যশোর, খুলনা

সাগরদাঁড়ি

কপোতাক্ষ নদের তীরের যে গ্রামে কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্ম; তাঁর পৈতৃক বাড়ি এখন জাদুঘর, আর প্রতি জানুয়ারিতে সেখানে মধুমেলা বসে।

স্থানীয় খাবার

  • খেজুর গুড়ের পিঠা

    সাগরদাঁড়ি

    শীতে গ্রামের দোকানে টাটকা খেজুর গুড়ের ভাপা আর চিতই পিঠা।

  • মেলার খাবার

    সাগরদাঁড়ি

    মধুমেলার সময় জিলাপি, বাতাসা, মুড়কি আর মেলার নানা মিষ্টি।

কোথায় খাবেন

  • কেশবপুর বাজার

    কেশবপুর

    ভাত, মাছ-মাংসের সাধারণ রেস্তোরাঁর সবচেয়ে কাছের ভরসা।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • সাগরদাঁড়ির দোকান

    সাগরদাঁড়ি

    জাদুঘরের কাছে চা ও হালকা খাবারের দোকান; মেলার সময় অনেক বেশি।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

কোথায় থাকবেন

  • যশোর শহর

    যশোর

    সাগরদাঁড়ি দিনে দিনে ঘুরে আসা যায়, তাই বেশির ভাগ পর্যটক যশোরে থাকেন।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

সংস্কৃতি

কবির জন্মদিন ঘিরে প্রতি জানুয়ারিতে মধুমেলায় সাগরদাঁড়িতে আবৃত্তি, গান, আলোচনা আর বড় গ্রামীণ মেলা বসে। সারা বাংলাদেশ, এমনকি পশ্চিমবঙ্গ থেকেও কবি ও পাঠকেরা আসেন।

ইতিহাস

মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি সাগরদাঁড়িতে এক ধনী জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতায় পড়াশোনা করেন, খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন, প্রথমে ইংরেজিতে লিখে পরে বাংলায় ফেরেন এবং বাংলা কবিতার ধারা বদলে দেন: প্রবর্তন করেন অমিত্রাক্ষর ছন্দ ও সনেট (চতুর্দশপদী কবিতা), রচনা করেন মহাকাব্য মেঘনাদবধ কাব্য।

শৈশবের নদীকে তিনি কখনো ভোলেননি। ফ্রান্সে থাকার সময় সাগরদাঁড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কপোতাক্ষকে নিয়ে লেখেন সনেট কপোতাক্ষ নদ, যা আজও বাংলার সবচেয়ে প্রিয় কবিতাগুলোর একটি। গ্রামে ফিরে এসে নদীর যে ঘাট থেকে তিনি বিদায় নিয়েছিলেন বলে লোকমুখে প্রচলিত, সেটি বিদায় ঘাট নামে পরিচিত।

দত্ত পরিবারের পুরোনো ভবন, পুকুর ও আঙিনাসহ বাড়িটি এখন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষণে কবির স্মৃতি জাদুঘর; আঙিনায় আছে তাঁর ভাস্কর্য। প্রতি জানুয়ারিতে তাঁর জন্মদিন ঘিরে এখানে বসে মধুমেলা — কবিতা, গান, দোকানপাট আর সারা দেশের দর্শনার্থীর মিলনমেলা।

ভ্রমণ পরিকল্পনা

কবির গ্রামে একটি দিন

যশোর থেকে দিনভর ভ্রমণ
  1. ধাপ ১: সকালে কেশবপুরের পথে

    নাশতার পর বাসে বা ভাড়া গাড়িতে যশোর থেকে রওনা দিন; শীতে পথে খেজুরগাছে গাছিদের কাজ চোখে পড়বে।

  2. ধাপ ২: মধুসূদন জাদুঘর

    পৈতৃক বাড়ি, জাদুঘরের কক্ষ আর কবির ভাস্কর্যসহ আঙিনা ঘুরে দেখুন।

  3. ধাপ ৩: কপোতাক্ষ ও বিদায় ঘাট

    কবির লেখা সেই নদী আর তাঁর বিদায়ের স্মৃতিজড়ানো ঘাট পর্যন্ত হেঁটে আসুন।

  4. ধাপ ৪: দুপুরের খাবার ও ফেরা

    কেশবপুরে খেয়ে বিকেলের মধ্যে যশোরে ফিরুন।

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি; মধুমেলার জন্য জানুয়ারির শেষ ভাগ

কীভাবে যাবেন

যশোর শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে কেশবপুর উপজেলায়। বাসে কেশবপুর (প্রায় এক ঘণ্টা), তারপর স্থানীয় অটোরিকশায় সাগরদাঁড়ি; অথবা আসা-যাওয়ার জন্য সিএনজি বা গাড়ি ভাড়া নিন, এক দিকে প্রায় দেড় ঘণ্টা।

ভ্রমণ টিপস

  • যাওয়ার আগে জাদুঘরের খোলার দিন ও সময় স্থানীয়ভাবে জেনে নিন; সরকারি জাদুঘর সাধারণত সপ্তাহে এক দিন বন্ধ থাকে।
  • মধুমেলার সময় গ্রামে প্রচণ্ড ভিড় হয় — দিনের শুরুতে যান।
  • যাওয়ার আগে কপোতাক্ষ নদ কবিতাটি পড়ে নিন; নদীর পাড়ে হাঁটা তাতে অনেক বেশি অর্থবহ হয়ে ওঠে।
  • বাড়ি, পুকুর আর ঘাটের মধ্যে হাঁটার জন্য আরামদায়ক জুতা পরুন।
  • পুরোনো ভবনের যত্ন নিন: দেয়ালে উঠবেন না, কিছু লিখবেন না।

ঘুরে দেখুন