মৌলভীবাজার, সিলেট

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান

উল্লুকের আবাস এই বর্ষাবনের ভেতর দিয়ে চলে গেছে রেললাইন।

স্থানীয় খাবার

  • সাত রঙের চা

    লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান

    হাঁটা শেষে শ্রীমঙ্গলে ফিরে শহরের বিখ্যাত স্তরে স্তরে ঢালা চা।

  • খাসিয়া পান

    লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান

    বনের ভেতরের খাসিয়া গ্রামে চাষ করা পান।

  • আনারস

    লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান

    আশপাশের টিলার বাগানের মিষ্টি আনারস, মৌসুমে।

কোথায় খাবেন

  • উদ্যানের প্রবেশপথের দোকান

    লাউয়াছড়া

    চা, পানি আর হালকা খাবার; লম্বা পথে গেলে নিজের পানি সঙ্গে নিন।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • শ্রীমঙ্গল শহর

    শ্রীমঙ্গল

    ১৫–২০ মিনিটের দূরত্বে ভরপেট খাবার আর নীলকণ্ঠ টি কেবিনের সাত রঙের চা।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

কোথায় থাকবেন

  • শ্রীমঙ্গলের চা-বাগানের রিসোর্ট

    শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার

    চা-বাগানের কটেজ ও রিসোর্ট, কয়েকটি উদ্যান থেকে অল্প দূরে — ভোরে বের হওয়ার জন্য আদর্শ।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • শ্রীমঙ্গল শহরের হোটেল

    শ্রীমঙ্গল

    শহরে সাধারণ, কম খরচের হোটেল।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

সংস্কৃতি

বনের ভেতরে একটি খাসিয়া গ্রাম, যেখানে গাছ বেয়ে ওঠা লতায় পান চাষ হয়। কাছেই কমলগঞ্জের গ্রামগুলোতে নৃত্য আর তাঁতের জন্য পরিচিত মণিপুরি সম্প্রদায়ের বাস। শ্রদ্ধা নিয়ে ঘুরুন, মানুষ বা বাড়িঘরের ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন।

ইতিহাস

শ্রীমঙ্গলের কাছে কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান দেশের সবচেয়ে পরিচিত বর্ষাবনগুলোর একটি। নিচু টিলার ওপর লম্বা গাছের মিশ্র চিরসবুজ এই বন ১৯৯০-এর দশক থেকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে সংরক্ষিত; এর বড় অংশ ব্রিটিশ আমলে লাগানো বা পরিচর্যা করা।

সবার আগে এটি উল্লুকের আবাস — বাংলাদেশে পাওয়া একমাত্র এপ জাতের প্রাণী, যার জোরালো ডাক ভোরবেলা বনজুড়ে প্রতিধ্বনিত হয়। মুখপোড়া হনুমান, বানর, নানা রকম পাখি, পোকামাকড় আর সরীসৃপও এখানে থাকে।

একটি অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য হলো বনের ঠিক মাঝ দিয়ে চলে যাওয়া রেললাইন, ঢাকা–সিলেট রেলপথের অংশ; গাছের ফাঁক দিয়ে ট্রেন বেরিয়ে আসার দৃশ্য লাউয়াছড়ার আকর্ষণের অংশ। বলা হয়, ১৯৫৬ সালের হলিউড ছবি অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেজ-এর একটি দৃশ্য এখানে ধারণ করা হয়েছিল। উদ্যানের ভেতরে একটি খাসিয়া গ্রামও আছে, যেখানে পান চাষ হয়।

ভ্রমণ পরিকল্পনা

লাউয়াছড়ায় একটি সকাল

আধা দিন
  1. ধাপ ১: ভোর — শ্রীমঙ্গল থেকে রওনা

    উদ্যান খোলার সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছাতে সিএনজিতে রওনা দিন।

  2. ধাপ ২: বনপথে

    চিহ্নিত কোনো পথ ধরে ধীরে, নীরবে হাঁটুন; উল্লুক আর পাখির ডাকের দিকে কান রাখুন।

  3. ধাপ ৩: রেললাইন

    গাছের মাঝ দিয়ে চলে যাওয়া রেললাইন দেখুন — লাইনের ওপর নয়, নিরাপদ দূরত্ব থেকে।

  4. ধাপ ৪: বেলা বাড়লে — ফিরে চা

    শ্রীমঙ্গলে ফিরে নাশতা বা আগেভাগে দুপুরের খাবার, সঙ্গে এক কাপ সাত রঙের চা।

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

শুকনো বনপথের জন্য অক্টোবর থেকে মার্চ; বর্ষায় বন সবচেয়ে সবুজ, তবে কাদা আর জোঁক থাকে। বন্যপ্রাণী দেখতে ভোরে যান।

কীভাবে যাবেন

শ্রীমঙ্গল শহর থেকে কমলগঞ্জ সড়কে প্রায় ৮ কিলোমিটার, সিএনজিতে ১৫–২০ মিনিট।

শহরে চলাচল

উদ্যান ঘুরতে হয় পায়ে হেঁটে। প্রবেশপথ থেকে নানা দৈর্ঘ্যের চিহ্নিত পথ — এক ঘণ্টার কম সময়ের ছোট পথ থেকে কয়েক ঘণ্টার হাঁটা পর্যন্ত — বনের ভেতরে গেছে। কোন পথ খোলা আর গাইড লাগবে কি না, প্রবেশপথে জেনে নিন।

ভ্রমণ টিপস

  • ভোরে যান। সূর্য ওঠার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টায় উল্লুক ডাকে, আর ভিড় আসার আগে বন থাকে নিরিবিলি।
  • নীরব থাকুন, গান বাজাবেন না; অনেক বেশি বন্যপ্রাণী দেখতে পাবেন।
  • লম্বা প্যান্ট আর বন্ধ জুতা পরুন। বর্ষায় জোঁক থেকে বাঁচতে প্যান্ট মোজার ভেতরে গুঁজে নিন, সঙ্গে লবণ রাখুন।
  • রেললাইনে সাবধান: বনের ভেতর দিয়ে সত্যিই ট্রেন চলে, তাই লাইনের ওপর দাঁড়াবেন বা বসবেন না।
  • চিহ্নিত পথ ধরে হাঁটুন; লম্বা পথের জন্য স্থানীয় গাইড নেওয়া ভালো, কখনো বাধ্যতামূলকও হতে পারে — প্রবেশপথে জিজ্ঞেস করুন।
  • বানরদের খাবার দেবেন না, ময়লা ফেলবেন না।

ঘুরে দেখুন