কক্সবাজার, চট্টগ্রাম

রামুর বৌদ্ধ বিহার

পুরোনো বৌদ্ধ বিহার আর বিশাল শয়নরত বুদ্ধমূর্তি, শহর থেকে অল্প দূরে।

স্থানীয় খাবার

  • রাখাইন খাবার

    রামুর বৌদ্ধ বিহার

    রাখাইন ধাঁচের ভাত ও নুডলসের পদ, তরকারি আর আচার — রামু ও কক্সবাজার শহরের ছোট খাবারের দোকানে।

  • রাখাইন আচার ও মিষ্টি

    রামুর বৌদ্ধ বিহার

    রাখাইন দোকান থেকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার মতো।

কোথায় খাবেন

  • রামু বাজারের খাবারের দোকান

    রামুর বৌদ্ধ বিহার

    বিহার দেখার ফাঁকে দুপুরে সাধারণ ভাত-তরকারি।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • কক্সবাজারের বার্মিজ মার্কেট

    রামুর বৌদ্ধ বিহার

    শহরে ফেরার পথে রাখাইন নাশতা আর আচার।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

কোথায় থাকবেন

  • কক্সবাজার শহর

    রামুর বৌদ্ধ বিহার

    রামু সহজেই আধা দিনে ঘোরা যায়, তাই বেশির ভাগ পর্যটক কলাতলী বা শহরের কেন্দ্রে থাকেন।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

সংস্কৃতি

রামুর বৌদ্ধ জীবনধারা আজও প্রাণবন্ত। সকালে গেরুয়া চীবর পরা ভিক্ষুরা গলিপথে হাঁটেন, আর পূর্ণিমার দিনে বিহারগুলো ভরে ওঠে।

  • ভিক্ষুদের বর্ষাবাস শেষের পূর্ণিমা প্রবারণা পূর্ণিমা রামুর সবচেয়ে বড় উৎসব: আকাশে ফানুস ওড়ানো হয়, আর বাঁকখালী নদীতে ভাসানো হয় জাহাজের আদলে সাজানো নৌকা।
  • এপ্রিলে রাখাইন সম্প্রদায় উদযাপন করেন সাংগ্রাই, তাঁদের নববর্ষের জল উৎসব।
  • রাখাইন পরিবারগুলো ঐতিহ্যবাহী তাঁতে হাতে বোনা কাপড়ের জন্য পরিচিত।

ইতিহাস

কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের পথে অল্প দূরের রামু বহু শতাব্দী ধরে এ অঞ্চলের বৌদ্ধধর্মের কেন্দ্র। এখানকার রাখাইন ও বড়ুয়া বৌদ্ধ সম্প্রদায় রক্ষা করেন একগুচ্ছ বৌদ্ধ বিহার (ক্যাং) ও প্যাগোডা — কোনোটি কাঠের কারুকাজে পুরোনো বর্মি ধাঁচে গড়া, কোনোটিতে আছে ধাতু ও পাথরের বুদ্ধমূর্তি।

এখন সবচেয়ে পরিচিত দর্শনীয় স্থান শহরের এক প্রান্তের একটি বিহারের বিশাল শয়নরত বুদ্ধমূর্তি, দেশে এ ধরনের মূর্তির মধ্যে অন্যতম বড়।

২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে এক রাতের সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় রামুর কয়েকটি বিহার ও বৌদ্ধদের অনেক বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে আগুন দেওয়া হয়, যা পুরো দেশকে নাড়া দিয়েছিল। প্রায় এক বছরের মধ্যে বিহারগুলো নতুন করে গড়ে তোলা হয়, আর সব ধর্মের প্রতিবেশীরা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ান। নীরবে ও শ্রদ্ধার সঙ্গে ঘুরে দেখা সেই ঘটনার প্রতি সম্মান জানানোর একটি ছোট উপায়।

ভ্রমণ পরিকল্পনা

রামুর বৌদ্ধ বিহার

আধা দিন
  1. ধাপ ১: কক্সবাজার থেকে সিএনজি

    সকালে যাওয়া-আসার জন্য সিএনজি ভাড়া নিন; তখন বিহারগুলো শান্ত ও ঠান্ডা থাকে।

  2. ধাপ ২: শয়নরত বুদ্ধমূর্তি

    বিশাল শয়নরত বুদ্ধমূর্তির বিহার দিয়ে শুরু করুন।

  3. ধাপ ৩: শহরের পুরোনো ক্যাং

    পুরোনো কাঠের বিহার আর প্যাগোডাগুলো দেখুন, ২০১২-র পর নতুন করে গড়াগুলোও।

  4. ধাপ ৪: দুপুরের খাবার ও শহরে ফেরা

    রামু বাজারে খেয়ে দুপুরের পর কক্সবাজারে ফিরুন।

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

অক্টোবর থেকে মার্চ; অক্টোবরেই প্রবারণা পূর্ণিমা, যখন রামুতে হয় বিখ্যাত জাহাজ ভাসানো উৎসব

কীভাবে যাবেন

শহর থেকে চট্টগ্রামের দিকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার, সিএনজিতে আধা ঘণ্টা।

ভ্রমণ টিপস

  • শালীন পোশাক পরুন: কাঁধ ও হাঁটু ঢাকা রাখুন, বিহারে ঢোকার আগে জুতা খুলুন।
  • আস্তে কথা বলুন, মূর্তি ছোঁবেন না, আর বুদ্ধমূর্তির দিকে কখনো পা বাড়িয়ে বসবেন না।
  • ভিক্ষু বা প্রার্থনারত মানুষের ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন; কিছু কক্ষের ভেতরে ছবি তোলা নিষেধ।
  • দান করতে চাইলে প্রতিটি বিহারে সাধারণত দানবাক্স থাকে।
  • বিহারগুলো শহরের নানা দিকে ছড়ানো, তাই যাওয়া-আসার জন্য পুরো সময় একটি সিএনজি ভাড়া নিন।

ঘুরে দেখুন