ভোলা, বরিশাল

চর কুকরি-মুকরি

ভোলার দক্ষিণ প্রান্তের ম্যানগ্রোভ দ্বীপ; চিত্রা হরিণ, বানর আর শীতে কাদাচরে অতিথি পাখির ঝাঁক নিয়ে একটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য।

স্থানীয় খাবার

  • তাজা মাছ

    চর কুকরি-মুকরি

    স্থানীয় কারও বা মাঝির সঙ্গে ব্যবস্থা করলে সেদিনের ধরা মাছ, সাদামাটা রান্নায়।

  • মহিষের দই

    চর কুকরি-মুকরি

    ফেরার পথে চরফ্যাশনে কিনে নিন।

কোথায় খাবেন

  • চরফ্যাশন শহর

    চরফ্যাশন

    যাত্রার আগে-পরে এখানে ভালো করে খেয়ে নিন; দ্বীপে খাবার সঙ্গে নিয়ে যান।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

কোথায় থাকবেন

  • চরফ্যাশন শহর

    চরফ্যাশন

    সাধারণত এখানেই থাকা হয়: আগের রাতে থেকে ভোরে ঘাটের দিকে রওনা দিন।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • দ্বীপে সাধারণ থাকার ব্যবস্থা

    চর কুকরি-মুকরি

    খুবই সীমিত আর সাধারণ; আগেই ব্যবস্থা করুন, স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিন।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

ইতিহাস

চর কুকরি-মুকরি ভোলার একেবারে দক্ষিণে, চরফ্যাশন উপজেলায়, মেঘনার মোহনার একটি দ্বীপ, যেখানে নদী মিশেছে বঙ্গোপসাগরে। এর বড় অংশ ম্যানগ্রোভ বনে ঢাকা, যা গত কয়েক দশকে লাগানো ও সংরক্ষিত হয়েছে, আর এটি ঘোষিত বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য।

বনে আশ্রয় নেয় চিত্রা হরিণ, বানর, বুনো শূকর আর নানা পাখি; শীতে এর খাল আর কাদাচরে আসে প্রচুর অতিথি জলচর পাখি। বনের পাশেই দ্বীপে থাকে ছোট ছোট জেলে ও কৃষক জনগোষ্ঠী।

এত দূরে বলে কুকরি-মুকরিকে দেশের বাকি অংশ থেকে অনেক দূরের মনে হয়: ম্যানগ্রোভের ভেতর দিয়ে এঁকেবেঁকে চলা সরু জোয়ারের খাল, কাদা-বালুর খোলা সৈকত, আর হাতে গোনা দর্শনার্থী।

ভ্রমণ পরিকল্পনা

ম্যানগ্রোভে একটি দিন

চরফ্যাশন থেকে ১ দিন
  1. ধাপ ১: ভোরে ঘাটের পথে

    সারা দিনের খাবার আর পানি নিয়ে ভোরে চরফ্যাশন থেকে ঘাটের দিকে রওনা দিন।

  2. ধাপ ২: দ্বীপে পার

    শান্ত আবহাওয়ায় লাইফ জ্যাকেট হাতের কাছে রেখে ট্রলারে পার হোন।

  3. ধাপ ৩: খালের ভেতরে

    নৌকায় জোয়ারের খাল ধরে ম্যানগ্রোভের ভেতরে যান, হরিণ, বানর আর পাখি খুঁজুন।

  4. ধাপ ৪: বনের কিনারায় হাঁটা

    গাইডের সঙ্গে বনের ধারের পথ ধরে খোলা তীর পর্যন্ত হাঁটুন।

  5. ধাপ ৫: অন্ধকারের আগে ফেরা

    বিকেলেই পার হয়ে সন্ধ্যার আগে চরফ্যাশনে ফিরুন।

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

শান্ত পানি আর অতিথি পাখির জন্য নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি; বর্ষা আর ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম এড়িয়ে চলুন

কীভাবে যাবেন

ভোলা শহর থেকে বাস বা সিএনজিতে দক্ষিণে চরফ্যাশন (ঘণ্টা দুয়েক), তারপর কচ্ছপিয়ার মতো কোনো ঘাটে; সেখান থেকে ট্রলারে দ্বীপে পার হতে হয়। নৌকার সময় জোয়ার-ভাটা আর আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে — স্থানীয়ভাবে জেনে নিন, কেবল শান্ত আবহাওয়ায় যান।

শহরে চলাচল

  • দ্বীপে ঘুরতে হয় হেঁটে, গ্রামের পথ আর বনের কিনারা ধরে।
  • ভাড়া করা নৌকায় জোয়ারের খাল ধরে ম্যানগ্রোভের ভেতরে আর কাদাচরে যাওয়া যায়; আগেই পথ আর ফেরার সময় ঠিক করে নিন।

ভ্রমণ টিপস

  • কেবল শান্ত আবহাওয়ায় যান; পূর্বাভাস আর ঝড়ের সংকেত দেখে নিন, সংকেত থাকলে বা পানি উত্তাল দেখালে ট্রলারে উঠবেন না।
  • লাইফ জ্যাকেট পরে থাকুন বা হাতের কাছে রাখুন, অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া নৌকা এড়িয়ে চলুন।
  • জোয়ার-ভাটা মাথায় রেখে পরিকল্পনা করুন — কিছু খাল আর ঘাট কেবল নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবহার করা যায়; মাঝিদের জিজ্ঞেস করুন।
  • বনে স্থানীয় গাইড বা বন বিভাগের কর্মীর সঙ্গে যান, পথের বাইরে যাবেন না, বন্যপ্রাণী থেকে দূরে থাকুন।
  • পানি, খাবার, টর্চ, মশা তাড়ানোর ক্রিম আর নগদ টাকা সঙ্গে রাখুন; দোকান প্রায় নেই।
  • অভয়ারণ্যে প্লাস্টিক বা ময়লা ফেলবেন না।

ঘুরে দেখুন