গাজীপুর, ঢাকা

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান

ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে পুরোনো ভাওয়াল শালবনের সংরক্ষিত অংশ, ছায়াঘেরা পথ, জলাশয় আর পিকনিক স্পট।

স্থানীয় খাবার

  • পিকনিকের খিচুড়ি

    ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান

    মুরগি বা গরুর মাংসের সঙ্গে খিচুড়ি, বনের প্রতিটি শীতের পিকনিকের খাবার।

  • কাঁঠাল

    ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান

    গ্রীষ্মের শুরুতে বনের আশপাশের গ্রাম থেকে এনে মহাসড়কের ধারে বিক্রি হয়।

কোথায় খাবেন

  • গেটের কাছের রেস্তোরাঁ

    ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক

    উদ্যানের কাছে মহাসড়কের ধারে সাধারণ রেস্তোরাঁ ও চায়ের দোকান; ভেতরে খাবার তেমন নেই, তাই শুকনো খাবার সঙ্গে নিন।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

কোথায় থাকবেন

  • রাজেন্দ্রপুরের আশপাশের রিসোর্ট

    গাজীপুর

    কাছের শালবনে বেসরকারি রিসোর্ট; বেশির ভাগ পর্যটক অবশ্য ঢাকা থেকে দিনে এসে ফিরে যান।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

ইতিহাস

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান রক্ষা করছে সেই শালবনের একটি অংশ, যা একসময় ঢাকার উত্তরের লাল মাটির উঁচু ভূমি ঢেকে রাখত — ভাওয়াল জমিদারদের পুরোনো এলাকা। বাকি বন উজাড় হওয়া থেকে বাঁচাতে ১৯৭০-এর দশকে একে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়।

প্রধান গাছ শাল, মাঝে মিশ্র বন, ঘাসে ঢাকা খোলা জায়গা, ছোট জলাশয় আর খাল। এখানে পাখি ও ছোট প্রাণী দেখা যায়, যদিও পুরোনো বনের বড় বন্যপ্রাণী বহু আগেই হারিয়ে গেছে।

আজ উদ্যানটি সবার আগে ঢাকার মানুষের হাঁফ ছাড়ার জায়গা: শীতে পিকনিকের দলে ভরে যায়, আর নিরিবিলি দিনে ছায়ায় লম্বা হাঁটার জন্য শান্ত জায়গা।

ভ্রমণ পরিকল্পনা

শালবনে একদিন

ঢাকা থেকে সারা দিন
  1. ধাপ ১: ভোরে ঢাকা ছাড়ুন

    সকালের যানজট শুরুর আগে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক ধরে বাসে রওনা দিন।

  2. ধাপ ২: সকালের হাঁটা

    প্রধান গেট দিয়ে ঢুকে শালগাছের মাঝের পথে হাঁটুন, তখন পাখিরা সবচেয়ে সক্রিয়।

  3. ধাপ ৩: জলাশয়ের ধারে

    জলাশয় আর খোলা জায়গার ধারে বিশ্রাম নিন, সঙ্গে আনা খাবার বা বুকিং দেওয়া পিকনিক স্পটে দুপুরের খাবার।

  4. ধাপ ৪: সন্ধ্যার আগে ফেরা

    বিকেলে উদ্যান থেকে বেরিয়ে সন্ধ্যার ভিড়ের আগে ঢাকার পথ ধরুন।

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি; শুক্রবারের চেয়ে কর্মদিবসে অনেক নিরিবিলি

কীভাবে যাবেন

জয়দেবপুরের উত্তরে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে, গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে বাস বা সিএনজিতে যানজট বুঝে ৩০–৪৫ মিনিট। ময়মনসিংহ বা শ্রীপুরগামী যেকোনো বাসে জাতীয় উদ্যানের গেটে নামিয়ে দিতে বলুন।

শহরে চলাচল

উদ্যানের ভেতরে হেঁটেই ঘুরতে হয়: গেট থেকে পাকা ও মাটির পথ জলাশয় আর পিকনিক স্পট পেরিয়ে শালবনের ভেতরে গেছে।

ভ্রমণ টিপস

  • প্রবেশে টিকিট লাগে; বর্তমান মূল্য ও সময় গেটে জেনে নিন।
  • শীত মৌসুমে পিকনিক স্পট বন বিভাগের কাছে আগে বুকিং দিতে হয় — স্থানীয়ভাবে জেনে নিন।
  • বন্ধ জুতা পরুন; বৃষ্টির পর পথ কাদা হয়।
  • পানি সঙ্গে রাখুন, আর নিজের ময়লা ফেরত নিয়ে আসুন।
  • প্রধান পথে থাকুন, সন্ধ্যার আগে বেরিয়ে আসুন; বনের কিছু অংশ নির্জন।
  • পাখি আর নীরবতার জন্য কর্মদিবসে সকাল সকাল যান।

ঘুরে দেখুন