ঢাকার কাছে সাপ্তাহিক ছুটির ভ্রমণ: দিনে দিনে থেকে দুই রাতের বাসযাত্রা

শহর থেকে একটু বিরতি চাই? সোনারগাঁর পানাম নগর আর ভাওয়ালের বন থেকে শুরু করে মাওয়া, উয়ারী-বটেশ্বর, নিকলী হাওর, ময়মনসিংহ ও শ্রীমঙ্গল, ঢাকার কাছের এই ছুটির ভ্রমণগুলো সবই বাসে যাওয়া যায়; রইল সময় ও পরামর্শ।

৪ মিনিটে পড়া যাবে

ঢাকা ব্যস্ত শহর, মাঝে মাঝে একটু বেরিয়ে পড়া দরকার। ভালো খবর হলো, ঢাকার কাছে সাপ্তাহিক ছুটির সেরা কিছু ভ্রমণ বাসে মাত্র এক-দুই ঘণ্টার পথ: পুরোনো রাজধানী, শালবন, পদ্মার পাড়, মাটির নিচে চাপা পড়া প্রাচীন নগর আর বর্ষার বিস্তীর্ণ হাওর। দিনে দিনে ঘুরে আসা থেকে দুই রাতের বিরতি পর্যন্ত সবচেয়ে সহজ জায়গাগুলো রইল, যাত্রার সময়ের সৎ হিসাবসহ।

নিচের প্রতিটি ভ্রমণে একটি নিয়ম খাটে: ভোরে রওনা দিন। দিন যত গড়ায়, ঢাকা থেকে বের হওয়ার যানজটে যাত্রার সময় দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে, আর সকালে বের হলে তাড়াহুড়োর ভ্রমণও আরামের হয়ে যায়।

দিনে দিনে ঘুরে আসা: এক থেকে দুই ঘণ্টার পথ

সোনারগাঁ ও পানাম নগর

বাংলার মধ্যযুগের রাজধানী দিনভর ভ্রমণের চিরচেনা গন্তব্য। পানাম নগর উনিশ ও বিশ শতকের শুরুর বণিকদের বাড়িঘরে ঘেরা একটি সরু রাস্তা, খিলান, ঢালাই লোহার বারান্দা আর কারুকাজ করা স্তম্ভসহ; এখন এটি সংরক্ষিত ঐতিহ্য। কয়েক মিনিট দূরে সংস্কার করা প্রাসাদে, লেক আর বাগান ঘেরা সোনারগাঁ লোকশিল্প ও কারুশিল্প জাদুঘর।

কীভাবে যাবেন: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চট্টগ্রাম বা কুমিল্লাগামী বাসে মোগরাপাড়া, তারপর সিএনজি বা ব্যাটারিচালিত অটোতে সোনারগাঁ। যানজট ধরে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা হাতে রাখুন। সম্ভব হলে সপ্তাহের কর্মদিবসে যান, আর রওনার আগে বন্ধের দিন জেনে নিন। সময় থাকলে নারায়ণগঞ্জ শহরে মোগল আমলের হাজীগঞ্জ দুর্গ দেখে আসতে পারেন।

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও নুহাশ পল্লী

রাজধানী থেকে সবুজে পালানোর সবচেয়ে সহজ পথ। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান পুরোনো শালবনের একটি অংশ রক্ষা করছে, যেখানে ছায়াঘেরা হাঁটার পথ, লেক আর পিকনিকের জায়গা। ময়মনসিংহ বা শ্রীপুরগামী যেকোনো বাসকে উদ্যানের গেটে নামিয়ে দিতে বলুন।

কাছেই নুহাশ পল্লী, লেখক হুমায়ূন আহমেদের গড়া বাগানবাড়ি, যেখানে তিনি শায়িত আছেন; তাঁর অসংখ্য পাঠকের কাছে গাছ আর পুকুরে ঘেরা এক স্মৃতির জায়গা। বিস্তারিত আমাদের গাজীপুর গাইডে।

কীভাবে যাবেন: মহাখালী, গুলিস্তান ও বিমানবন্দর সড়ক থেকে বাস চলে। দূরত্ব কম, কিন্তু সময় ঠিক করে যানজট: গাজীপুর পর্যন্ত ১ থেকে ২ ঘণ্টা, তারপর উদ্যান পর্যন্ত আরও ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট।

মাওয়া ও পদ্মা

পদ্মা সেতুর উত্তর প্রান্তে মাওয়া, ইলিশ ভাজার রেস্তোরাঁ আর বিশাল নদীর খোলা দৃশ্যের জন্য বিখ্যাত। যাত্রাবাড়ী থেকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ধরে বাসে প্রায় এক ঘণ্টা। ইলিশের সেরা সময় বর্ষা। নদীর ওপারে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্ত থেকে জলের ওপর বিছানো সেতুর দৃশ্য দেখা যায়।

মাওয়ার সঙ্গে মিলিয়ে নিন পুরোনো বিক্রমপুর: মুন্সীগঞ্জ শহরে মোগল আমলের ইদ্রাকপুর দুর্গ আর রামপালে ১৪৮৩ সালে নির্মিত বাবা আদমের মসজিদ।

উয়ারী-বটেশ্বর

একটু ভিন্ন কিছুর জন্য যান নরসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বর, দুই হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো দুর্গনগরের খনন করা ধ্বংসাবশেষ, যেখানে আছে মাটির প্রাচীর, পরিখা আর ইট বিছানো রাস্তা। প্রত্যাশা ঠিক রাখুন: এটা পার্ক নয়, চলমান গ্রামের মাঝে খোলা মাঠ আর খননের গর্ত। কোনো প্রত্নবস্তু খুঁড়বেন না, তুলবেন না বা কিনবেন না।

কীভাবে যাবেন: ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ধরে বাসে নরসিংদী দেড় থেকে দুই ঘণ্টা; তারপর বেলাব বা মরজালের দিকে গিয়ে সিএনজিতে উয়ারী গ্রাম, আরও ১ থেকে দেড় ঘণ্টা। নভেম্বর থেকে মার্চ সবচেয়ে ভালো।

ঢাকার পশ্চিমে ও উত্তরে জমিদারবাড়ি

  • মানিকগঞ্জের বালিয়াটি জমিদারবাড়ি, উঁচু স্তম্ভওয়ালা উনিশ শতকের সারি সারি প্রাসাদ; সাটুরিয়ার বাস ছাড়ে গাবতলী থেকে
  • টাঙ্গাইলের কাছে আতিয়া মসজিদ, ১৬০৯ সালের মোগল আমলের মসজিদ, সমৃদ্ধ পোড়ামাটির কাজে সাজানো; টাঙ্গাইল শহর থেকে প্রায় ৩০ মিনিট, আর মহাখালী থেকে বাসে টাঙ্গাইল ২ থেকে ৩ ঘণ্টা

এক রাতের ভ্রমণ

নিকলী হাওর

মোটামুটি জুলাই থেকে অক্টোবরে কিশোরগঞ্জের নিকলী হাওর হয়ে ওঠে এক অন্তর্দেশীয় সাগর: লম্বা বাঁধের রাস্তা, দ্বীপের মতো গ্রাম আর দিগন্ত পর্যন্ত নৌকাভ্রমণ। হাওরের জীবনের সঙ্গে পরিচয়ের সহজ উপায়।

কীভাবে যাবেন: মহাখালী বা সায়েদাবাদ থেকে বাসে কিশোরগঞ্জ প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা, তারপর সিএনজি বা লোকাল বাসে নিকলী ১ থেকে দেড় ঘণ্টা। এক রাত থাকলে ভ্রমণ আরামের হয়। লাইফ জ্যাকেট ছাড়া নৌকায় উঠবেন না, ঝড়ের দিনে যাবেন না, আর অন্ধকারের আগে তীরে ফিরে আসুন।

ময়মনসিংহ

পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের তীরে সবুজ নদী-শহর ময়মনসিংহ, মহাখালী থেকে বাসে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। দেখুন জমিদার প্রাসাদ শশী লজ, নদীর পাড়ের পার্কে জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা, আর প্রায় ১৬ কিলোমিটার পশ্চিমে মুক্তাগাছা জমিদারবাড়ি, যেখানে শহরের বিখ্যাত মন্ডা চেখে দেখা চাই।

দুই রাতের ভ্রমণ

শ্রীমঙ্গল ও চা-বাগান

ঠিকঠাক বিরতির জন্য চলে যান চায়ের দেশে। ঢাকা থেকে বাসে শ্রীমঙ্গল প্রায় ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা। হেঁটে ঘুরুন শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান, চেখে দেখুন সাত রঙের চা, আর শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে কাটান একটা সকাল। বাগানগুলো চলমান কর্মক্ষেত্র: রাস্তা ও পথ ধরে হাঁটুন, পাতা ছিঁড়বেন না। সাপ্তাহিক ছুটির জন্য আগে থেকে ঘর বুক করুন।

ছুটির ভ্রমণের পরামর্শ

  • ভোরে রওনা দিন, আর শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরে ঢোকার ভিড়ের আগে ফিরে আসুন
  • পানাম নগর, ভাওয়াল ও মাওয়ায় কর্মদিবসে ভিড় অনেক কম
  • পানি, টুপি আর আরামদায়ক জুতা নিন; অনেক জায়গায় ছায়া কম
  • রওনার আগে জাদুঘর ও ঐতিহ্যের জায়গার খোলার দিন স্থানীয়ভাবে জেনে নিন
  • যেকোনো নৌকায় লাইফ জ্যাকেট পরুন আর আগেই পথ ও সময় ঠিক করে নিন
  • রাত থাকার ভ্রমণে লম্বা ছুটির জন্য বাস আর ঘর আগেভাগে বুক করুন

বাস বুক করুন

ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, শ্রীমঙ্গলসহ আরও অনেক জায়গার বাস খুঁজুন, ছাড়ার সময় মিলিয়ে অনলাইনে সিট বেছে নিন।

  • #Dhaka
  • #weekend trips
  • #day trips
  • #Sonargaon
  • #Sreemangal

ব্লগ