রাঙ্গামাটি, চট্টগ্রাম

রাজবন বিহার

কাপ্তাই হ্রদের ধারে রাঙামাটির প্রধান বৌদ্ধ বিহার, শ্রদ্ধেয় বনভান্তেকে ঘিরে গড়ে ওঠা।

স্থানীয় খাবার

  • পাহাড়ি সবজি

    রাজবন বিহার

    জুমখেতের সবজির সাধারণ পদ, শহরের পাহাড়ি খাবারের রেস্তোরাঁয়।

  • বাঁশ কোড়লের তরকারি

    রাজবন বিহার

    হালকা ঝোলে রান্না কচি বাঁশ কোড়ল, চাকমাদের প্রিয় পদ।

কোথায় খাবেন

  • রাঙামাটি শহর

    রিজার্ভ বাজার, বনরূপা

    অল্প দূরত্বে পাহাড়ি ও বাঙালি খাবারের রেস্তোরাঁ।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

কোথায় থাকবেন

  • রাঙামাটি শহর

    রিজার্ভ বাজার, বনরূপা, তবলছড়ি

    শহরের যেকোনো হোটেল থেকে বিহার অল্প পথ।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

সংস্কৃতি

রাজবন বিহার পার্বত্য চট্টগ্রামের বহু চাকমা ও অন্যান্য বৌদ্ধের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। কঠিন চীবর দান ছাড়াও বুদ্ধপূর্ণিমা ও প্রবারণা পূর্ণিমা (বর্ষাবাসের সমাপ্তি) প্রার্থনা, দান ও প্রদীপ জ্বালিয়ে পালিত হয়।

ইতিহাস

রাজবন বিহার রাঙামাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ বিহার, দেশেও অন্যতম পরিচিত। সত্তরের দশকে এটি গড়ে ওঠে সাধনানন্দ মহাস্থবিরকে ঘিরে — পাহাড়ে বহু বছর ধ্যান করা এক বনবাসী ভিক্ষু, যাঁকে সবাই চেনে বনভান্তে নামে। পুরো পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে অনুসারীরা তাঁর দেশনা শুনতে আসতেন, আর হ্রদের ধারে চাকমা রাজবাড়ির কাছের জমিতে বিহার বড় হতে থাকে।

বনভান্তে ২০১২ সালে প্রয়াত হন, আজও তিনি গভীরভাবে শ্রদ্ধেয়; বিহারের প্রাঙ্গণে তাঁর স্মৃতিস্থাপনা আছে। বিহারে আছে প্রার্থনাকক্ষ, ভিক্ষুদের আবাস আর গাছের ছায়ায় নিরিবিলি পথ, পাশে হ্রদ।

বিহারটি সবচেয়ে বিখ্যাত বর্ষাবাস শেষের কঠিন চীবর দানের জন্য। মাত্র এক দিন-এক রাতে ভক্তরা তুলা থেকে সুতা কেটে, রং করে, বুনে ও সেলাই করে ভিক্ষুদের জন্য চীবর তৈরি করেন — ভক্তির এই আয়োজনে বিপুল মানুষের সমাগম হয়।

ভ্রমণ পরিকল্পনা

রাজবন বিহারে এক নিরিবিলি সকাল

আধা দিন
  1. ধাপ ১: সকালে পৌঁছানো

    শহর থেকে সিএনজিতে যান; সকাল শান্ত ও ঠান্ডা থাকে।

  2. ধাপ ২: প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা

    প্রার্থনাকক্ষ ও বনভান্তের স্মৃতিস্থাপনা দেখুন, আর হ্রদের ধারের ছায়াঘেরা পথে হাঁটুন।

  3. ধাপ ৩: রাজবাড়ির দিকে

    চাকমা রাজবাড়ি কাছেই; এটি ব্যক্তিগত বাসভবন, তাই বাইরে থেকে দেখুন।

  4. ধাপ ৪: এরপর হ্রদে

    নৌকা বা সিএনজিতে ঝুলন্ত সেতুতে যান, অথবা বিকেলে কাপ্তাই হ্রদে নৌকা ভ্রমণ করুন।

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

অক্টোবর থেকে মার্চ। কঠিন চীবর দান দেখতে বর্ষাবাস শেষে অক্টোবর–নভেম্বরে যান; তারিখ স্থানীয়ভাবে জেনে নিন।

কীভাবে যাবেন

রাঙামাটি শহরেই, চাকমা রাজবাড়ির কাছে: রিজার্ভ বাজার বা বনরূপা থেকে সিএনজিতে অল্প পথ, অথবা হ্রদে নৌভ্রমণের পথে নামা যায়।

ভ্রমণ টিপস

  • এটি সক্রিয় বিহার: শালীন পোশাক পরুন, কাঁধ ও হাঁটু ঢাকা রাখুন, আর নিচু স্বরে কথা বলুন।
  • প্রার্থনাকক্ষে ঢোকার আগে যেখানে বলা আছে, জুতা খুলে রাখুন।
  • ভিক্ষু বা প্রার্থনারত মানুষের ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন।
  • কঠিন চীবর দানে প্রচণ্ড ভিড় হয়; আগে যান আর জিনিসপত্র সাবধানে রাখুন।
  • দর্শনের সময় বদলাতে পারে; যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে জেনে নিন।

ঘুরে দেখুন