হবিগঞ্জ, সিলেট

রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য

ত্রিপুরা সীমান্তে দেশের টিকে থাকা সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক পাহাড়ি বনগুলোর একটি — লম্বা ট্রেইল, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার আর নানা পাখি।

স্থানীয় খাবার

  • সঙ্গে নেওয়া খাবার

    রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য

    চুনারুঘাট থেকে শুকনো খাবার আর ফল নিয়ে নিন; বনের কাছে খাবারের সুযোগ খুব কম।

  • গ্রামের ভাত-তরকারি

    রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য

    কালেঙ্গা গ্রামে কখনো কখনো সাধারণ খাবারের ব্যবস্থা হয়; আগে গাইডকে বলে রাখুন।

কোথায় খাবেন

কোথায় থাকবেন

  • বনের কিনারের কটেজ

    কালেঙ্গা

    ভোরে শুরু করতে অভয়ারণ্যের কাছে সাধারণ স্থানীয় কটেজ; ব্যবস্থা বদলায়, তাই স্থানীয়ভাবে জেনে নিন।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)
  • হবিগঞ্জ শহর বা শ্রীমঙ্গল

    হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার

    বেশি বিকল্পসহ হোটেল ও রিসোর্ট, তবে পথ বেশি।

    গুগল ম্যাপসে খুলুন (নতুন ট্যাবে খুলবে)

ইতিহাস

চুনারুঘাটের পাহাড়ে, ভারতের ত্রিপুরা সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত বড় সংরক্ষিত বন রেমা-কালেঙ্গা। দেশে টিকে থাকা প্রাকৃতিক পাহাড়ি বনের সবচেয়ে বড় এলাকাগুলোর একটি এটি, ১৯৮০-এর দশক থেকে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য।

বনটি পাখির জন্য পরিচিত — কয়েক শ প্রজাতির পাখি এখানে দেখা গেছে — আর উল্লুক, মুখপোড়া হনুমান ও বানরের মতো প্রাইমেটের জন্যও। হরিণ, বুনো শূকর আর নানা সরীসৃপও আছে, যদিও বেশির ভাগ প্রাণী লাজুক — দেখার চেয়ে ডাক শোনা যায় বেশি।

সাতছড়ির চেয়ে এটি নিরিবিলি, বেশি বুনো: পর্যটক কম, ট্রেইল লম্বা, আর কালেঙ্গার কাছে বনের মাথা ছাড়িয়ে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। বনের চারপাশের গ্রামে ত্রিপুরা, সাঁওতালসহ নানা জনগোষ্ঠীর বাস।

ভ্রমণ পরিকল্পনা

রেমা-কালেঙ্গায় একদিন

১ দিন
  1. ধাপ ১: ভোরের আগে — কালেঙ্গার পথে

    চুনারুঘাট বা হবিগঞ্জ থেকে ভোরে জিপ, সিএনজি বা মোটরসাইকেলে রওনা।

  2. ধাপ ২: সকাল — পর্যবেক্ষণ টাওয়ার

    গাইডের সঙ্গে দেখা করে টাওয়ারে উঠুন — পাখি আর বনের মাথার দৃশ্য।

  3. ধাপ ৩: বেলা বাড়লে — বনের ট্রেইল

    টিলার ভেতর দিয়ে লম্বা ট্রেইলে হাঁটুন, উল্লুক, হনুমান আর ধনেশের খোঁজে।

  4. ধাপ ৪: বিকেল — চুনারুঘাটে ফেরা

    অন্ধকারের অনেক আগে বন ছেড়ে ফিরে দেরিতে দুপুরের খাবার।

ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভ্রমণের সেরা সময়

শুকনো ট্রেইল আর পাখি দেখার জন্য নভেম্বর থেকে মার্চ

কীভাবে যাবেন

হবিগঞ্জ শহর থেকে বাসে বা সিএনজিতে চুনারুঘাট (প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা), তারপর সিএনজি, জিপ বা মোটরসাইকেলে অভয়ারণ্যের কিনারে কালেঙ্গা — কিছুটা ভাঙাচোরা রাস্তায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা। বৃষ্টির পর রাস্তার অবস্থা চুনারুঘাটে জেনে নিন।

শহরে চলাচল

কালেঙ্গা থেকে বনের ট্রেইল ধরে পায়ে হেঁটে — টাওয়ার পর্যন্ত ছোট হাঁটা থেকে আধা দিনের লম্বা পথ।

ভ্রমণ টিপস

  • বন বিভাগের অফিস বা গ্রাম থেকে গাইড নিন; ট্রেইল লম্বা, সবসময় ভালোভাবে চিহ্নিতও নয়।
  • ভোরে শুরু করুন, সন্ধ্যার আগেই বন থেকে বের হওয়ার পরিকল্পনা রাখুন।
  • সীমান্ত কাছে। ট্রেইলের বাইরে যাবেন না, বিজিবি ও বন বিভাগের নির্দেশনা মেনে চলুন।
  • পানি, খাবার, টুপি আর পোকা তাড়ানোর ক্রিম নিন; ভেতরে দোকান নেই।
  • বেশি পাখি ও প্রাণী দেখতে হালকা রঙের পোশাক পরুন, চুপচাপ থাকুন।

ঘুরে দেখুন