নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা

সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর

বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের জাদুঘর, লেক আর বাগানঘেরা পুরোনো জমিদারবাড়িতে, পানাম নগর থেকে অল্প দূরে।

স্থানীয় খাবার

  • মেলার পিঠা ও নাশতা

    সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর

    লোকজ মেলার সময় প্রাঙ্গণে গ্রামের পিঠা, মুড়কি আর অন্যান্য প্রথাগত নাশতা বিক্রি হয়।

  • ভাত ও নদীর মাছ

    সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর

    মোগরাপাড়ার রেস্তোরাঁয় ভাত, মাছের তরকারি আর ডালের সাদামাটা দুপুরের খাবার।

কোথায় খাবেন

  • মোগরাপাড়া

    সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ

    মহাসড়কের মোড়ে রেস্তোরাঁ ও চায়ের দোকান।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • জাদুঘরের গেটের দোকান

    সোনারগাঁও

    গেটের বাইরে নাশতা ও চায়ের দোকান, ছুটির দিনে ব্যস্ত।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

কোথায় থাকবেন

  • ঢাকা থেকে দিনভর ভ্রমণ

    ঢাকা

    বেশির ভাগ পর্যটক একই দিনে ঢাকায় ফেরেন; সাপ্তাহিক ছুটিতে থাকতে চাইলে সোনারগাঁয়ের কাছের রিসোর্ট।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

সংস্কৃতি

ঢাকার কাছে বাংলাদেশের লোকজ কারুশিল্পের বৈচিত্র্য একসঙ্গে দেখার সবচেয়ে ভালো জায়গা এই জাদুঘর, আর শীতের মেলায় জীবন্ত ঐতিহ্য — কুমার, তাঁতি, কাঁথাশিল্পী আর লোকশিল্পী — এর প্রাঙ্গণে উঠে আসে।

ইতিহাস

চিত্রশিল্পী জয়নুল আবেদিনের উদ্যোগে ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন — তিনি চেয়েছিলেন দেশের গ্রামীণ কারুশিল্প পুরোনো রাজধানী সোনারগাঁয়ে সংরক্ষিত হোক।

জাদুঘরটি বড় সরদার বাড়িতে — বিংশ শতকের গোড়ার একটি সংস্কার করা প্রাসাদ, জমকালো সম্মুখভাগ, ভেতরের উঠান আর পুকুরসহ, চারপাশে লেক, গাছপালা আর কারুপল্লীঘেরা বিশাল প্রাঙ্গণ। সংগ্রহে আছে নকশিকাঁথা, মৃৎশিল্প ও পোড়ামাটির কাজ, কাঠখোদাই, বেত ও বাঁশের কাজ, ধাতব সামগ্রী, বাদ্যযন্ত্র আর লোকজ পোশাক।

শীতের মাসগুলোতে এই প্রাঙ্গণেই হয় ফাউন্ডেশনের লোকজ মেলা, তখন সারা দেশের কারুশিল্পীরা তাঁদের কাজ বিক্রি করেন আর লোকশিল্পীরা গান করেন।

ভ্রমণ পরিকল্পনা

একদিনে পুরোনো সোনারগাঁও

ঢাকা থেকে সারা দিন
  1. ধাপ ১: বাসে মোগরাপাড়া

    সকালে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাসে উঠে মোগরাপাড়ায় নামুন।

  2. ধাপ ২: লোকশিল্প জাদুঘর

    সকালটা কাটান প্রাসাদের গ্যালারি, কারুপল্লী আর লেকের ধারের প্রাঙ্গণে।

  3. ধাপ ৩: পানাম নগর

    কয়েক মিনিট দূরের পুরোনো সওদাগরি বাড়ির একমাত্র সড়কে হাঁটুন।

  4. ধাপ ৪: গোয়ালদী মসজিদ, তারপর ফেরা

    কাছের সুলতানি আমলের গোয়ালদী মসজিদ দেখে মহাসড়কে ফিরে ঢাকার বাস ধরুন।

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি, বিশেষ করে শীতের লোকজ মেলার সময়

কীভাবে যাবেন

সোনারগাঁয়ে, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোগরাপাড়া থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার ভেতরে। নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে বাস বা সিএনজিতে মোগরাপাড়া (প্রায় ৪৫ মিনিট, যানজটে বেশি), তারপর সিএনজি বা ব্যাটারিচালিত অটোতে জাদুঘরের গেট। পানাম নগর সেখান থেকে কয়েক মিনিটের পথ।

ভ্রমণ টিপস

  • প্রবেশে টিকিট লাগে; বর্তমান মূল্য, খোলার সময় ও সাপ্তাহিক বন্ধের দিন স্থানীয়ভাবে জেনে নিন।
  • পানাম নগর ও গোয়ালদী মসজিদের সঙ্গে মিলিয়ে ঘুরুন, সব কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে।
  • প্রাঙ্গণ বড়; অন্তত দুই ঘণ্টা ধরে রাখুন।
  • মেলা বা কারুপল্লী থেকে কারুপণ্য কিনলে শিল্পীরা সরাসরি উপকৃত হন।
  • শুক্রবার আর মেলার মৌসুমে ভিড় হয়; সকাল সকাল যান।

ঘুরে দেখুন