বগুড়া, রাজশাহী

ভাসুবিহার

মহাস্থানগড়ের উত্তর-পশ্চিমে গ্রামের মাঝে বৌদ্ধবিহার আর মন্দিরের নিরিবিলি ইটের ধ্বংসাবশেষ — সম্ভবত সপ্তম শতকে এক চীনা পরিব্রাজকের বর্ণনা করা সেই বিহার।

স্থানীয় খাবার

  • কটকটি

    ভাসুবিহার

    পথে মহাস্থানগড় বাজার থেকে কিনে নিন।

  • বগুড়ার দই

    ভাসুবিহার

    শহরে ফিরে দিন শেষ করার মিষ্টি দই।

কোথায় খাবেন

  • মহাস্থানগড় বাজার

    শিবগঞ্জ, বগুড়া

    ভরপেট খাওয়ার সবচেয়ে কাছের জায়গা।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

কোথায় থাকবেন

ইতিহাস

ভাসুবিহার — স্থানীয়ভাবে নরপতির ধাপ নামেও পরিচিত — কয়েকটি নিচু ঢিবি, যার নিচে লুকিয়ে ছিল বৌদ্ধ স্থাপনা। ১৯৭০-এর দশকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খননে বেরিয়ে আসে আঙিনা ঘিরে ভিক্ষুদের কক্ষসহ দুটি বিহার আর একটি ক্রুশাকার মন্দির, সঙ্গে পোড়ামাটির ফলক, ব্রোঞ্জের মূর্তিসহ নানা নিদর্শন।

অনেক পণ্ডিত স্থানটিকে পো-শি-পো বিহার বলে শনাক্ত করেন — পুণ্ড্রবর্ধনের রাজধানীর কাছের যে বিহারের কথা সপ্তম শতকে চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং লিখেছিলেন, যেখানে শত শত ভিক্ষু পড়াশোনা করতেন। তা-ই যদি হয়, তবে এটি ছিল মহাস্থানগড় আর আরও পশ্চিমের পাহাড়পুরের জগতেরই এক শিক্ষাকেন্দ্র।

আজ টিকে আছে মাটি থেকে সামান্য উঁচু ইটের ভিত ও দেয়াল, খেত আর গাছপালার মাঝে। মহাস্থানের চেয়ে অনেক নিরিবিলি; হেঁটে হেঁটে কক্ষ আর আঙিনার নকশা বোঝা যায়।

ভ্রমণ পরিকল্পনা

মহাস্থান ও ভাসুবিহার

এক দিন
  1. ধাপ ১: সকালে মহাস্থানগড়

    দুর্গনগরী ঘুরে প্রত্নস্থলের জাদুঘর দেখুন।

  2. ধাপ ২: বাজারে দুপুরের খাবার

    সাদামাটা খাবার খেয়ে কটকটি কিনে নিন।

  3. ধাপ ৩: ভাসুবিহারের পথে

    গ্রামের ভেতর দিয়ে অটোরিকশায় গিয়ে বিহারের ধ্বংসাবশেষ ঘুরে দেখুন।

  4. ধাপ ৪: ফেরার পথে গোকুল মেধ

    বিকেলের আলোয় ঢিবিতে থেমে বগুড়ায় ফিরুন।

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

অক্টোবর থেকে মার্চ; দুপুরের কড়া রোদ এড়িয়ে চলুন

কীভাবে যাবেন

শিবগঞ্জ উপজেলায়, মহাস্থানগড় থেকে উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ৬ কিলোমিটার। বগুড়া থেকে বাস বা সিএনজিতে মহাস্থান (প্রায় ৩০–৪০ মিনিট), তারপর গ্রামের রাস্তায় অটোরিকশা বা ভ্যানে; চালকেরা ভাসুবিহার বা নরপতির ধাপ নামে চেনেন।

ভ্রমণ টিপস

  • মহাস্থানগড় দেখার পর আসুন: সেখানকার জাদুঘর এই ধ্বংসাবশেষ বুঝতে সাহায্য করে।
  • এখানে সুযোগ-সুবিধা সামান্য; পানি আর হালকা খাবার সঙ্গে রাখুন।
  • অটোরিকশা অপেক্ষায় রাখুন, ফেরার গাড়ি কম মিলতে পারে।
  • পথ ধরে হাঁটুন, দেয়ালে উঠবেন না।
  • ফটক ও তত্ত্বাবধায়কের সময় বদলেছে কি না স্থানীয়ভাবে জেনে নিন।

ঘুরে দেখুন