
সাতক্ষীরা, খুলনা
সাতক্ষীরা
ভারত সীমান্তঘেঁষা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত: চিংড়ি আর কাঁকড়ার দেশ, আগাম হিমসাগর আম, আর মুন্সীগঞ্জে সুন্দরবনের তুলনামূলক নিরিবিলি পশ্চিম প্রবেশদ্বার।
স্থানীয় খাবার
কোথায় খাবেন
কোথায় থাকবেন
সংস্কৃতি
সাতক্ষীরার দক্ষিণ অংশ কৃষিজমি আর বনের মাঝের এক সীমান্ত।
- শ্যামনগরের মৌয়াল মধু সংগ্রাহক, কাঁকড়া শিকারি আর জেলেরা পশ্চিম সুন্দরবনে কাজ করেন; বনে ঢোকার আগে অনেকে বনবিবিকে স্মরণ করেন।
- উপকূলের জমিজুড়ে বাগদা চিংড়ির ঘের আর কাঁকড়া মোটাতাজাকরণের খামার, যার বড় অংশ রপ্তানির জন্য।
- শ্যামনগরের আশপাশের গ্রামে বাস করে আদিবাসী মুন্ডা সম্প্রদায়।
- ঈশ্বরীপুরের যশোরেশ্বরী কালীমন্দিরে বাংলাদেশ ও ভারত থেকে হিন্দু তীর্থযাত্রীরা আসেন।
- উত্তরে সাতক্ষীরা হিমসাগর আমের জন্য পরিচিত, প্রতি গ্রীষ্মে দেশে সবার আগে পাকা আমের মধ্যে।
ইতিহাস
সাতক্ষীরা বাংলাদেশের একেবারে দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে; পশ্চিমে ভারত, দক্ষিণে সুন্দরবন। ষোড়শ শতাব্দীর শেষ দিকে এটি ছিল মোগলদের প্রতিরোধকারী বারো ভূঁইয়াদের অন্যতম রাজা প্রতাপাদিত্যের এলাকা; শ্যামনগরের ঈশ্বরীপুরে প্রাচীন যশোরেশ্বরী মন্দিরের কাছে আজও সে সময়ের নিদর্শন দেখানো হয়।
ব্রিটিশ আমলে সাতক্ষীরা প্রথমে যশোর ও পরে খুলনার মহকুমা হয়, আর ১৯৮৪ সালে আলাদা জেলা। শহরের কাছে ভোমরা স্থলবন্দর ভারতে যাওয়ার দেশের ব্যস্ত পথগুলোর একটি।
জেলার দক্ষিণ — শ্যামনগর ও আশাশুনি — বনের কিনারার নিচু, লোনা, জোয়ার-ভাটার জনপদ। গত কয়েক দশকে চিংড়ি আর কাঁকড়া চাষ এর চেহারা বদলে দিয়েছে, আর ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলা যে গভীর ক্ষত রেখে গেছে, উপকূলের গ্রামগুলো আজও তা থেকে সেরে উঠছে।
ভ্রমণের প্রস্তুতি
ভ্রমণের সেরা সময়
সুন্দরবনের জন্য নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি; সাতক্ষীরার আগাম হিমসাগর আমের জন্য মে মাসের শেষ থেকে জুন
কীভাবে যাবেন
- ঢাকা থেকে বাসে: পদ্মা সেতু পার হয়ে যশোর বা খুলনা হয়ে, পথ ও যানজটভেদে মোটামুটি ৫–৭ ঘণ্টা। কিছু বাস সুন্দরবনের জন্য শ্যামনগর ও মুন্সীগঞ্জ পর্যন্ত যায়।
- খুলনা থেকে: ঘন ঘন বাস, প্রায় ২ ঘণ্টা।
- যশোর থেকে: বাসে প্রায় ২ ঘণ্টা।
- ট্রেনে: সাতক্ষীরায় রেলপথ নেই; ট্রেনে খুলনা বা যশোর গিয়ে বাসে আসুন।
- আকাশপথে: সবচেয়ে কাছের বিমানবন্দর যশোর।
শহরে চলাচল
- সাতক্ষীরা শহরে রিকশা আর ইজিবাইক।
- শহর থেকে দক্ষিণে শ্যামনগর ও মুন্সীগঞ্জে বাস চলে, প্রায় ২–২.৫ ঘণ্টা।
- শ্যামনগরের আশপাশে ঈশ্বরীপুর ও নদীতীরের গ্রামে ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল।
- সুন্দরবনে যাওয়া যায় শুধু মুন্সীগঞ্জ থেকে নৌকায়, বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে।