বাগেরহাট, খুলনা

ষাট গম্বুজ মসজিদ

খান জাহান আলীর পঞ্চদশ শতাব্দীর বিশাল ইটের মসজিদ, বাংলাদেশে সালতানাত আমলের সবচেয়ে বড়, আর ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য মসজিদের শহর বাগেরহাটের কেন্দ্র।

স্থানীয় খাবার

  • গলদা চিংড়ির তরকারি

    ষাট গম্বুজ মসজিদ

    বাগেরহাটের নিজস্ব গলদা চিংড়ি, মালাইকারি বা ভুনা।

  • চুইঝাল

    ষাট গম্বুজ মসজিদ

    ঝাঁঝালো চুই দিয়ে রান্না মাংস, অঞ্চলের বিশেষ পদ।

  • ডাব

    ষাট গম্বুজ মসজিদ

    রাস্তার ধারের বিক্রেতার তাজা ডাবের পানি, গরমের দিনে প্রশান্তি।

কোথায় খাবেন

  • বাগেরহাট শহর

    বাগেরহাট সদর

    দুপুরে ভাত-তরকারির জন্য শহরের কেন্দ্রের রেস্তোরাঁ।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • মসজিদের কাছের দোকান

    ষাট গম্বুজ

    প্রবেশপথের কাছে চা, হালকা খাবার আর ডাব।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

কোথায় থাকবেন

  • খুলনা শহর

    প্রায় ১ ঘণ্টার পথ

    বেশির ভাগ পর্যটক খুলনায় থেকে দিনে দিনে মসজিদের শহর ঘুরে যান।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • বাগেরহাট শহর

    বাগেরহাট সদর

    স্থাপনাগুলোর কাছে কয়েকটি সাধারণ হোটেল।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

ইতিহাস

ষাট গম্বুজ মসজিদ পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি খান জাহান আলী তাঁর শহর খলিফাতাবাদের প্রধান মসজিদ হিসেবে নির্মাণ করেন। নাম ষাট গম্বুজ হলেও নামাজঘরের ওপর গম্বুজ আছে ৭৭টি, এগারোটি করে সাত সারিতে, যা দাঁড়িয়ে আছে ৬০টি পাথরের স্তম্ভের ওপর — নামের একটি ব্যাখ্যা এটিই। চার কোণে চারটি গোলাকার মিনার, আর পুরু ইটের দেয়ালে পোড়ামাটির অলংকরণ।

বাংলাদেশে সালতানাত আমলের এটিই সবচেয়ে বড় মসজিদ, আর ১৯৮৫ সাল থেকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য ঐতিহাসিক মসজিদের শহর বাগেরহাটের কেন্দ্রবিন্দু। মসজিদটিতে এখনো নামাজ হয়।

এর চারপাশে খলিফাতাবাদের আরও স্থাপনা: মসজিদের পাশে বড় ঘোড়াদিঘি, রাস্তার ওপারে এক গম্বুজের সিংড়া মসজিদ, আর একটু দূরে নয় গম্বুজ মসজিদ, বিবি বেগনি, চুনাখোলা ও রেজা খোদা মসজিদ। ষাট গম্বুজ মসজিদের পাশে ছোট একটি জাদুঘরে শহরের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।

ভ্রমণ পরিকল্পনা

মসজিদের শহরে একটি দিন

এক দিন
  1. ধাপ ১: ষাট গম্বুজ মসজিদ

    খুলনা থেকে সকাল সকাল পৌঁছে ভিড়ের আগেই স্তম্ভের সারির মাঝ দিয়ে হাঁটুন।

  2. ধাপ ২: জাদুঘর ও ঘোড়াদিঘি

    জাদুঘর দেখে বড় দিঘির পাড় ধরে হেঁটে সিংড়া মসজিদে যান।

  3. ধাপ ৩: ছোট মসজিদগুলো

    ইজিবাইকে মাঠের মাঝে নয় গম্বুজ মসজিদ, বিবি বেগনি ও চুনাখোলা দেখুন।

  4. ধাপ ৪: শহরে দুপুরের খাবার

    বাগেরহাট শহরে চিংড়ির তরকারি আর ভাত।

  5. ধাপ ৫: খান জাহান আলীর মাজার

    বিকেল শেষ করুন বড় দিঘির পাশে সাধকের মাজারে, তারপর খুলনায় ফিরুন।

মানচিত্র

গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)বড় মানচিত্র দেখুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি, সকালে বা বিকেলে; নামাজের সময়, বিশেষ করে শুক্রবার দুপুর এড়িয়ে চলুন

কীভাবে যাবেন

বাগেরহাট শহর থেকে পশ্চিমে কয়েক কিলোমিটার, খুলনা সড়কের পাশে; ইজিবাইক বা সিএনজিতে ১০–১৫ মিনিট। খুলনা থেকে আসা বাস পথেই মসজিদের সামনে নামিয়ে দিতে পারে।

শহরে চলাচল

  • ঘোড়াদিঘি ও সিংড়া মসজিদ ষাট গম্বুজ মসজিদ থেকে হাঁটা পথ।
  • নয় গম্বুজ মসজিদ, বিবি বেগনি, চুনাখোলা আর মাজারের জন্য ইজিবাইক বা সিএনজি।

ভ্রমণ টিপস

  • শালীন পোশাক পরুন; নারীরা মাথা ঢেকে নিন, নামাজঘরে সবাই জুতা খুলে ঢুকুন।
  • নামাজরত কারও সামনে দিয়ে হাঁটবেন না, নামাজের সময়, বিশেষ করে শুক্রবার দুপুর এড়িয়ে চলুন।
  • স্থাপনা ও জাদুঘরে প্রবেশ টিকিট লাগে; যাওয়ার আগে বর্তমান খোলার দিন ও সময় জেনে নিন।
  • অন্য মসজিদগুলো আর খান জাহান আলীর মাজার একসঙ্গে দেখতে কয়েক ঘণ্টার জন্য ইজিবাইক ভাড়া নিন।
  • পানি আর টুপি সঙ্গে রাখুন — স্থাপনাগুলোর মাঝে ছায়া কম।

ঘুরে দেখুন