শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে বাসে ভ্রমণ: পরিবারের জন্য দরকারি পরামর্শ
ছোট শিশু বা বয়স্ক মা-বাবাকে নিয়ে বাসে ভ্রমণে একটু বেশি পরিকল্পনা লাগে। কীভাবে সিট বাছবেন, যাত্রার সময় ঠিক করবেন, বিরতি, খাবার আর বমিভাব সামলাবেন, আর সঙ্গে কী রাখবেন জেনে নিন।
৪ মিনিটে পড়া যাবে

পরিবার নিয়ে বাসে ভ্রমণ হতে পারে ছুটির সবচেয়ে আনন্দের অংশ, আবার সবচেয়ে ক্লান্তিকরও। পার্থক্যটা সাধারণত পরিকল্পনায়। ছোট শিশু, বয়স্ক মা-বাবা বা দুজনকেই নিয়ে যাত্রা করলে বুকিংয়ের আগে নেওয়া কয়েকটা সিদ্ধান্ত পুরো যাত্রা সহজ করে দেয়। শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে বাসে ভ্রমণের এই গাইডে আছে সিট, সময়, বিরতি, খাবার, বমিভাব, চলাফেরার সুবিধা আর সঙ্গে রাখার কাগজপত্রের কথা।
লম্বা যাত্রার সাধারণ পরামর্শের জন্য দেখুন দূরপাল্লার বাসযাত্রার পরামর্শ। এই লেখায় থাকছে পরিবার নিয়ে গেলে কী কী বদলায়।
ভ্রমণের পরিকল্পনা
বাস্তবসম্মত গন্তব্য বাছুন
লম্বা যাত্রা সবচেয়ে কঠিন একেবারে ছোট আর বয়স্কদের জন্য। পরিবার নিয়ে প্রথম ভ্রমণে দেশের দীর্ঘতম রুটের চেয়ে কয়েক ঘণ্টা দূরের গন্তব্যই প্রায়ই ভালো। ঢাকার কাছেই পানাম নগর আর ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ছায়া। চট্টগ্রাম থেকে ফয়’স লেকে একটা বিকেল সহজ বেড়ানো। লম্বা ছুটির জন্য কক্সবাজারের খোলা সৈকত, পথে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, কিংবা শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান — সবই পরিবারের জন্য উপযোগী।
মৌসুম বাছুন
গরম শিশু আর বয়স্ক দুজনের জন্যই কষ্টের। বেশির ভাগ ভ্রমণের জন্য নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির ঠান্ডা মাসগুলো সবচেয়ে আরামদায়ক; বছরের বাকি সময়ের হিসাব আছে বাংলাদেশ ভ্রমণের সেরা সময় লেখায়। গ্রীষ্মে গেলে এসি বাস নিন; দেখুন এসি না নন-এসি।
সবচেয়ে ব্যস্ত দিনগুলো এড়িয়ে চলুন
ঈদ আর লম্বা ছুটির আগে টার্মিনাল ভিড়ে ঠাসা আর চাপের, বিশেষ করে হুইলচেয়ার, প্র্যাম বা ক্লান্ত শিশু নিয়ে। পারলে চূড়ান্ত ভিড়ের এক-দুই দিন আগে-পরে, বা সপ্তাহের মাঝামাঝি যান।
ঠিক সিট বুক করা
আগে বুক করুন, পাশাপাশি বসুন
তারিখ ঠিক হলেই বুক করুন, যাতে পাশাপাশি সিট বেছে নিতে পারেন। বাস খোঁজার সময় সিট প্ল্যান দেখে ছড়ানো-ছিটানো সিটের বদলে একসঙ্গে কয়েকটা সিট নিন।
কোথায় বসবেন
- বাসের মাঝামাঝি সাধারণত ঝাঁকুনি সবচেয়ে কম, যাঁদের বমিভাব হয় তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- একদম পেছনের সারি এড়িয়ে চলুন, সেখানে ঝাঁকুনি সবচেয়ে বেশি।
- আইলের পাশের সিট বয়স্কদের জন্য ভালো, যাঁদের মাঝে মাঝে উঠে দাঁড়াতে বা পা টানটান করতে হয়; জানালার পাশের সিট সেই শিশুর জন্য, যে বাইরে দেখতে ভালোবাসে, বা যিনি হেলান দিয়ে ঘুমাতে চান।
- সামনের দিকে, দরজার কাছে বসা সহজ তাঁর জন্য, চলন্ত বাসে হাঁটতে যাঁর কষ্ট হয়।
শিশুদের টিকিট
শিশুদের নিয়ম বাস কোম্পানিভেদে আলাদা: ছোট শিশুর টিকিট লাগবে কি না, কোলে নিয়ে যাওয়া যাবে কি না। পেমেন্টের আগে আপনার বাসের টিকিটের নিয়ম দেখে নিন, আর সন্দেহ থাকলে একটা সিট বুক করুন। নিজের সিট থাকলে শিশু ভালো ঘুমায়, আপনিও।
দিনের বাস না রাতের বাস?
দিনের বাস সাধারণত বয়স্কদের জন্য ভালো, যাঁরা সিটে ভালো ঘুমাতে পারেন না, নির্দিষ্ট সময়ে ওষুধ খান, বা বিরতিতে দিনের আলো চান। শিশুরাও বাইরের দৃশ্য দেখতে দেখতে ব্যস্ত থাকে।
রাতের বাস ভালো কাজে দিতে পারে সেই শিশুদের জন্য, যারা সহজে ঘুমিয়ে পড়ে, কারণ পথের অনেকটা তারা ঘুমিয়েই কাটায়। তবে ভোরে পৌঁছানো বয়স্কদের জন্য ক্লান্তিকর, তাই পৌঁছে বিশ্রামের জায়গা নিশ্চিত রাখুন।
পথে
বিরতি
দূরপাল্লার বাস পথে বিরতি দেয়। প্রতিটি বিরতি কাজে লাগান: হাঁটুন, শরীর টানটান করুন, প্রয়োজন না মনে হলেও টয়লেট সেরে নিন। বাসের ভেতরে টয়লেট থাকবে, এমন ভরসা করবেন না। সময় আর বাস কোথায় দাঁড়িয়ে আছে খেয়াল রাখুন, আর ভিড়ের মধ্যে শিশুদের কাছে রাখুন।
খাবার ও পানি
- যথেষ্ট পানি আর পরিবারের সবাই খায় এমন খাবার রাখুন: শুকনো খাবার, ফল, বিস্কুট।
- যাত্রার আগে ও পথে হালকা খান; ভারী, তেলতেলে খাবারে বমিভাব বাড়ে।
- শিশুর বিশেষ খাবার সঙ্গে নিন, গরম পানি লাগলে একটা ফ্লাস্ক।
বমিভাব
- মাঝামাঝি বা সামনের দিকে বসুন, স্ক্রিনের বদলে জানালার বাইরে তাকান।
- সম্ভব হলে একটু খোলা বাতাস রাখুন, কড়া গন্ধ এড়িয়ে চলুন।
- বমির ব্যাগ, টিস্যু, ভেজা টিস্যু আর শিশুদের জন্য এক সেট বাড়তি কাপড় রাখুন।
- চিকিৎসক বমিভাবের ওষুধের পরামর্শ দিয়ে থাকলে বাস ছাড়ার আগেই খাওয়ান।
উষ্ণ ও আরামে থাকা
এসি বাস বেশ ঠান্ডা হয়ে যায়, বিশেষ করে রাতে। বয়স্কদের জন্য শাল বা হালকা কম্বল আর শিশুদের জন্য বাড়তি একটা জামা রাখুন। নেক পিলো সবারই ঘুমাতে কাজে দেয়।
চলাফেরার সুবিধা ও বয়স্ক যাত্রী
আন্তঃজেলা কোচে প্রায়ই খাড়া সিঁড়ি থাকে, আইলও সরু। দলের কারও চলাফেরায় অসুবিধা থাকলে:
- বোর্ডিং পয়েন্টে আগে পৌঁছান, যাতে তাড়াহুড়া ছাড়াই ওঠা যায়।
- সিঁড়ি আর মালপত্রের জন্য বাসের কর্মীদের সাহায্য চান।
- দরজার কাছের সিট নিন।
- লাঠি লাগেজ বক্সে না রেখে হাতের কাছে রাখুন।
- হুইলচেয়ার বা প্র্যাম ভাঁজ করে নিন, আর লাগেজ বক্সে নেওয়া যাবে কি না বাস কোম্পানির কাছে আগেই জেনে নিন।
কাগজপত্র ও দরকারি জিনিস
- টিকিট, ফোনে সেভ করে রাখুন, বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে একবার খুলে দেখুন।
- পরিচয়পত্র বড়দের জন্য, আর দরকার হতে পারে মনে হলে শিশুর জন্মনিবন্ধন সনদ বা অন্য পরিচয়পত্র, যেমন হোটেলে।
- ওষুধ হাতের ব্যাগে, নিয়মিত ওষুধের প্রেসক্রিপশন আর কয়েক দিনের বাড়তি মজুতসহ।
- যোগাযোগের তালিকা আর বয়স্ক স্বজনের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য।
- পাওয়ার ব্যাংক, যাতে ফোন আর টিকিট কখনো চার্জের অভাবে বন্ধ না হয়।
রওনার আগে
বাসের তথ্য আর পৌঁছানোর আনুমানিক সময় বাড়ির কাউকে জানিয়ে রাখুন, আর পৌঁছানোর সময়টিকে আনুমানিক ধরেই রাখুন। সব প্রস্তুত হলে পরিবারের রুটে বাস খুঁজুন আর একসঙ্গে সিট বুক করুন।
- #family travel
- #travelling with children
- #elderly travellers
- #bus travel tips
- #accessibility