মাগুরা, খুলনা

রাজা সীতারাম রায়ের রাজবাড়ি

আঠারো শতকের গোড়ায় রাজা সীতারাম রায় মহম্মদপুরে যে রাজধানী গড়েছিলেন, তার লতাগুল্মে ঢাকা ধ্বংসাবশেষ — রাজবাড়ির দেয়াল, মন্দির আর তাঁর খোঁড়া বড় বড় দিঘি।

স্থানীয় খাবার

  • নদীর মাছ

    রাজা সীতারাম রায়ের রাজবাড়ি

    বাজারের হোটেলে ভাতের সঙ্গে মধুমতীর মাছ।

  • খেজুর গুড়

    রাজা সীতারাম রায়ের রাজবাড়ি

    শীতে গ্রামের বাজারে টাটকা পাটালি।

কোথায় খাবেন

কোথায় থাকবেন

  • মাগুরা শহর

    মাগুরা

    প্রায় এক ঘণ্টার পথে সাধারণ হোটেল; মহম্মদপুরে রাতে থাকার ব্যবস্থা প্রায় নেই।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

ইতিহাস

কর্মচারী পরিবার থেকে উঠে এসে সীতারাম রায় ভূষণা অঞ্চলের প্রভাবশালী জমিদার হন, আর আঠারো শতকের গোড়ার দিকে মহম্মদপুরকে রাজধানী করেন। তিনি একে সুরক্ষিত করেন, মন্দির গড়েন, পানির জন্য বড় বড় দিঘি খনন করান — তার মধ্যে রামসাগর আজও এখানকার সবচেয়ে বড় দিঘি।

ক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি মুর্শিদাবাদের নবাবি সরকারকে রাজস্ব দেওয়া বন্ধ করেন। মুর্শিদকুলী খানের পাঠানো বাহিনী তাঁকে পরাজিত করে; তাঁকে মুর্শিদাবাদে নিয়ে প্রাণদণ্ড দেওয়া হয়, প্রচলিত মতে ১৭১৪ সালে। তাঁর রাজধানী ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

আজ যা টিকে আছে তা গ্রামজুড়ে ছড়ানো: রাজবাড়ির ভেঙে পড়া ইটের দেয়াল, কয়েকটি মন্দিরের অবশেষ আর বড় দিঘিগুলো। জায়গাটি জাঁকজমক করে সংস্কার করা হয়নি, সেটাই এর আকর্ষণ — এক স্বল্পায়ু রাজ্যকে কল্পনা করার জায়গা, বিশেষ করে বঙ্কিমচন্দ্রের সীতারাম পড়া থাকলে।

ভ্রমণ পরিকল্পনা

সীতারামের খোঁজে

মাগুরা থেকে আধা দিন
  1. ধাপ ১: সকালে মহম্মদপুরের পথে

    মাগুরা থেকে লোকাল বাস বা ভাড়া সিএনজিতে খেতের মাঝ দিয়ে পূর্বে যান।

  2. ধাপ ২: রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ

    সীতারামের রাজবাড়ির টিকে থাকা দেয়াল আর তোরণ ঘুরে দেখুন।

  3. ধাপ ৩: মন্দির ও রামসাগর

    পুরোনো মন্দিরের অবশেষ খুঁজে নিন, বসুন বড় দিঘির পাড়ে।

  4. ধাপ ৪: মাগুরায় ফেরা

    দুপুরের খাবারের জন্য শহরে ফিরুন।

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি; সকালবেলা সবচেয়ে ভালো

কীভাবে যাবেন

মাগুরা শহরের পূর্বে মধুমতীর দিকে মহম্মদপুর উপজেলায়; লোকাল বাস বা সিএনজিতে প্রায় এক ঘণ্টা। মহম্মদপুরে পৌঁছে রাজবাড়ির কথা জিজ্ঞেস করুন; শেষটুকু ভ্যান বা অটোরিকশায়।

ভ্রমণ টিপস

  • ধ্বংসাবশেষ ছড়ানো-ছিটানো, নির্দেশফলক অল্প — গ্রামবাসীদের জিজ্ঞেস করুন, তাঁরা গল্পগুলো ভালো জানেন।
  • দেয়াল ভঙ্গুর ও লতায় ঢাকা: এতে উঠবেন না, ঝোপঝাড়ে সাপের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
  • মজবুত জুতা পরুন, সঙ্গে পানি রাখুন; সুযোগ-সুবিধা খুবই কম।
  • মাগুরা শহরে দুপুরের খাবারের সঙ্গে মিলিয়ে পরিকল্পনা করুন; গ্রামে খাবারের ব্যবস্থা সাধারণ।
  • দিনের আলোয় যান, অন্ধকারের আগে মাগুরায় ফেরার পরিকল্পনা রাখুন।

ঘুরে দেখুন