামার বাজারের গেস্টহাউস ও রিসোর্ট

    নিঝুম দ্বীপ

    সৈকত আর বনের কাছে সাধারণ মানের ঘর; শীতের ছুটির দিনে আগে থেকে বুকিং দিন।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • হাতিয়া শহরের হোটেল

    ওছখালী, হাতিয়া

    দেরিতে পৌঁছালে বা যাত্রার মাঝে বিরতি নিতে কাজে আসে।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

ইতিহাস

নিঝুম দ্বীপ নতুন জেগে ওঠা ভূমি। বিশ শতকের মাঝামাঝি হাতিয়ার দক্ষিণে মেঘনার মোহনার পলি থেকে এটি জেগে ওঠে, আর আশপাশের দ্বীপ থেকে জেলে ও কৃষকেরা ধীরে ধীরে এখানে বসতি গড়েন।

সত্তরের দশক থেকে ঝড় আর জোয়ারের হাত থেকে নতুন মাটি রক্ষা করতে বন বিভাগ দ্বীপজুড়ে কেওড়া বন লাগায়, আর সত্তরের দশকের শেষে কয়েক জোড়া চিত্রা হরিণ এখানে ছাড়া হয়। বড় শিকারি প্রাণী না থাকায় তারা বেড়ে আজকের পালে পরিণত হয়েছে, যা দ্বীপের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। ২০০১ সালে দ্বীপের বন ও আশপাশের এলাকা নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়।

শীতে কাদাচর আর খালে আসে পরিযায়ী পাখির ঝাঁক, আর দক্ষিণ তীরে বঙ্গোপসাগরমুখী দীর্ঘ, নির্জন সৈকত। বন, পানি, গ্রাম আর আকাশ ছাড়া এখানে তেমন কিছু নেই — আর ঠিক সেই কারণেই মানুষ এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেন।

ভ্রমণ পরিকল্পনা

নিঝুম দ্বীপে দুই রাত

৩ দিন
  1. ধাপ ১: হাতিয়ায় পারাপার

    ভোরে মাইজদী থেকে চেয়ারম্যান ঘাটে গিয়ে মেঘনা পার হয়ে হাতিয়া, অথবা ঢাকা থেকে রাতের লঞ্চে আসুন।

  2. ধাপ ২: নিঝুম দ্বীপের পথে

    হাতিয়া পাড়ি দিয়ে মোক্তারিয়া ঘাট, নৌকায় চ্যানেল পার হয়ে নামার বাজারে উঠুন।

  3. ধাপ ৩: সৈকতে সূর্যাস্ত

    বিকেলে নামার বাজারের কাছের সৈকতে হাঁটুন, রাতে মাছ দিয়ে খাবার।

  4. ধাপ ৪: ভোরে হরিণ দেখা

    স্থানীয় গাইডের সঙ্গে ভোরে নৌকায় বা হেঁটে বনে ঢুকুন, চিত্রা হরিণ আর কাদাচরের পাখি দেখুন।

  5. ধাপ ৫: ফেরার পথ

    তৃতীয় দিন সকালে একই পথে ফিরুন; দিনের আলোয় মেঘনা পার হতে সকাল সকাল রওনা দিন।

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি — শান্ত পারাপার, আরামদায়ক আবহাওয়া আর পরিযায়ী পাখির জন্য

কীভাবে যাবেন

মাইজদী থেকে বাস বা সিএনজিতে সুবর্ণচরের চেয়ারম্যান ঘাট (প্রায় দেড় ঘণ্টা), তারপর সি-ট্রাক, ট্রলার বা স্পিডবোটে মেঘনা পার হয়ে হাতিয়ার নলচিরা ঘাট। হাতিয়া পাড়ি দিন মোটরসাইকেল বা সিএনজিতে মোক্তারিয়া ঘাট পর্যন্ত, সেখান থেকে ছোট নৌকায় চ্যানেল পার হয়ে নিঝুম দ্বীপ, তারপর মোটরসাইকেলে নামার বাজার। প্রায় পুরো দিন হাতে রাখুন; পারাপার জোয়ার-ভাটা আর আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে, তাই স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিন। ঢাকা থেকে সদরঘাটের রাতের লঞ্চে হাতিয়া গেলে মূল ভূখণ্ডের পথটুকু এড়ানো যায়।

শহরে চলাচল

  • ঘাট, নামার বাজার আর সৈকতের মধ্যে চালকসহ মোটরসাইকেল পর্যটকদের আনা-নেওয়া করে।
  • হরিণের বন আর খালে যেতে ছোট নৌকা ভাড়া করুন অথবা স্থানীয় গাইডের সঙ্গে হাঁটুন।
  • নামার বাজারের কাছের সৈকত আর বনের প্রান্ত হেঁটেই ঘোরা যায়।

ভ্রমণ টিপস

  • খারাপ আবহাওয়ায় বা ঘূর্ণিঝড় সংকেতের সময় পারাপার এড়িয়ে চলুন; বর্ষায় মোহনা বিপজ্জনক হতে পারে, চলাচলও বন্ধ থাকতে পারে।
  • ট্রলার ও স্পিডবোটে লাইফ জ্যাকেট পরুন, দামি জিনিস পানিরোধী ব্যাগে রাখুন।
  • হরিণ দেখার সবচেয়ে ভালো সময় ভোর আর সন্ধ্যার আগে; স্থানীয় গাইড নিয়ে নিঃশব্দে চলুন।
  • বিদ্যুৎ আর মোবাইল নেটওয়ার্ক সীমিত হতে পারে — পাওয়ার ব্যাংক, টর্চ আর কিছু নগদ টাকা সঙ্গে রাখুন।
  • মশা তাড়ানোর ক্রিম আর কাদায় চলার মতো জুতা নিন।
  • কোনো প্লাস্টিক ফেলে আসবেন না; দ্বীপটি সংরক্ষিত জাতীয় উদ্যান।

ঘুরে দেখুন