রাজশাহী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত সবুজ, বিশাল ক্যাম্পাস; গাছে ঢাকা পথে বিকেলে হাঁটার জন্য চমৎকার।

স্থানীয় খাবার

  • চা ও নাশতা

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

    শিক্ষার্থীদের ভিড় জমানো দোকানের দুধ-চা, সিঙ্গাড়া আর সমুচা।

  • কালাই রুটি

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

    রাজশাহীর মাষকলাইয়ের রুটি, শীতের সন্ধ্যায় দারুণ।

কোথায় খাবেন

  • ক্যাম্পাস ও ফটকের দোকান

    মতিহার

    ক্যাম্পাসে আর ফটকের আশপাশে শিক্ষার্থীদের সস্তা চায়ের দোকান ও সাধারণ খাবারের হোটেল।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • সাহেববাজার

    রাজশাহী শহর

    ভালোভাবে খেতে চাইলে শহরের কেন্দ্রে ফিরুন।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

কোথায় থাকবেন

  • রাজশাহী শহর

    রাজশাহী শহর

    শহরের কেন্দ্রে থাকুন; ক্যাম্পাস ১৫–২০ মিনিটের পথ।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

সংস্কৃতি

এখানে জীবনের ছন্দ ঠিক করে ছাত্রজীবন। পহেলা বৈশাখ আর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ক্যাম্পাসে শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়, আর ১৮ ফেব্রুয়ারি — জোহা দিবস — ড. শামসুজ্জোহাকে স্মরণ করা হয়।

ইতিহাস

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, প্রতিষ্ঠিত ১৯৫৩ সালে, বাংলাদেশের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি। শহরের পূর্ব প্রান্তে মতিহারের ক্যাম্পাস এর বিশালতা আর সবুজের জন্য বিখ্যাত: অনুষদ ভবন আর হলগুলোর মাঝে গাছে ঢাকা দীর্ঘ পথ, পুকুর আর চওড়া মাঠ।

দেশের ইতিহাসে এই ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থান আছে। ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি গণ-অভ্যুত্থানের সময় রসায়নের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা আন্দোলনরত ছাত্রদের রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হন — সংগ্রামে প্রাণ দেওয়া প্রথম বুদ্ধিজীবীদের একজন হিসেবে তিনি স্মরণীয়। ক্যাম্পাসে তাঁর কবর ও স্মৃতিফলক আছে, আর প্রতি বছর ১৮ ফেব্রুয়ারি এখানে দিনটি পালিত হয়।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ক্যাম্পাসের একাংশ সেনাক্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সেখানে এখন একটি গণকবরের স্মৃতিস্তম্ভ। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা আর ভাস্কর্য সাবাশ বাংলাদেশ দর্শনার্থীদের সবচেয়ে আগ্রহের জায়গাগুলোর মধ্যে।

ভ্রমণ পরিকল্পনা

ক্যাম্পাসে একটি বিকেল

আধা দিন
  1. ধাপ ১: শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা

    খোলা থাকলে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর দিয়ে শুরু করুন।

  2. ধাপ ২: জোহার স্মৃতিস্থল

    ড. শামসুজ্জোহার কবর ও স্মৃতিস্থলে শ্রদ্ধা জানান।

  3. ধাপ ৩: সাবাশ বাংলাদেশ

    ক্যাম্পাসের অন্যতম প্রতীক মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্যটি দেখুন।

  4. ধাপ ৪: বিকেলের হাঁটা

    আলো কমে এলে গাছে ঢাকা পথে হাঁটুন, তারপর শিক্ষার্থীদের দোকানে চা খান।

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

অক্টোবর থেকে মার্চ, পড়ন্ত বিকেল; ক্লাস চলার সময় ক্যাম্পাস প্রাণবন্ত, ছুটিতে নিরিবিলি

কীভাবে যাবেন

শহরের পূর্ব প্রান্তে মতিহারে; কেন্দ্র থেকে অটোরিকশায় ১৫–২০ মিনিট।

শহরে চলাচল

  • ক্যাম্পাস বিশাল; প্রধান পথগুলো হেঁটে ঘুরতে এক ঘণ্টা বা তারও বেশি লাগে।
  • প্রধান সড়কে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলে, স্মৃতিস্তম্ভ, জাদুঘর আর ফটকগুলোর মধ্যে যাতায়াত করা যায়।

ভ্রমণ টিপস

  • এটি চালু বিশ্ববিদ্যালয়: সর্বসাধারণের জায়গায় থাকুন, আমন্ত্রণ ছাড়া হল বা ক্লাসরুমে ঢুকবেন না।
  • যাওয়ার আগে শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালার খোলার দিন ও সময় জেনে নিন।
  • ক্যাম্পাস বিশাল — আরামদায়ক জুতা পরুন, অথবা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় রিকশা নিন।
  • স্মৃতিস্তম্ভ ও গণকবরে শ্রদ্ধাশীল থাকুন।
  • পরীক্ষা বা অস্থিরতার সময় প্রবেশপথ ও যাতায়াত বদলাতে পারে; সন্দেহ হলে স্থানীয়ভাবে জেনে নিন।

ঘুরে দেখুন